কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

bdnews24

মহারথীদের পতন, স্বাধীনতাবিরোধীরা ধরাশায়ী

সমকাল ডেস্ক

এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রভাবশালী প্রার্থী হেরে গেছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা। পরাজিতদের মধ্যে আছেন অনেক সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী।

সবশেষে পাওয়া খবর অনুযায়ী পরাজিতরা হলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য এম সাইফুর রহমান, বিএনপি মহাসচিব ও সাবেক চিফ হুইপ খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সাবেক মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা সভাপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এম শামসুল ইসলাম, সাবেক উপ-রাষ্ট্রপতি মওদুদ আহমদ,

জামায়াতে ইসলামীর সেত্রেক্রটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, বিএনপির সাবেক মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া (স্বতন্ত্র), সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম, স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর (স্বতন্ত্র), মহাজোট প্রার্থী সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জামায়াত নেতা আবদুস সুবহান, ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, বিএনপি নেতা মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, লে. জে. (অব) মাহবুবুর রহমান, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এহছানুল হক মিলন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটল, রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, মুফতি ফজলুল হক আমিনী, কৃষক শ্রমিক লীগের কাদের সিদ্দিকী প্রমুখ।

স্বাধীনতাবিরোধী প্রার্থীদের মধ্যে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ছাড়া অন্যরা শোচনীয়ভাবে হেরে গেছেন। তারা হলেন- মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, এটিএম আজহারুল ইসলাম, আবদুস সুবহান, আবদুল খালেক মণ্ডল, রিয়াছাত আলী বিশ্বাস, আবদুল আজিজ, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ।

সমকাল, ৩০ ডিসেম্বর, ২০০৮

Permalink

নিজামী-মুজাহিদ-সাঈদীসহ শীর্ষ জামায়াত নেতারা পরাজিত

চট্টগ্রাম-১৪, কক্সবাজার-২ আসনে জিতেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুহাজিদ নির্বাচনে হেরে গেছেন। পাবনা-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামসুল ইসলাম এক লাখ ৪৪ হাজার ৯১৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নিজামী পেয়েছেন এক লাখ ২২ হাজার ৯৪৪ ভোট। তিনি ২১ হাজার ৯৭০ ভোটে হেরেছেন। ফরিদপুর-৩ আসনে মুজাহিদ মাত্র ৩০ হাজার ৮২১ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।

দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী (পিরোজপুর-১)ও পরাজিত হয়েছেন।

গতরাতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতের হামিদুর রহমান আযাদ বিজয়ী হয়েছেন বলে বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ২২ হাজার ৫০০ ভোট বেশি পেয়েছেন। চট্টগ্রাম-১৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী শামশুল ইসলাম জিতেছেন।

আমিরের পাশাপাশি পরাজিত হয়েছেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান (শেরপুর-১) এবং সাতক্ষীরা-২ ও ৪ আসনের প্রার্থীরা। সাতক্ষীরা-৩ আসনের প্রার্থী রিয়াছাত আলীও আছেন পরাজয়ের মুখে।

ঝিনাইদহ-৩ আসনে মতিয়ার রহমান, বাগেরহাট-৩ আসনে আব্দুল ওয়াদুদ শেখ, যশোর-১ আসনে আজিজুর রহমান, খুলনা-৫ আসনে মিয়া গোলাম পরওয়ার হেরেছেন। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনেও জামায়াতের প্রার্থী হাবিবুর রহমান পরাজিত হয়েছেন।

পরাজিত হয়েছেন এটিএম আজহারুল ইসলাম (রংপুর-২), আবদুস সুবহান মিয়া (পাবনা-৫)।
স্বাধীনতার বিরোধিতা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে−জামায়াতের এমন শীর্ষ নেতাদের কেউই নির্বাচনে জয় পাওয়ার অবস্থানে আসতে পারেননি। নির্বাচনে জামায়াত ৩৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ৩৪টি আসনে তারা চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এবং ৫টি আসনে বিএনপি ও মহাজোট প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।

প্রথম আলো, ৩০ ডিসেম্বর, ২০০৮

Permalink

অধিকাংশ মন্ত্রী-ভিআইপি ধরাশায়ী

যুগান্তর রিপোর্ট :
রাজনীতির অঙ্গনের বেশকিছু চেনামুখ মন্ত্রী, ভিআইপির পতন হল এবার। নবম সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোট সরকারের অধিকাংশ সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন ভিআইপি প্রার্থী ধরাশায়ী হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে দল ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবিতে থাকা এসব জাঁদরেল নেতার অনেককে নবীনদের কাছেও হার মানতে হয়েছে।
পরাজিতদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্প ধারার চেয়ারম্যান একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, বিএনপির প্রবীণ নেতা সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমদ, বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী আবদুল মান্নান ভূঁইয়া, জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, বিএনপি মহাসচিব ও সাবেক চিফ হুইপ খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন, সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকী, স্থায়ী কমিটির অপর চার সদস্য ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী এম শামসুল ইসলাম, চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট খোন্দকার মাহবুবউদ্দিন আহমাদ, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আসম হান্নান শাহ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ একটি আসনে বিজয়ী হলেও আরেকটি আসনে তার ভরাডুবি হয়েছে।
এছাড়াও এসব সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, মেয়র ও ভিআইপির মধ্যে রয়েছেনÑ বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী তরিকুল ইসলাম, সাবেক ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ও সাবেক দফতরবিহীন মন্ত্রী হারুনার রশিদ খান মুন্নু, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের চেয়ারম্যান ও সাবেক নৌমন্ত্রী আসম আবদুর রব, জোট সরকারের সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন, ঢাকার মেয়র ও নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি সাদেক হোসেন খোকা, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও সাবেক সাংসদ মুফতি ফজলুল হক আমিনী, জামায়াত নেতা ও সাবেক সাংসদ মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহছানুল হক মিলন, সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটল, সাবেক প্রতিমন্ত্রী কবির হোসেন, এবায়দুল হক চৌধুরী ও নুরুল হুদা, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রাজশাহীর মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, সাবেক ত্রাণ উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু প্রমুখ।
সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল জানতে টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখেন সারাদেশের মানুষ। ফলাফলে বিএনপিসহ চারদলীয় জোট ও অন্যান্য দলের জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের ভরাডুবির খবরে হতচকিত হয়ে যান তারা। ফলে এ নিয়ে শুরু করেন চুলচেরা বিশ্লেষণ। কেন তাদের এ পরিণতি হল তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেন তারা। একদিকে আওয়ামী লীগসহ মহাজোটের নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বসিত হন, অন্যদিকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তবে অনেকে এ ফলাফলকে প্রত্যাশিত বলেই মন্তব্য করেছেন। বলেছেন, এটাই তাদের পাওনা। আজকে দুর্নীতিতে বাংলাদেশের নাম শীর্ষে থাকার পেছনে তাদের অনেকের মুখ্য ভূমিকা রয়েছে। আবার অনেকে ওয়ান-ইলেভেন সৃষ্টির নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছেন।
মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্প ধারার চেয়ারম্যান একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবার আওয়ামী লীগের সুকুমার রঞ্জন ঘোষের কাছে এবং ঢাকা-৬ আসনে আওয়ামী লীগের নতুন মুখ মিজানুর রহমান খান দিপুর কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন। মুন্সীগঞ্জে তার অবস্থান তৃতীয়। প্রাপ্ত ভোট ৩৪ হাজার ১৪৭। এখানে বিজয়ী সুকুমার রঞ্জন ঘোষ পেয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ১২০ ভোট। দ্বিতীয় হয়েছেন বিএনপির শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। তার প্রাপ্ত ভোট ৯৮ হাজার ৭৮১। ঢাকা-৬ আসনে বি. চৌধুরী তৃতীয় হয়েছেন। ৬৬ হাজার ৫৭৯ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন দিপু। ৪৪ হাজার ৩৪০ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন বিএনপির সাদেক হোসেন খোকা। অথচ গত নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বদরুদ্দোজা চৌধুরী ৯৪ হাজার ৪০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। অন্যদিকে সুকুমার রঞ্জন ঘোষ পেয়েছিলেন ৬৪ হাজার ৯৯৪ ভোট।
পঞ্চগড়-১ আসনে সাবেক স্পিকার জমিরউদ্দিন সরকার মহাজোট প্রার্থী মজাহারুল হক প্রধানের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন। মজাহারুল হক পেয়েছেন ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৫০ ভোট। আর জমিরউদ্দিন পেয়েছেন এক লাখ ৭ হাজার ৭২৬ হাজার ভোট। এখানে তিনি ৪৮ হাজার ৮২৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। অথচ বিগত নির্বাচনে তিনি পেয়েছিলেন ৮১ হাজার ৬৬৪ ভোট এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মোঃ নূরুল ইসলাম পেয়েছিলেন ৭০ হাজার ১৫৫ ভোট।
কুমিল্লা-১১ আসনে এবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমদকে পরাজিত করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুজিবুল হক। এ আসন থেকে বহুবারের নির্বাচিত সাংসদ কাজী জাফর গত নির্বাচনে অংশ নেননি।
বিএনপির প্রবীণ নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান এবার সিলেট-১ ও মৌলভীবাজার-৩ আসনেই ভরাডুবির পথে। সিলেট-১ আসনে এবার আওয়ামী লীগ নেতা আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে তিনি অনেক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। আবুল মাল আবদুল মুহিত ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৩৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। সাইফুর রহমান ১ লাখ ৪০ হাজার ৩৬৭ ভোট পান। মৌলভীবাজার-৩ আসনে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৮৯২ ভোট। বিজয়ী আওয়ামী লীগের সৈয়দ মহসিন আলী পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৩৩ ভোট। বিগত নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে তিনি ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩১৩ ভোট পেয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল মাল আবদুল মুহিত পেয়েছিলেন ৯৩ হাজার ২১৮ ভোট।
নোয়াখালী-৫ আসনে মহাজোট প্রার্থী আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ১১ হাজার ২০৪। অন্যদিকে ওবায়দুল কাদের পেয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ৫৭৫ ভোট। গত নির্বাচনে তিনি পেয়েছিলেন ৮৪ হাজার ৫২৪ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী ওবায়দুল কাদের পেয়েছিলেন ৪৫ হাজার ৯০৬ ভোট।
নরসিংদী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া এবার মহাজোট প্রার্থী আওয়ামী লীগের জহিরুল হক মোহনের কাছে ধরাশায়ী হলেন। মান্নান ভূঁইয়ার প্রাপ্ত ভোট ৬৬ হাজার ৯৪১ ও মোহনের প্রাপ্ত ভোট ৯৩ হাজার ৭৪৬। অবশ্য এ আসনে তার আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন একসময়ের তার শিষ্য চারদলীয় জোটের প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার। মান্নান ভূঁইয়া বিগত নির্বাচনে ৬১ হাজার ৪৫৩ ভোট পেয়েছিলেন। ওই সময় তার প্রতিদ্বন্দ্বী মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া পেয়েছিলেন ৪৪ হাজার ৯৬০ ভোট।
মানিকগঞ্জ-১ আসনে একাধিকবারের সাংসদ বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে এবার আওয়ামী লীগের এবিএম আনোয়ারুল হকের কাছে হার মানতে হচ্ছে। আনোয়ারুল হক পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪১৯ ভোট। আর দেলোয়ার পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৯৫৬ ভোট। বিগত নির্বাচনে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ৮৫ হাজার ৪৪৫ ভোট পেয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের আবদুস সালাম পেয়েছিলেন ৫৯ হাজার ৫৪১ ভোট।
জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামীকে পাবনা-১ আসনে এবার আওয়ামী লীগের শামসুল হক টুকুর কাছে হার মানতে হয়েছে। টুকু পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯২৪ ভোট। আর নিজামী পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৯৪৪ ভোট। গত নির্বাচনে মতিউর রহমান নিজামী ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯৮২ ভোট পেয়েছিলেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের আবু সাইয়িদ পেয়েছিলেন ৯৮ হাজার ১১৩ ভোট।
কুমিল্লা-১ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে আওয়ামী লীগের সুবিদ আলী ভূঁইয়ার কাছে হার মানতে হয়েছে। অথচ বিগত নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ২৮ হাজার ৬৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। ৫৪ হাজার ৬৫১ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের হাসান জামিল সাত্তার।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী এম শামসুল ইসলাম মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের এম ইদ্রিস আলীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৭৮৫ ভোট। ইদ্রিস আলী ১ লাখ ২০ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
চট্টগ্রাম-১৪ আসনে এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ জামায়াতের শামসুল ইসলামের কাছে পরাজিত হলেও চট্টগ্রাম-১৪ আসনে আফসারউদ্দিনের সঙ্গে জয়ী হয়েছেন। শামসুল পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৩৩৯ ও অলি আহমদ পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৪১২ ভোট। চট্টগ্রাম-১৩ আসনে অলি পেয়েছেন ৮২ হাজার ৩৬ ভোট। আফসারউদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন ৬১ হাজার ৬৪৬ ভোট। অথচ গত নির্বাচনে তিনি ৭০ হাজার ১৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তখন তার প্রতিদ্বন্দ্বী আফসারউদ্দিন পেয়েছিলেন ৫৭ হাজার ৭শ’ ভোট। চট্টগ্রাম-১৪ আসনেও ধরা কর্নেল অলি। এ আসনে তিনি আওয়ামী লীগের একেএম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর কাছে হেরেছেন। অবশ্য বিগত নির্বাচনেও তিনি ওই আসনে ৬৪ হাজার ১৮৪ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। ১ লাখ ৬ হাজার ৭৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরী।
ফরিদপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের খন্দকার মোশাররফ হোসেনের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন জোট সরকারের সাবেক দুই মন্ত্রী বিএনপির সহ-সভাপতি চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। এখানে মোশাররফ হোসেন ১ লাখ ২২ হাজার ৪১৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন। আর চৌধুরী কামাল ৭৫ হাজার ৩৬৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় এবং মুজাহিদ ২৫ হাজার ১১৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান লাভ করেন।
চারদলীয় জোট সরকারের ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকীর নওগাঁ-৩ আসনে মহাজোট প্রার্থী আকরাম হোসেন চৌধুরীর কাছে ভরাডুবি হয়েছে। তিনি ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৪০ ভোট পেয়েছেন। আকরাম হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ৬৭ লাখ ১৫ হাজার ৭৪০ ভোট।
যশোর-৩ আসনে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের খালেদুর রহমান টিটো। সেখানে বিএনপির তরিকুল ইসলাম ১ লাখ ২২ হাজার ৫৩৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন। বিজয়ী টিটো ১ লাখ ৬৬ হাজার ১৯২ ভোট পান।
পটুয়াখালী-১ আসনে মহাজোট প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়ার কাছে ভরাডুবি হয়েছে বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর। এখানে শাহজাহান মিয়া পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ১৩২ ভোট। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ পেয়েছেন ৭৩ হাজার ১৭ ভোট।
ঢাকার মেয়র ও বিএনপির সাবেক নগর সভাপতি সাদেক হোসেন খোকা ঢাকা-৬ আসনে এবার আওয়ামী লীগের তরুণ নেতা মিজানুর রহমান খানের কাছে পরাজিত হলেন। বিগত নির্বাচনে খোকা ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৮৬ পেয়ে জয়ী হন। ৯৮ হাজার ২২৯ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছিলেন মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।
ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান সাবেক সাংসদ মুফতি ফজলুল হক আমিনী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মহাজোট প্রার্থী জাতীয় পার্টির জিয়াউল হক মৃধার সঙ্গে ধরাশায়ী হয়েছেন। মৃধা পেয়েছেন ৫২ হাজার ৫৬৫ ভোট। আমিনী পেয়েছেন ২২ হাজার ২৪৪ ভোট।

যুগান্তর, ৩০ ডিসেম্বর, ২০০৮

Permalink

সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম এর দেয়া ৫০ যুদ্ধাপরাধীর তালিকা

সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম এর দেয়া ৫০ যুদ্ধাপরাধীর তালিকা

১. গোলাম আজম
২. মওলানা এ কে এম ইউসুফ
৩. মতিউর রহমান নিজামী
৪. দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী
৫. মো: কামরুজ্জামান
৬. মওলানা আব্দুর রহিম
৭. আব্বাস আলী খান
৮. আলী আহসান মোহাম্মদ মোজাহিদ
৯. আব্দুল কাদের মোল্লা
১০. মোহাম্মদ হামিদুল হক চৌধুরী
১১. খাজা খায়রুদ্দিন
১২. মোহাম্মদ আলী
১৩. মোহাম্মদ আব্দুল আলীম
১৪. এএমএস সোলায়মান
১৫. সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী
১৬. ফজলুল কাদের চৌধুরী
১৭. জুলমত আলী খান
১৮. কাজী কাদের
১৯. খান আব্দুস সবুর খান
২০. মওলানা ফরিদ আহমেদ
২১. শাহ্ মোহাম্মদ আজিজুর রহমান
২২. মাওলানা আব্দুল মান্নান
২৩. ডা: আবু মোতালেব মালেক
২৪. মোহাম্মদ ইউনুস
২৫. এবিএম খালেক মজুমদার
২৬. এএন এম ইউসুফ
২৭. নুরুল আমিন
২৮. এ কিউ এম শফিউল ইসলাম
২৯. আবদুল মতিন
৩০. এড. মোহাম্মদ আইনুদ্দিন
৩১. মাওলানা নুরুজ্জামান (আইআরপি)
৩২. মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক
৩৩. গোলাম সরোয়ার
৩৪. মোহাম্মদ আকতার উদ্দিন আহমেদ
৩৫. মাওলানা আবদুস সোবাহান
৩৬. ক্যাপ্টেন (অব: ) আব্দুল বাছেদ
৩৭. আবদুল মতিন ভূঁইয়া
৩৮. মোহাম্মদ আবুল কাশেম
৩৯. ওবায়দুল্লাহ মজুমদার
৪০. মীর কাশেম আলী
৪১. ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বার
৪২. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
৪৩. মোহাম্মদ আবদুল হান্নান
৪৪. ব্যারিস্টার কোরবান আলী
৪৫. আশরাফ হোসাইন
৪৬. এড. আনসার আলী
৪৭. মোহাম্মদ কায়সার
৪৮. আবদুল মজিদ তালুকদা
৪৯. নওয়াজেস আহমেদ
৫০. একে মোশাররফ হোসেন।

Permalink

খুলনায় তিন রাজনৈতিক দলের ঠিকানায় স্কুল, বীমা ও শিপিং কার্যালয়

সামছুজ্জামান শাহীন, খুলনা
নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের আবেদনে ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টির (এনপিপি) খুলনা জেলা ও মহানগর কমিটির ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে "৭২/১ মিউনিসিপ্যাল ট্যাংক রোড, খুলনা"। কিন্তু ওই ঠিকানায় পাওয়া গেল একটি দ্বিতল বাড়ি। নিচতলায় চলছে "মডার্ন কিন্ডারগার্টেন" নামের একটি বিদ্যালয়। আর ওপরের তলায় বসবাস করছেন বাড়ির মালিক শাজাহান শেখ।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই ঠিকানায় খোঁজ নিতে গেলে শাজাহান শেখ সাংবাদিককের সঙ্গে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। তবে তাঁর ছোট ভাই জাহাঙ্গীর জানান, শাজাহানের ভায়রা জাকির হোসেন এনপিপির খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি। তিনি ঢাকার ধোলাইখালে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।
মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে জাকির হোসেন বলেন, "ভায়রার বাড়ি থেকে দলের কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। তাই সেই ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে। খুলনা পৌর সুপার মার্কেটে দলের কার্যক্রম চালাতে ভবন ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। দু- এক দিনের মধ্যে সেখানে কার্যালয় স্থানান্তর করা হবে। সাইনবোর্ডও বানাতে দেওয়া হয়েছে।"
কল্যাণ পার্টি এবং সামাজিক রাজনৈতিক আন্দোলন নামের দুই দলের থানা ও উপজেলা কার্যালয়ের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।

খুলনা সদর থানা নির্বাচন কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান বলেন, কল্যাণ পার্টির মহানগর ও জেলা কমিটির কার্যালয়ের ঠিকানায় পাওয়া গেছে জীবন বীমা করপোরেশনের কার্যালয়সহ কয়েকটি শিপিং অফিস। সামাজিক রাজনৈতিক আন্দোলনের খুলনা সদর ও সোনাডাঙ্গা থানার ঠিকানায় কোনো কার্যালয় পাওয়া যায়নি।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, সামাজিক রাজনৈতিক আন্দোলনের খুলনা মহানগর এবং জেলায় নয়টি কমিটি ও কার্যালয় আছে বলে নিবন্ধনের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু মহানগরের বয়রা কলেজ রোডে মহানগর ও জেলা কমিটির কার্যালয়টির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ফুলতলা উপজেলা কার্যালয়ের ঠিকানায় পাওয়া গেছে চাল ও তরিতরকারির বাজার। বাকি আটটি কার্যালয়ের অনুসন্ধান চলছে।
প্রথম আলোর অনুসন্ধানে সামাজিক রাজনৈতিক আন্দোলনের আটটি থানা ও উপজেলা কমিটির কার্যালয়ের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। দলের সদর ও সোনাডাঙ্গা থানা কমিটির কার্যালয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে "৮১ গোবরচাকা, মেইন রোড"। কিন্তু সেখানে কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ছিল না বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।
দলটির খালিশপুর থানা কমিটির কার্যালয়ের ঠিকানা দেওয়া হয়েছে "মুজগুন্নী মেইন রোড"। ওই রোডের বাসিন্দা ব্যবসায়ী সরদার আজিজুর রহমান ও শেখ মারুফুল হক বলেন, এই সড়কের দুই পাশে আবাসিক এলাকা। এর মধ্যে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় নেই। দৌলতপুর থানা কমিটির ঠিকানায় কার্যালয় দেখানো হয়েছে আড়ংঘাটা ইউনিয়ন। কিন্তু সেখানে গিয়ে পাওয়া যায় একটি ছোট বাজার।
একইভাবে ডুমুরিয়া, রূপসা ও তেরখাদা উপজেলা কমিটির কার্যালয়ের কোনো অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সামাজিক রাজনৈতিক দলের জেলা কমিটির সমন্বয়ক কামরুল আলম মিন্টুর নিজস্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অফিস ভবনের নিচতলায় চালানো হচ্ছে দলের খুলনা মহানগর ও জেলা কমিটির কার্যক্রম।
মিন্টু প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, মহানগর ও জেলা কমিটির বাইরে তাঁদের আটটি থানা ও উপজেলা কমিটির কার্যালয় আছে। কিন্তু সাইনবোর্ড লাগানো হয়নি। তিনি বলেন, থানা ও উপজেলা কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা কার্যালয় নিয়েছেন।
সদর ও সোনাডাঙ্গা থানা কমিটির কার্যালয় খুঁজে না পাওয়ার বিষয়ে মিন্টু বলেন, আসলে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত এস এম এ রবের বড় ছেলে এস এম আরিফুর রহমান মিঠুর অফিস থেকেই ওই দুই কমিটির কর্মকান্ড পরিচালনা করা হয়। কিন্তু গতকাল দুপুরে মিঠু প্রথম আলোকে বলেন, "আমার অফিস থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মকান্ড পরিচালনা করা হয় না।"
একই দলের মহানগর কমিটির সমন্বয়ক শফিউল আলম কিসলু বলেন, নতুন দল তো, তাই সবগুলোর কার্যালয় এখনো নেওয়া হয়নি, চেষ্টা চলছে।
প্রথম আলো, ৩১ অক্টোবর, ২০০৮

Permalink

আট ব্র্যান্ডের গুঁড়া দুধ বিক্রি বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ

হাইকোর্ট পরীক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো ৮ ব্র্যান্ডের গুঁড়া দুধ সম্পর্কে প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত তা প্রদর্শন ও বিক্রি বন্ধ করতে যাবতীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মেলামাইনযুক্ত গুঁড়া দুধ বাজারজাতকরণ, প্রদর্শন ও বিক্রি বন্ধ করতে সরকারের নিষ্কিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং কেন মানুষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে না- চার সপ্তহের মধ্যে তার কারণ দর্শাতেও সরকারের প্রতি রুল জারি করেছেন আদালত।

হাইকোর্ট যে ৮ ব্র্যান্ডের গুঁড়া দুধ প্রদর্শন ও বিক্রি বন্ধ করতে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন সেগুলো হলো ডিপ্লোমা, রেডকাউ, ডানো, ইয়াশলি-১, ইয়াশলি-২, সুইট বেবি, নিডো ফর্টিফায়েড এবং এনলিন।

বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব হোসেন ও বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার জনস্বার্থে এক রিট আবেদন গ্রহণ করে এ রুল জারি করেন। মেলামাইনযুক্ত গুঁড়া দুধ বিক্রি বন্ধ করতে রিট মামলাটি দায়ের করেন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান সিদ্দিকী, ব্যারিস্টার মোকছেদুল ইসলাম, সারওয়ার আহাদ চৌধুরী, ফরহাদ আহাম্মদ, তপনকান্তি দাস, এখলাছ উদ্দিন ভুইয়া, মামুন আলিম এবং স্বপন কুমার সাহা।

রিট আবেদনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষায় যে ৮ ব্র্যান্ডের গুঁড়া দুধে মেলামাইনের অস্থিত্ব পাওয়া গেছে তা নিয়ে বিতর্কের অবসান না হওয়া পর্যন্ত জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সেগুলো প্রদর্শন ও বিক্রি বন্ধ রাখা জরুরি বলে দাবি করা হয়। মেলামাইনযুক্ত গুঁড়া দুধ পান করে চীনে শিশুমৃত্যুর ঘটনার পর সরকার সক্রিয় ভূমিকা না রাখায় রিট আবেদনের শুনানিতে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। আবেদনটির শুনানি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।
সমকাল, ২৪ অক্টোবর, ২০০৮

Permalink

জামায়াতের গঠনতন্ত্র এখনো সংবিধান পরিপন্থী

জামায়াতের গঠনতন্ত্র এখনো সংবিধান পরিপন্থী
সহযোগী সংগঠন নিয়ে আ’লীগের মতো সমস্যা বিএনপিতেও
হারুন আল রশীদ

সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গঠনতন্ত্র সংশোধনের কথা বলা হলেও জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র এখনো সংবিধান পরিপন্থীই রয়ে গেছে। নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে জামায়াত সংশোধিত গঠনতন্ত্রের যে খসড়া নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দিয়েছে, তাতে সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইন ও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাকে অবজ্ঞা করা হয়েছে, যা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এসব ধারাকে সংবিধানের উপযোগী করে তোলার জন্য জামায়াতকে অনুরোধ জানাবে ইসির গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা কমিটি।

সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্রও নিবন্ধন আইনের শর্তবিরোধী। আওয়ামী লীগের মতো তারাও গঠনন্ত্রে সহযোগী সংগঠন রাখার বিধান রেখেছে। গঠনতন্ত্রের এ বিধানটি সংশোধন করে দেওয়ার জন্য ইসির গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা কমিটি বিএনপির সঙ্গে বৈঠক করবে। মঙ্গলবার ফরম জমা দেওয়ার শেষ দিনে জামায়াত ও বিএনপি নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে। গতকাল ইসির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ওইদিনই রাতের বেলায় গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা কমিটির সদস্যরা দুটি দলের গঠনতন্ত্রের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো পড়ে দেখেন। এ থেকে তাদের মনে হয়েছে, জামায়াত ও বিএনপি নিবন্ধন আইনের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

গণপ্রতিনিধিন্ত্র আদেশের ৯০-সি (১/এ) ধারায় রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের শর্তে বলা হয়েছে, দলীয় গঠনতন্ত্রের উদ্দেশ্যসমহৃহ সংবিধানের পরিপন্থী হতে পারবে না।
৯০-সি (১/বি) ধারার বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্রে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও লিঙ্গ ভেদে কোনো বৈষম্য থাকতে পারবে না।
জামায়াত ইসির সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে এ দুটি ধারাই গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ থেকে বাতিল করার দাবি জানায়। একই সঙ্গে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট আবেদনে তারা ৯০-সি (১/বি) ধারাটি বাতিলের দাবি জানায়।
জামায়াতের সংশোধিত গঠনতন্ত্রের ২ ধারার ৫ উপ-ধারায় বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ ব্যতীত অপর কাহাকেও বাদশাহ, রাজাধিরাজ ও সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক মানিয়া লইবে না, কাহাকেও নিজস্বভাবে আদেশ ও নিষেধ করিবার অধিকারী মনে করিবে না, কাহাকেও স্বয়ংসম্পূর্ণ বিধানদাতা ও আইন প্রণেতা মানিয়া লইবে না এবং আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁহার দেওয়া আইন পালনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত নয় এমন সকল আনুগত্য মানিয়া লইতে অস্বীকার করিবে। কেননা সমগ্র রাজ্যের নিরঙ্কুশ মালিকানা ও সৃষ্টিলোকের সার্বভৌমত্বের অধিকারী আল্লাহ ব্যতীত অপর কাহারো আসলেই নেই।’

ইসির পর্যালোচনা কমিটির মতে, এ ধারার মাধ্যমে জনগণের রায়ে নির্বাচিত সংসদের আইন প্রণয়নের ক্ষমতাকে অবজ্ঞা করা হয়েছে।
গঠনতন্ত্রের ৫ ধারার ৩ উপধারায় জামায়াতের দাওয়াত সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশে ইসলামের সুবিচারপূর্ণ শাসন কায়েম করিয়া সমাজ হইতে সকল প্রকার জুলুম, শোষণ, দুর্নীতি ও অবিচারের অবসান ঘটানোর আহ্বান।’

ইসির পর্যালোচনা কমিটির মতে, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী দেশ গণতান্ত্রিক রীতিতে পরিচালিত হবে। এখানে ইসলামের সুবিচারপূর্ণ শাসনব্যবস্থা কায়েমের কোনো সুযোগ নেই।
এছাড়াও গঠনতন্ত্রের ৩ ধারার ১ উপ-ধারায় জামায়াতের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘ইসলামী মূল্যবোধের উজ্জীবন ও জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বকে সর্বপ্রকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক হুমকি এবং বিশৃঙ্খলা হইতে রক্ষা করিবার প্রচেষ্টা চালানো।’

এ ধারার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘সার্বভৌম শব্দটি ভৌগোলিক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। ইসলামে আইনগত সার্বভৌমত্বের অধিকারী একমাত্র আল্লাহ।’
৬ ধারার ৪ উপ-ধারায় জামায়াতের কর্মসূচি সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘ইসলামের পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠাকল্পে গোটা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাঞ্ছিত সংশোধন আনয়নের উদ্দেশ্যে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় সরকার পরিবর্তন এবং সমাজের সর্বস্তরে সৎ ও খোদাভীরু নেতৃত্ব কায়েমের চেষ্টা করা।’

পর্যালোচনা কমিটির মতে, এ দুটি ধারাও বাংলাদেশের সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থী।
সূত্র জানিয়েছে, এ ধারাগুলো ছাড়াও জামায়াতের গঠনতন্ত্রে আরো একাধিক ধারা রয়েছে, যা নিবন্ধন আইনের বিভিন্ন শর্তের পরিপন্থী।

জামায়াত ছাড়াও বিএনপি সংশোধিত গঠনতন্ত্রও নিবন্ধনের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০-বি/বি/৩ ধারা মোতাবেক ছাত্র, শিক্ষক ও শ্রমিকদের সমন্বয়ে রাজনৈতিক দলের কোনো ধরনের অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন না করার বিধান দলের গঠনতন্ত্রে থাকতে হবে। কিন্তু বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্রে বলা হয়েছে, ছাত্র-শিক্ষক-শ্রমিকদের নিয়ে কোনো অঙ্গসংগঠন থাকবে না। তবে ছাত্র-শিক্ষক-শ্রমিকসহ অন্যান্য পেশাজীবী, যারা বিএনপির আদর্শে বিশ্বাসী, তারা নিজ নিজ গঠনতন্ত্র দ্বারা পরিচালিত হয়ে সংগঠন করতে পারবে। এসব সংগঠন বিএনপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে বিবেচিত হবে।

ইসির পর্যালোচনা কমিটির মতে, এ ধারা নিবন্ধন শর্তের পরিপন্থী। বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হবে বলে ইসি সহৃত্র জানিয়েছে। একই কারণে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ইসির পর্যালোচনা কমিটি আজ আরেকদফা বসতে পারে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ব্যাংক স্টেটমেন্টের মূলকপিও আজ ইসির কাছে জমা দেওয়া হবে।
সমকাল, ২২ অক্টোবর, ২০০৮

Permalink

উগ্রবাদীদের প্রতিবাদে অপসারিত হলো লালনের ভাস্কর্য

সমকাল প্রতিবেদক

উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রতিবাদের মুখে অবশেষে অপসারণ করা হলো জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের গোল চত্বরে নির্মাণাধীন ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’ শীর্ষক লালন শাহর ভাস্কর্যটি। মূলত বাঙালির লোকসংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়েছিল এ স্থাপত্যটিতে। কয়েকদিন ধরে তারা ভাস্কর্যটিকে অপসারণের জন্য আন্দোলন করে আসছিল। আন্দোলন চলছিল খতমে নবুওয়াত আন্দোলনের নেতৃত্বে।

বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মোঃ সিরাজুল ইসলাম সমকালকে জানান, ভাস্কর্যটি অপসারণ করা হচ্ছে। বুধবার দুপুর থেকে অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ প্রায় ৭০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছিল।

তবে মৌলবাদীদের দাবির মুখেই তা অপসারণ করা হচ্ছে- এ রকমটি স্বীকার করেননি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড প্ল্যান) গ্রুপ ক্যাপ্টেন নাইম হাসান। তিনি বলেন, মূলত নকশা পছন্দ না হওয়ায় তা অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আরো নকশা পছন্দ করা আছে, প্রয়োজনে সেগুলো ব্যবহার করা হতে পারে।

পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, কয়েকদিন ধরে মৌলবাদীরা নির্মাণাধীন ভাস্কর্যটির পেছনে লাগে। আন্দোলনকারী মৌলবাদীরা দলবেঁধে সেখানে হাজির হয়ে শ্রমিকদের কাজও বন্ধ করতে বলে। গতকালও কয়েকজন সেখানে গিয়ে ভাস্কর্যটি টেনে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করে। এছাড়া তারা নুর হোসেন নুরানীর নেতৃত্বে মূর্তি প্রতিরোধ নামে একটি কমিটিও গঠন করে। কয়েকদিন আগে ইসলামী ঐক্যজোটসহ বেশ কয়েকটি মৌলবাদী রাজনৈতিক দল এ ব্যাপারে একটি বিবৃতি দেয়।

বিমানবন্দর সড়ক থেকে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশের মুখে গোল চত্বরে ৪৫ ফুট উঁচু নির্মাণাধীন ভাস্কর্যটির শিল্পী মৃণাল হক। ৩ মাস আগে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার পর শিল্পী বাড়িতে বসে কাঠামো তৈরির কাজ শেষ করেন। ঈদের ৪ দিন আগে তা গোল চত্বরে বসানো হয়। এখন এতে ঘষামাজার কাজ চলছিল। লালন ছাড়াও সেখানে একতারা এবং আরো ৪ বাউলশিল্পীর মুখায়ব স্থাপন করা হয়েছিল। ভাস্কর্যটিতে শিল্পী লালন শাহের প্রতিকৃতি ও একতারা ছাড়া লোক সংস্কৃতির বিভিন্ন চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়। কিন্তু মৌলবাদীরা ভাস্কর্যটিকে মূর্তি আখ্যা দিয়ে তা অপসারণের দাবি তোলে। তাদের যুক্তি, হজক্যাম্পের পাশে ওই ধরনের মুখায়বসম্পন্ন ভাস্কর্যের কারণে সেখানে আসা হাজিদের সমস্যায় পড়তে হবে। এখানে মিনার স্থাপন করতে হবে।

সমকাল, ১৬ অক্টোবর, ২০০৮

Permalink

হুজি এবার ‘আইডিপি’ নামে প্রকাশ্য রাজনীতিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
‘ইসলামী ডেমোক্রেটিক পার্টি−আইডিপি’ নামে প্রকাশ্য রাজনীতি শুরু করল হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী−হুজি। গতকাল শুক্রবার রাজধানীতে ইফতার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ করল সাবেক আফগান মুজাহিদদের এই সংগঠন আইডিপি।
অবশ্য সংগঠনের আহ্বায়ক মাওলানা শেখ আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেছেন, “তাঁদের সংগঠন এ দেশে ১৯৯২ সালেই আত্মপ্রকাশ করে হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ নামে। এরপর ১৯৯৮ সালে তা বিলুপ্তি ঘোষণার পর ‘ইসলামী গণ-আন্দোলন’ নামে সংগঠন করেছিলাম। সেই সংগঠন থেকে এখন আইডিপি নামে কাজ করছি।”
গতকাল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মাওলানা শেখ আবদুস সালামের সভাপতিত্বে আইডিপির ইফতার ও আলোচনা সভায় সংগঠনের নেতারা ছাড়াও সংগঠনের ভাষায় ‘আন্তসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি উন্নয়নের স্বার্থে আমন্ত্রিত’ ইংরেজি সাপ্তাহিক ব্লিৎজ-এর সম্পাদক সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী, দৈনিক আমার দেশ-এর সহকারী সম্পাদক ও হিউম্যান রাইটস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব চৌধুরী, বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের পি কে বড়ুয়া, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি চিত্ত ফ্রান্সিস রিভেরু বক্তব্য দেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী বলেন, আইডিপির আত্মপ্রকাশের মধ্য দিয়ে দেশে নতুন রাজনীতির জন্ন হলো। তিনি বলেন, আইডিপির সঙ্গে হরকাতুল জিহাদের নাম জড়িত। এটা এমন একটি সংগঠন, যার সম্পর্কে নানা আলোচনা রয়েছে। আইডিপিকে যারা সন্ত্রাসী সংগঠন বলে, ওই সব পত্রিকা বিদেশের টাকায় চলে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ এবং বালিতে বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত সত্ত্বেও হিযবুত তাহ্রীরের মতো সংগঠন যদি এ দেশে প্রকাশ্যে রাজনীতি করতে পারে, তাহলে আইডিপি কেন পারবে না। যারা বাংলাদেশকে করদ রাজ্য বানাতে চায়, তারা আইডিপিকে হুমকি মনে করে।
সঞ্জীব চৌধুরী বলেন, ‘আফগানফেরত মুক্তিযোদ্ধাদের মূলধারার সদস্যরা আইডিপি গঠন করেছে। পরিচয়সুত্রে আমি এদের সঙ্গে অনেক কাজ একত্রে করেছি। এ নিয়ে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি। আমরা এই অনুষ্ঠান আরও আগে করতাম, কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্টদের অনুমতি পেতে দেরি হয়েছে। তাতে একদিকে ভালোই হলো। আজ পবিত্র জুমাতুল বিদার দিন আইডিপির প্রথম প্রকাশ্য মাহফিল হচ্ছে।’
আইডিপির উপদেষ্টা ও খেলাফত আন্দোলনের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক কাজী আজীজুল হক বলেন, তথ্য ও যোগাযোগের ঘাটতির কারণে আইডিপি সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। হরকাতুল জিহাদ বিলুপ্ত করার পর প্রথমে ইসলামী দাওয়াতি কাফেলা, তারপর ইসলামী গণ-আন্দোলন এবং এখন আইডিপি নামে সংগঠন হয়েছে। সবার সঙ্গে আলোচনা করেই এটা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন আইডিপির সদস্যসচিব মাওলানা রুহুল আমিন, তিন যুগ্ম আহ্বায়ক কারি হোসাইন আহমদ, মাওলানা আবুল কাশেম রহমানী ও মাওলানা মাহবুবুর রহমান এবং মাওলানা মুফতি কামাল, মাওলানা মীর ইদ্রিস, মুফতি ফজলে এলাহি, মাওলানা মুফতি নোমান, খেলাফত মজলিসের (ইসহাক) নায়েবে আমির এমদাদুল হক আড়াইহাজারী, খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির ছফর উল্লাহ খান, জৈনপুরী পীর মাওলানা এহছানুল্লাহ আব্বাসী প্রমুখ। এ ছাড়া মরহুম হাফেজ্জী হুজুরের মেজ ছেলে হাফেজ মাওলানা হামিদুল্লাহ ও মাওলানা আতাউল্লাহ উপস্িথত ছিলেন। ইফতার অনুষ্ঠানে সংগঠনের সহস্রাধিক নেতা-কর্মী উপস্িথত ছিল।
সমাপনী বক্তৃতায় মাওলানা আবদুস সালাম নিজেদের আন্তর্জাতিক মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে বলেন, তাঁরা মদিনা সনদের আলোকে একটি অসাম্প্রদায়িক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চান।
আশির দশকে আফগানিস্তানে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদ কমান্ডার আবদুস সালাম এর আগে গত ১৭ জুলাই প্রথম আলোকে বলেন, সংগঠনের মজলিশে শুরার সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁকে আহ্বায়ক করে গত ১৮ মে আইডিপির ১৫ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাপসহ নানা কারণে সংগঠনটি বিভিন্ন সময় নাম পাল্টালেও এর নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কাঠামো, মজলিশে শুুরা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ-প্রক্রিয়া প্রায় একই ছিল। ২০০৬ সালের আগস্ট মাসে প্রথম গোপন এই সংগঠনটি ইসলামী গণ-আন্দোলন নামে প্রকাশ্য রাজনীতিতে আসার চেষ্টা করে। এই লক্ষ্যে ওই বছরের ১৮ আগস্ট জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সচেতন ইসলামী জনতার ব্যানারে বড় একটি সমাবেশ করেছিল। তখন সচেতন ইসলামী জনতার আহ্বায়ক হিসেবে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হাফেজ মাওলানা আবু তাহের। এই তাহের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি। বর্তমানে তিনি কারাগারে। আবু তাহের হুজির ঢাকা মহানগর সভাপতি ও মজলিশে শুরার সদস্য ছিলেন।
বিভিন্ন নাশকতামূলক ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার ২০০৫ সালের ১৭ অক্টোবর হুজিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ২০০২ সালের ২১ মে বাংলাদেশের হরকাতুল জিহাদকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। গত ৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিৎসা রাইস এক নির্বাহী আদেশে বাংলাদেশের হুজিকে একটি ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ এবং একটি ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে ঘোষণা দেন।
গতকাল ইফতার অনুষ্ঠানে প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে মাওলানা সালাম বলেন, ‘কয়েকটি কারণে আমরা হরকাতুল জিহাদ বিলুপ্ত করি। এর মধ্যে মূলত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছু কারণ ছিল। আপনারা জানেন, আমরা যারা হরকাতুল জিহাদ করি, সবাই আফগান মুজাহিদ ছিলাম। সেখানে মুজাহিদদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হলে তার প্রভাব আমাদের এখানেও পড়ে। তা ছাড়া যে জিহাদি জজবা নিয়ে, আফগানিস্তানে আমরা গিয়েছিলাম, বিশেষ করে সোভিয়েত দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মুসলমানদের সাহায্য করা ও মানবিকতা পুনরুদ্ধারের জন্য, সেই কাজ হয়ে গেছে। এখন আর সেই নামটি (হরকাতুল জিহাদ) ধরে রাখার কোনো কারণ নেই।’
হুজির সঙ্গে জড়িত মুফতি হান্নানসহ অনেকের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ আছে−এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১৯৯৮ সালেই মুফতি হান্নানকে আমরা দল থেকে বহিষ্ককার করি। বহিষ্ককারের পর কেউ যদি ওই নামে নাশকতা করে থাকে, তার দায়দায়িত্ব তাদেরই। আমাদের ওপর বর্তায় না। তবে সরকারকে ধন্যবাদ, তাদের ধরেছে। এখন তাদের বিচার চলছে।’

প্রথম আলো, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০০৮

Permalink

খালেদা মুক্ত

চোরের মা মুক্তি পেয়েছে। আর কি? বাকী চোরগুলাকেও মুক্ত করা হোক। বর্তমান গণতান্ত্রিক, দুর্নীতিবিরোধী সরকারের কাছে এটাই প্রত্যাশা। বড় চোর অপরাধ করে পার পেয়ে যায়, আর ছোট চোরেরা জেলে আটকা থাকে। এই জন্যই কি আলেকজান্ডার বলেছিলেন:- "সত্যি সেলুকাস, কি বিচিত্র এই দেশ"

ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)--জামিনে মুক্ত চিকিৎসাধীন ছেলে তারেক রহমানকে দেখতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে গেছেন সদ্য কারামুক্ত খালেদা জিয়া। দুপুর দেড়টার দিকে তিনি ডি ব্লকে
প্রবেশ করেন। ডি ব্লকের চারতলার একটি কেবিনে তারেক রহমান রয়েছেন।

এর আগে এক বছর ৭ দিন আটক থাকার পর সংসদ ভবনের বিশেষ কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ১১ টা ৩৫ এর দিকে কারাগারের বাইরে আসেন তিনি। মুক্তি পেয়েই প্রয়াত স্বামী জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করেন তিনি। জানাচ্ছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এর সুমন মাহমুদ, লিটন হায়দার, প্রদীপ চৌধুরী ও গোলাম মোর্তজা অন্তু। সর্বশেষ খবর জানার জন্য জিপি,একটেল ও বাংলা লিংক থেকে ২৩২৪ এ ফোন করুন।

মুক্তি পেয়েই একটি নিশান প্যাট্রোল জিপে করে জিয়ার
মাজারে যান খালেদা। দুপুর ১২টা ২৮ মিনিটে ফুল দিয়ে মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। এরপর তিনি মাজার জিয়ারত করেন।

এসময় তার সঙ্গে আরো ছিলেন দলের মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন , অধ্যাপিকা সারোয়ারি রহমান, এম কে আনোয়ার, নুরুল হুদা, সেলিমা রহমান, ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দীকী ও রিজভী আহমেদসহ কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সাংসদরা। এসময় খালেদা জিয়ার পরনে ছিল সুতার কাজ করা সাদা সুতির শাড়ি ও খয়েরি রংয়ের সানগ্লাস। ১২টা ৪০মিনিটে বড় ছেলে তারেককে দেখতে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালের উদ্দেশে রওয়ানা হন খালেদা।

খালেদা জিয়ার গাড়ি ঘিরে ছিল অসংখ্য উৎফুল্ল নেতাকর্মীর ভিড়। তারা ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে ও স্লোগান দিয়ে নেত্রীকে স্বাগত জানায়।

দুপুর ১২টার দিকে খালেদা জিয়া স্বামীর মাজারে প্রবেশ করেন এবং মাজার জিয়ারত করেন। এর পর তিনি মাজারে ফুল দেন। এসময় বিএনপি মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, হান্নান শাহ ও গয়েশ্বর রায়সহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে কারা উপ মহাপরিদর্শক মেজর শামসুল হায়দার ছিদ্দিকী বৃহস্পতিবার সকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, " আমি আশা করছি সকাল সাড়ে এগারোটার মধ্যে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন। জামিন সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা শেষ হয়েছে।"

খালেদা জিয়া তখন বিশেষ কারাগার থেকে বের হয়ে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানান কারা উপ মহাপরিদর্শক।

হাইকোর্ট গত মঙ্গলবার নাইকো ও গ্যাটকো
দুর্নীতি মামলায় তিন মাসের জামিন দিলে বিএনপি সভানেত্রীর মুক্তির পথ পরিষ্কার হয়।

এক বছর ৭ দিন কারাবাসের পর খালেদা জিয়া মুক্তি পেলেন।

সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান এবং মেয়ে জাইমা রহমান ফুল নিয়ে বিশেষ কারাগারের ভিতরে প্রবেশ করেন।

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার
আখতার হামিদ ও কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকির হাসান বেলা ১১টার দিকে বিশেষ কারাগারে যান।

বিশেষ কারাগার ও জিয়ার মাজারের সামনে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের প্রচুর নেতাকর্মী সকাল থেকেই ভিড় জমান। ছাত্রদল ও যুবদলের অনেক সাবেক নেতা মোটর সাইকেল শোভাযাত্রার আয়োজন করেন।

খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়ে প্রথমেই জিয়ার মাজারে যাবেন এ খবর পেয়ে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী মাজারে সমবেত হন।
মাজার এলাকায় র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়েনসহ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এদিকে খালেদার আসন্ন মুক্তির খবরে সংসদ ভবনের পেছনের রাস্তায় (লেক সড়ক) বিএনপির নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল করেন। এসময় রাস্তায় সর্বসাধারণের চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

এর আগে বিএনপির দপ্তর সম্পাদক রিজভী আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, " খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়ে প্রথমেই জিয়ার মাজারে যাবেন। এর পর পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বড় ছেলে তারেক রহমানকে দেখতে যাবেন। এছাড়া বিএনপি অফিসেও তার যাওয়ার কথা রয়েছে।"

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে গত বছরের ৩রা সেপ্টেম্বর গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর খালেদার বিরুদ্ধে আরো তিনটি দুর্নীতি মামলা দায়ের করা হয়। সবগুলো মামলাতেই তিনি পর্যায়ক্রমে জামিন পান।

বুধবার রাতে খালেদার জামিনের কাগজপত্র কারা কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছায়। সে সময় উপ কারা মহাপরিদর্শক মেজর শামসুল হায়দার ছিদ্দিকী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বৃহস্পতিবার যে কোনো সময় খালেদা মুক্তি পেতে পারেন।

খালেদার ছোট ছেলে কোকো এবং বড় ছেলে তারেক রহমান আগেই মুক্তি পেয়েছেন। গত ১৭ই জুলাই কোকোকে চিকিৎসার জন্য সাময়িকভাবে এবং ৩রা সেপ্টেম্বর তারেককে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।

এর আগে কয়েকটি মামলার আসামী আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও চিকিৎসার জন্য সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার। গত বছরের ১৬ই জুলাই গ্রেপ্তারের পর এ বছরের ১১ই জুন হাসিনাকে চিকিৎসার জন্য আট সপ্তাহের জন্য মুক্তি দেওয়া হয়। সরকার তার মুক্তির মেয়াদ আগামী ৬ই অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে। হাসিনা চিকিৎসার জন্য বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএম/পিসি/এলএইচ/জিএমএ/এইচবি/এসকে/এফএফ/জিএনএ/১৩৩২ ঘ.

Permalink

ইসলামিস্ট মিলিট্যানসি ইন বাংলাদেশ

ইসলামিস্ট মিলিট্যানসি ইন বাংলাদেশ
মৌলবাদী সন্ত্রাসের রাজনৈতিক মানচিত্র
হাসান ফেরদৌস

ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক, একসময় ঢাকার দৈনিক সংবাদ ও পরে বিবিসি বাংলা বিভাগের সাংবাদিক, আলী রীয়াজ ২০০৪ সালে বাংলাদেশে ইসলামি জঙ্গিবাদের উত্থান নিয়ে তাঁর প্রথম বইটি লেখেন। গড উইলিং: দি পলিটিক্স অব ইসলামিজম ইন বাংলাদেশ নামের সে বইটি কিছুটা চটজলদি লেখা হলেও তাতে বাংলাদেশে সহিংস মৌলবাদের উত্থানের মূল বৈশিষ্ট্য ও তার ঐতিহাসিক পরিপ্রেক্ষিতটি নিরপেক্ষ গবেষকের দৃষ্টিতে তিনি ঠিকই ধরতে পেরেছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, ইসলামের রাজনীতিকরণের পেছনে তাঁদের যে দায়-দায়িত্ব, দেশের মূলধারাভুক্ত রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্ব তা থেকে ছাড় পেতে পারেন না। দেশের প্রতিটি প্রধান রাজনৈতিক দল ও নেতা সর্বগ্রাহ্য কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়ে নিজেদের বৈধতা খুঁজতে ধর্মের দিকে হাত বাড়ান। এরই ফলে ক্রমেই ধর্ম ও রাষ্ট্রের ভেতর বিভাজনরেখা বিলুপ্ত হয় এবং রাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানেই বাংলাদেশে ইসলামি রাজনীতির উত্থান ঘটে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি−দুই প্রধান দলই সে অপরাধে অপরাধী। এই দুই মধ্যপন্থী ও আপসকামী দলের পাশাপাশি কোনো প্রগতিশীল সামাজিক-গণতান্ত্রিক দল বা বামঘেষা আন্দোলন বাংলাদেশে দানা বাঁধতে পারেনি। এর ফলে যে শুন্যতার সৃষ্টি হয়, তার নরম ও উর্বর মাটিতেই মৌলবাদী শক্তি নিজেদের সংহত করার উদ্দাম ও সাহস খুঁজে পায়।

তাঁর নতুন বই, ইসলামিস্ট মিলিট্যানসি ইন বাংলাদেশ (রুটলেজ, নিউইয়র্ক, ২০০৮), তাতে রীয়াজ ইসলামবাদীদের উত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণের পাশাপাশি এর ভু-রাজনৈতিক মানচিত্র খোঁজার চেষ্টা করেছেন। সহিংস ইসলামি রাজনীতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সম্ভাবনার প্রতি কত বড় হুমকি ও সে হুমকি মোকাবিলার পথ কী, তা নির্দেশের চেষ্টাও করেছেন তিনি। এই বইয়ে আলী রীয়াজ সাংবাদিক নন, তিনি নিয়মনিষ্ঠ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী। পূর্বনির্ধারিত কোনো সিদ্ধান্ত আরোপের বদলে তিনি এখানে তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে যৌক্তিক উপসংহারে পৌঁছাতে তাঁর স্পষ্ট আগ্রহ দেখিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, বাংলাদেশে সহিংস ইসলামি মৌলবাদের উত্থান মূলত একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, দেশি ও বিদেশি শক্তিচক্র একযোগে তার পক্ষে কাজ করেছে। ১৯৭৫-পরবর্তী ঘটনাবলির ওপর আলোকপাত করে তিনি এই যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতর মৌলবাদ ও মৌলবাদী রাজনীতি সমর্থন ও আশ্রয় পাওয়ার ফলেই এই সহিংস মৌলবাদ এত দ্রুত প্রসার লাভ করেছে। তাঁর সবচেয়ে নির্দয় সমালোচনার লক্ষ্য ২০০১ থেকে ২০০৬-এর বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট সরকার। এই পাঁচ বছরে রাষ্ট্র ও রাষ্ট্র-বহির্ভুত শক্তিসমূহ (স্টেট ও নন-স্টেট অ্যাকটর্স) একে অপরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করেছে, একে অপরকে ব্যবহার করেছে। শুধু তাদের রাজনৈতিক ও আদর্শগত উদ্দেশ্য সাধনই সেই সহযোগিতার লক্ষ্য নয়, তাদের দীর্ঘমেয়াদি রণকৌশলের অংশ হিসেবেও এই আঁতাত কাজ করেছে।
আলী রীয়াজ তাঁর গ্রন্থে প্রায় গোড়া থেকেই ইসলামিক দলগুলোর রাজনৈতিক ক্ষমতার বিষয়ে যে ‘মিথ’ চালু রয়েছে, তা ভাঙার চেষ্টা করেছেন। ১৯৯১-এর নির্বাচনের সময় থেকে জামায়াত ও অন্য ইসলামি দলগুলো বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘কিং-মেকার’-এর ভুমিকা নেয়, অথচ তাদের নীতি ও আদর্শের প্রতি দেশের জনসমর্থন বরাবরই নামমাত্র। জামায়াতে ইসলামী একমাত্র ইসলামবাদী রাজনৈতিক দল, যাদের কোনো অর্থবহ জনসমর্থন রয়েছে। কিন্তু সেই সমর্থনও গত ১৫ বছরে ক্রমাগত নিম্নমুখী হয়েছে। যেমন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে এই দল মোট ভোটের ১২ দশমিক ১৩ শতাংশ অর্জন করে। পরবর্তী প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনেই তাদের বাক্সে ভোটের পরিমাণ ক্রমেই কমে আসে। ২০০১ সালের নির্বাচনে তাদের প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। অন্য কথায়, এক দশকে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন−ভোটপ্রাপ্তি ও জনসমর্থনের নিক্তিতে ৪১ শতাংশ হ্রাস পায়। তার পরেও দল হিসেবে জামায়াতের রাজনৈতিক সমর্থন আদায়ে দেশের দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি যে উদগ্র আগ্রহ দেখিয়েছে, তা থেকে এই অব্যাহত পতনের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া অসম্ভব।
রাজনীতির যে ইসলামিকরণ, তার ফল বাংলাদেশে প্রকাশিত হয়েছে নানাভাবে। সহিংসতা তার একটি প্রধান ও চুড়ান্ত প্রকাশ, কিন্তু তার অন্য প্রকাশও রয়েছে। যেমন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর ক্রমাগত বৈষম্য ও সহিংসতা, নাগরিক সংস্কৃতির বিজাতিকরণ এবং মাদ্রাসা শিক্ষার উল্লম্ফন। আলী রীয়াজ তাঁর গ্রন্েথ এই শেষ বিষয়টি, অর্থাৎ মাদ্রাসা শিক্ষার প্রসার নিয়ে তথ্যভিত্তিক দীর্ঘ বিশ্লেষণ করেছেন। ইসলামি মৌলবাদীদের উত্থানের সঙ্গে মাদ্রাসা-ব্যবস্থার অবিশ্বাস্য প্রসার যে গুণগতভাবে সম্পৃক্ত, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ জাগে না, যখন আমরা এই তথ্যের মুখোমুখি হই যে ১৯৭২ থেকে ২০০৪ সালের ভেতর বাংলাদেশে উত্তর-প্রাথমিক মাদ্রাসার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৭৩২ শতাংশ। কোনো সন্দেহ নেই, আওয়ামী লীগের আমলেও মাদ্রাসা-ব্যবস্থা জোরদার হয় এবং আওয়ামী সরকার মাদ্রাসা-ব্যবস্থার প্রতি সমর্থন তাদের নির্বাচনী রণকৌশলের অঙ্গীভুত করে। কিন্তু বিএনপির জোটের শেষ পাঁচ বছরে মাদ্রাসার যে প্রসার ও তার সহিংস পরিবর্তন ঘটে, পূর্ববর্তী যেকোনো সময়কে তা হার মানায়। ২০০১−২০০৫ সালে দেশের সাধারণ শিক্ষা খাতে বৃদ্ধি যেখানে ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ, সেখানে মাদ্রাসা খাতের সম্প্রসারণ দাঁড়ায় ২২ দশমিক ২২ শতাংশ। একই সময়ে সাধারণ শিক্ষা খাতে মোট শিক্ষার্থীর পরিমাণ বৃদ্ধি পায় ৩৩ শতাংশ, কিন্তু মাদ্রাসা ছাত্রদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় ৫৮ শতাংশ।
মাদ্রাসাগুলো, বিশেষ করে বেসরকারি কওমি মাদ্রাসার অনেকাংশ যে সন্ত্রাসী তৎপরতার সঙ্গে জড়িত, সে কথা পত্র-পত্রিকায় নানা সময়ে লেখা হলেও তার অকাট্য প্রমাণ মেলেনি। সে প্রমাণ মিলল ১৭ আগস্ট ২০০৫ সালে দেশজুড়ে সন্ত্রাসী বোমাবাজির পর। নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক অনেক সন্ত্রাসীই পরে স্বীকার করেছে, তারা বিভিন্ন মাদ্রাসাকে প্রশিক্ষণ ও সদস্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করেছে। ‘আহলে হাদিস আন্দোলন বাংলাদেশ’ ও ‘মাহাদুত তারবিয়ালতিল ইসলামিয়া মাদ্রাসা’ এই কাজে অগ্রণী ভুমিকা পালন করে। গোয়েন্দা সুত্রের তথ্য উদ্ধৃত করে আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, সরকারিভাবে এ পর্যন্ত ২৩৩টি মাদ্রাসা চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো।
বিএনপির আমলে ২০০১−২০০৬-এর ভেতর সহিংস ইসলামপন্থীদের তৎপরতা যে আশ্চর্য রকম বেড়ে যায়, তার প্রধান কারণ সরকারের ভেতরেই ইসলামপন্থী নীতিনির্ধারকের ভুমিকা গ্রহণ করে। এই নীতিনির্ধারকেরা বাংলাদেশে ইসলামি সন্ত্রাসের অস্তিত্ব এক কথায় কেবল নাকচই করে দেননি, অনেক ক্ষেত্রে সন্ত্রাসীদের সহযোগী হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন। আলী রীয়াজ সে ধরনের বেশ কিছু প্রামাণিক উদাহরণ দিয়েছেন। হারকাতুল জিহাদ নামে যে সংগঠনটি পরে সন্ত্রাসী হিসেবে আন্তর্জাতিক কালো তালিকাভুক্ত হয়, তার অন্যতম নেতা আতাউর রহমান খান−যিনি বিন লাদেন বাহিনীর সদস্য হিসেবে আফগান-যুদ্ধে অংশ নেন−১৯৯১ সালে বিএনপির সদস্য হিসেবে আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন। মুফতি শহিদুল ইসলাম, যিনি ১৯৯৮ সালে বিন লাদেনের সঙ্গে বৈঠক করেন বলে নিজেই স্বীকার করেছেন, ২০০১ সালে বিএনপির সমর্থিত ইসলামী ঐক্যজোটের ব্যানারে আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন। কুখ্যাত বাংলা ভাইয়ের ‘জাগ্রত মুসলিম জনতা’ রাজশাহীর বাগমারায় প্রথম যে প্রকাশ্য জনসভা করে, তাতে অন্যতম বক্তা ছিলেন স্থানীয় বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ২০০৪ সালের মে মাসে রাজশাহীতে বাংলা ভাই যখন তাঁর সন্ত্রাসী অভিযানের শীর্ষে, সে সময় রাজশাহীর বিভাগীয় পুলিশের ইনস্পেক্টর জেনারেল নুর মোহাম্মদ সাংবাদিকদের জানান, সরকারি আইন প্রয়োগকারী বাহিনী বাংলা ভাইকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে সাহায্য করছে। ১৮ আগস্ট ২০০৬ সালে ঢাকায় ‘সচেতন ইসলামি জনতা’ এই ব্যানারে যে প্রকাশ্য জনসভা করে, তাতেও নিষিদ্ধ ‘হুজি’র একাধিক নেতা (যেমন, মুফতি শফিকুর রহমান, মৌলানা মোহাম্মদুল্লাহ) এবং চারদলীয় জোটের একাধিক নেতা (যেমন, শাইখুল হাদিস) অংশ নেন।
রাষ্ট্র নিজেই যখন সন্ত্রাসের লালন ও পালন করে, তখন সে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে উপায় থাকে না। বুদ্ধিজীবীদের একাংশ এ ব্যাপারে বিপদঘণ্টি বাজানোর চেষ্টা করেছে, সরকারি ঢਆা-নিনাদে তা সহজেই ঢাকা পড়ে যায়। কিন্তু থলের বেড়াল বেরোয়, যখন খোদ বাংলা ভাই সে কথা ফাঁস করে দেন। ২০০৬ সালের শেষ মাথায় আদালতের বিচারে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তিনি সক্ষোভে বলেন, সরকারই তাঁদের ইসলামি হুকুমাত কায়েমের জন্য কাজ করতে উৎসাহিত করেছিল। এখন তারাই সে কাজের জন্য মানুষের তৈরি আইনে তাঁকে শাস্তি দিচ্ছে। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘এ অবস্থায় এই সরকারের কি শাস্তি পাওয়া উচিত?’
সরকারের গোয়েন্দা বিভাগের ভেতরও ইসলামি জঙ্গিদের সহযোগী রয়েছে, তারাও সরাসরি বা অপ্রত্যক্ষভাবে ইসলামি জঙ্গিদের তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত, এই দাবির সপক্ষে রীয়াজ একটি আগ্রহোদ্দীপক তথ্য দিয়েছেন। গোপন নথিপত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেছেন, ১৯৯৯ সালে এক প্রতিবেদনে গোয়েন্দা বিভাগ জানায় যে দক্ষিণ আফ্রিকাভিত্তিক ‘সারভেন্টস অব সাফারিং হিউম্যানিটি’ নামের একটি ইসলামি সাহায্য সংস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের ইসলামি জঙ্গিদের যোগসাজশ রয়েছে, তারা সন্ত্রাসী তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত, এই অভিযোগে ১৯৯৯ সালের ২৫ জানুয়ারি দুজন বিদেশিসহ পাঁচ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু ইসলামী ঐক্যজোটের এক নেতা, যিনি ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির সমর্থনে আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন, তাঁর হস্তক্ষেপে তিন বাংলাদেশিকেই মুক্তি দেওয়া হয়। সন্ত্রাস ও রাজনীতির এই সহাবস্থানে তিক্ত এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা সে সময়ে তাঁর সরকারি প্রতিবেদনে লেখেন: ‘আমাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও দুর্নীতির কারণে ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার যোগসাজশে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তৎপরতায় নিয়োজিত লোকদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অর্থহীন হয়ে পড়ছে। তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সন্ত্রাসীরা নতুন করে বলীয়ান হবে। বিদেশি শক্তিসমূহও উপলব্ধি করবে, সন্ত্রাসীদের চাপের মুখে সরকার কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থাই গ্রহণ করবে না।’
১/১১-এর পট পরিবর্তনের পর রাষ্ট্র ও ইসলামি সন্ত্রাসের এই যোগসাজশের বিষয়টি আমাদের কাছে আরও খোলামেলাভাবে ধরা পড়ে। আলী রীয়াজ অতি সম্প্রতি প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই দুইয়ের যে আন্তসম্পর্ক, তার একটি তাত্ত্বিক কাঠামো প্রস্তুত করেছেন। তার ওপর ন্যস্ত ভুমিকা পালনে রাষ্ট্রের ব্যর্থতাকে রীয়াজ ‘রাষ্ট্রের অনুপস্িথতি’ বলে চিহ্নিত করেছেন। ‘অনুপস্িথত রাষ্ট্র’ যখন দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থ তুলে ধরার বদলে শুধু একটি ক্ষুদ্র দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষা করে, তখন এক ধরনের শুন্যতার জন্ন নেয়। এই শুন্যতার সুযোগেই বাম ও ডান উভয়পক্ষের চুড়ান্তবাদী গ্রুপসমূহ চাঙা হয় এবং কাজ করার জায়গা খুঁজে নেয়। দেশের উত্তরাঞ্চল, যা সবচেয়ে অনুন্নত ও অবহেলিত অঞ্চলের অন্তর্গত, সেখানে এই দুই ধরনের চুড়ান্তবাদীরাই তাদের তৎপরতার ক্ষেত্র নির্বাচন করে। ২০০১−২০০৬ সালে যে চারদলীয় জোট ক্ষমতা গ্রহণ করে, তারা সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক বিবেচনা থেকেই ডানপন্থী গ্রুপসমূহ অর্থাৎ ইসলামি জঙ্গিদের সঙ্গে হাত মেলায়। তাদের জন্য এর পেছনে যেমন আদর্শিক চাপ ছিল, তেমনি ছিল নির্বাচনী রণকৌশলগত বিবেচনা।
তাঁর প্রথম গ্রন্েথ রীয়াজ বাংলাদেশে ইসলামবাদের উত্থানকে প্রধানত একটি ‘বাংলাদেশি ঘটনা’ বলে প্রমাণে আগ্রহী ছিলেন। এই গ্রন্েথ তিনি সে বিশ্লেষণ কিছুটা বদলে নিয়েছেন। বাংলাদেশে ইসলামি জঙ্গিবাদের উত্থানের পেছনে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ওয়াহাবি ইসলাম রপ্তানি যেমন এক ধরনের ভুমিকা রেখেছে, তেমনি পরিবর্তিত ভু-রাজনৈতিক বাস্তবতাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উপমহাদেশের দেশসমূহের ঐতিহ্যিক বৈরিতা ও প্রভাব-বলয় নির্মাণের প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতায় ভারত ও পাকিস্তানের ‘স্যাটেলাইট’ হিসেবে ব্যবহূত হয়েছে বাংলাদেশ। রীয়াজ ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি প্রভাবিত করার লক্ষ্যে কীভাবে বাংলাদেশ, বিশেষ করে তার সহিংস দলসমূহকে ব্যবহার করেছে, তার তথ্যপূর্ণ বিবরণ দিয়েছেন। বিদেশি অর্থ, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে পাঠানো অর্থ, কীভাবে সন্ত্রাসীকাজে ব্যবহূত হয়েছে, সে কথাও তিনি জানিয়েছেন। তাঁর হিসাবে, ২০০৬ সাল নাগাদ বাংলাদেশে ৩৪টির মতো ইসলামি এনজিও তৎপর ছিল, যাদের মাধ্যমে সেখানে বছরে ২০০ কোটি টাকার হাতবদল হয়। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাও জেনে বা না জেনে অর্থ প্রদানের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কাজে মদদ দিয়েছে।
ইসলামি সন্ত্রাসীরা তাদের প্রয়োজনে ‘পপুলার কালচার’, যেমন সংগীত ও নাটককে ব্যবহার করে থাকে, মৌলবাদী উত্থানের সম্পুরক কারণ হিসেবে সম্পুর্ণ নতুন এই দিকটির প্রতি আলী রীয়াজ তাঁর এই গ্রন্েথ আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ওয়াজ-মাহফিলের মাধ্যমে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও অন্যরা ধর্মের নামে সহিংসতার পক্ষে উসকানি দিয়েছেন, তা কোনো গোপন কথা নয়। টেপ ও সিডিতে তাঁর ভাষণ দেশের ভেতর যেমন, দেশের বাইরেও এন্তার মেলে। আটককৃত একাধিক সন্ত্রাসী স্বীকার করেছেন, সাঈদীর ভাষণ শুনেই তাঁরা অনুপ্রাণিত হয়েছেন (যেমন, চট্টগ্রামের জেএমবির নেতা জাবেদ ইকবাল)। ইসলামি মৌলবাদীদের আয়োজিত ওয়াজ-মাহফিলের পর সহিংসতা ঘটেছে, এমন ঘটনাও অজ্ঞাত নয়। যেমন, ব্র্যাক অফিস জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংক আক্রান্ত হয়েছে। নব্বইয়ের গোড়া থেকেই এসব ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু বাংলাদেশে আমরা কখনোই খুব গুরুত্বের সঙ্গে দুয়ে দুয়ে চার মিলিয়ে দেখিনি। এর সঙ্গে যে জঙ্গিবাদ যুক্ত, তাও ভেবে দেখিনি।
ইসলামি সংগঠনগুলো তাদের উগ্র ধর্মীয় মতাদর্শ প্রচারে কীভাবে সংগীতের ব্যবহার করে থাকে, আলী রীয়াজ তার প্রতিও আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এ ব্যাপারে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছে ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাংস্কৃতিক অঙ্গসংগঠন সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী। তাদের নেতৃত্বে ২০টি ইসলামি সাংস্কৃতিক দল নিয়ে যে জাতীয় সাংস্কৃতিক জোট গঠিত হয় ২০০৫ সালের ২৩ আগস্ট, তারা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে একটি ‘ইসলামিক কনসার্ট’-এর আয়োজন করে। কনসার্ট শব্দটি বিজাতীয়, অনৈসলামিক, তা সত্ত্বেও এর ব্যবহার থেকে স্পষ্ট তরুণ ও যুবকদের আকর্ষিত করাই এই ‘সাংস্কৃতিক’ আক্রমণের লক্ষ্য। আলী রীয়াজ রণাঙ্গন শিল্পীগোষ্ঠী নামের আরেক ইসলামি দলের কথাও জানিয়েছেন। এই দল শুধু ২০০৪ সালেই ২০টি ইসলামি গানের সিডি প্রকাশ করে। তালিবান নামে যে অ্যালবাম তারা প্রকাশ করে, তার ভুমিকা হিসেবে এই ভাষ্যটি রয়েছে (আমি রীয়াজের উদ্ধৃত ইংরেজি থেকে বাংলায় রূপান্তর করছি): ‘ওসামা বিন লাদেন বিশ শতকের এক মহান মুজাহিদের নাম। আমেরিকা তাঁর নামে কেঁপে ওঠে। আজ সমগ্র বিশ্বে ওসামা বিন লাদেন বীরের সম্মানে ভুষিত। আমেরিকাকে টুকরো টুকরো করে ফেলতে হলে আমাদের দরকার ওসামা। ওসামা, মুসলিম বিশ্বের তুমি নেতা, সারা বিশ্বের মুজাহিদিনদের কাছে তুমি সবচেয়ে প্রিয়। তুমিই আমাদের জিহাদের অগ্রনায়ক।’
আলী রীয়াজের বক্তব্য অনুসারে, বাংলাদেশে ইসলামি সন্ত্রাসবাদ ঠেকাতে হলে একটা প্রধান কাজ হবে সন্ত্রাসী কারা তা চিহ্নিত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। ইসলামবাদীদের দাবি উদ্ধৃত করে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে ইসলামি সন্ত্রাসীর মোট সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ হাজার হবে। ‘আফগান মুজাহিদ’ শুধু এমন সন্ত্রাসীর সংখ্যাই তাঁর হিসাবমতে, দুই হাজার ৮০০। নির্ঘণ্ট হিসেবে আলী রীয়াজ বাংলাদেশের প্রধান ইসলামি জঙ্গি দল ও তাদের প্রধান নেতাদের একটি তালিকা ও বিবরণ সংযুক্ত করেছেন। সন্ত্রাসীদের নেটওয়ার্ক ও তাদের অর্থ ও অস্ত্রের উৎস খুঁজে বের করা ও উৎস নির্মুল করা তাঁর বিবেচনায়, বাংলাদেশের নিজের স্বার্থে অগ্রাধিকারের সঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তিনি শিক্ষা সংস্কারের পাশাপাশি দেশের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের ওপরও জোর দিয়েছেন। তাঁর প্রস্তাব, সন্ত্রাসীদের ঠেকাতে হলে বাংলাদেশের মানুষ ও সরকারকে একযোগে কাজ করতে হবে। এই কাজটা সবার, কোনো এক দলের বা গ্রুপের নয়, সে কথা তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন।

২.
আলী রীয়াজের এই গ্রন্থটি আমার বিবেচনায় বাংলাদেশে ইসলামি জঙ্গিবাদের ওপর লেখা এ যাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ বই। এখানে তিনি কেবল জঙ্গিবাদ নামের অসুখের লক্ষণ ও গতি-প্রকৃতি চিহ্নিত করেননি, কীভাবে সে রোগের নিরাময় সম্ভব তার প্রতিও আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। তাঁর বিবেচনায়, যে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে বাংলাদেশের লালন, সেখানে ধর্মের নামে সহিংসতার কোনো স্থান কোনো কালেই ছিল না। রাষ্ট্রের মদদ ছাড়া এই জঙ্গিবাদের উত্থান সেখানে অসম্ভব ছিল।
ক্ষীণদৃষ্টি রাজনীতিক তাঁদের আশু স্বার্থ উদ্ধার করতে সাধ করে এই সর্বনাশ ডেকে এনেছেন, রীয়াজের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমি একমত, কিন্তু এই অপরাধে আমি শুধু রাজনীতিককে একা দায়ী করতে রাজি নই। আমরা সবাই কমবেশি সে অপরাধে অপরাধী। ইসলামিবাদের প্রধান বহির্লক্ষণ সন্ত্রাস হতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশে জঙ্গিদের হাতে বোমাবাজি একমাত্র সমস্যা নয়, এমনকি তা প্রধান সমস্যাও নয়। বোমাবাজির যে সমস্যা, তা আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িত। দেশের আইন ও বিচার বিভাগ চাইলে সে সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে। কোনো কোনো জঙ্গির বিচার ও ফাঁসির ভেতর দিয়ে সে কথার প্রমাণও মিলেছে। কিন্তু বাংলাদেশে ধর্মীয় প্রশ্নে যে অসহিষ্ণুতা ক্রমেই জন্ন নিচ্ছে ও প্রসারিত হচ্ছে, সহিংস ও জঙ্গি সংস্কৃতির সেটিই প্রধান আশ্রয়স্থল। তাদের নিজস্ব ধর্মীয় প্রেসক্রিপশনে ধরা না পড়লে যেকোনো ধরনের সাংস্কৃতিক কাজকেই অনৈসলামিক বলে ইসলামি জঙ্গিরা তার ওপর চড়াও হচ্ছে। তারা যা দাবি করছে, অল্প-স্বল্প প্রতিবাদের পর আমরাও তা মেনে নিচ্ছি। আর একবার যা মেনে নেওয়া হচ্ছে, তাই ‘নর্ম’ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এর একটা প্রধান কারণ, দেশের মূলধারাভুক্ত দলসমূহ প্রায় বিনা বাক্য ব্যয়ে মৌলবাদী রাজনীতি ও সংস্কৃতির এজেন্ডা নিজেদের এজেন্ডা বলে তার আত্তীকরণ করে ফেলেছে। ফলে মৌলবাদী সংস্কৃতি দেশের প্রধান সংস্কৃতিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংখ্যালঘুদের প্রতি অব্যাহত আক্রমণ ও মেয়েদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের ভেতর এই সংস্কৃতির প্রকাশ এখনো ঘটছে হরহামেশা। মধ্যরাতে শহরের রাস্তায় মেয়েরা আক্রান্ত হলে সব দোষ মেয়েদের, এ কথা বলতে সমাজের দায়িত্বসম্পন্ন লোকেরাও দ্বিধা করেন না। আহমদিয়াদের বিরুদ্ধে ‘কাফন মিছিল’ খুব পুরোনো কোনো ঘটনা নয়। পত্রিকার পাতায় নিরীহ কার্টুনকে উপলক্ষ করে সেকুলার তথ্য-মাধ্যমের ওপর আক্রমণ হচ্ছে প্রকাশ্যে, কার্যত প্রশাসনিক সমর্থনে। আমাদের দৃষ্টির গোচরে বাংলা ভাষার ওপরও আক্রমণ চলছে। ব্রাਜ਼ণ্যবাদের বিরুদ্ধে জাগরণ বলে কেউ কেউ বাংলা ভাষার ইসলামিকরণের বস্তাপচা যুক্তি এখনো তুলে ধরছেন। এর কোনোটাই তুচ্ছ বলে অগ্রাহ্য করার উপায় নেই।
ইসলামি জঙ্গিদের ঠেকাতে হলে তাই প্রতিরোধটা হতে হবে দুমুখো। একদিকে তা হতে হবে রাজনৈতিক, অন্য দিকে সাংস্কৃতিক। সংস্কৃতি বরাবরই বাঙালিদের রাজনৈতিক অধিকার অর্জনে হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে। ’৫২ থেকে ’৭১−এই দীর্ঘ সময়ের সব পর্যায়েই আমাদের সামগ্রিক আন্দোলনে অবিভাজ্য উপাদান হয়ে থেকেছে সংস্কৃতি। এখন আবার প্রয়োজন সেই হাতিয়ারকে সামনে আনা, তাকে ছাতার মতো তুলে ধরা। বাঙালিদের নিজস্ব সংস্কৃতি যত প্রবল ও ব্যাপকভাবে আমাদের দৈনন্দিন সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার অবিভাজ্য উপাদানে পরিণত হবে, জঙ্গিদের প্রভাব তত হ্রাস পাবে। ক্লাসে হিজাব পরে আসার দাবি জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শিক্ষক, বাহবা পাওয়ার বদলে তিনি তাহলে ধিਆারের সম্মুখীন হবেন। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সেটিই হবে প্রকৃত বিজয়।
সংস্কৃতির মতো রাজনীতিতেও জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে ধীরে ধীরে। গুটি গুটি পায়ে ঢুকে এখন তারা কার্যত রাজনীতির একটি প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। প্রথমে বিরোধী রাজনীতির ছত্রচ্ছায়ায় এবং পরে সরকারের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় জঙ্গিরা রাজনৈতিক ‘লেজিটিমেসি’ও অর্জন করেছে। তাদের এখন আর অবৈধ বা বে-আইনি বলে বাতিল করা যাবে না। এসব দলের বিরুদ্ধে একাত্তরের কথা বলে যত গালই দিই না কেন, আজকের বাংলাদেশে তাদের রাজনৈতিকভাবে মার্জিনাল ভাবাও মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। নির্বাচনের ভেতর দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তারা। ঠিক সে কারণে এসব দলকে ‘মডারেট ইসলামিক পার্টি’ বলে স্বীকৃতিও দিয়েছে আমাদের কোনো কোনো বিদেশি অভিভাবক। এখন তাদের ঠেকানোর একমাত্র উপায় হলো, এসব দলকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করে তাদের সেই লেজিটিমেসিটুকু ছিনিয়ে আনা। আমি জামায়াত বা ইসলামি দলগুলো নিষিদ্ধ হোক সে দাবি তুলছি না, কিন্তু মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো মৌলবাদ প্রতিহত করার লক্ষ্যে যদি ন্যুনতম একটি কর্মসুচিতে একমত হয়, তাহলে জামায়াত-জাতীয় দলগুলোকে একঘরে করা কঠিন নয়।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে যাঁরা ভাবেন, এমন সবাইকে সে দাবিটি তুলতে হবে, জোরে, আরও জোরে।
ইসলামিস্ট মিলিট্যানসি ইন বাংলাদেশ−আলী রীয়াজ, রুটলেজ, নিউইয়র্ক ২০০৮
নিউইয়র্ক, ২ জুলাই ২০০৮

প্রথম আলো, ২২ আগস্ট, ২০০৮

Permalink

বিচার ভিক্ষা চাই না ন্যায়বিচার চাই

অ্যাডভোকেট আনিসুল হক

রায় পক্ষে না গেলেই আদালতকে কটাক্ষ করতে হবে আর পক্ষে গেলে প্রশংসা করা হবে−সেই দর্শন থেকে আমি লিখছি না। আমি যতটুকু জেনেছি, তা থেকেই রায়ের কয়েকটি অসংগতি তুলে ধরতে চাই।
আদালত তাঁর রায়ে একজনের ফাঁসি বহাল রেখেছেন এবং ছয়জনকে খালাস দিয়েছেন। আমার অভিমত, ফাঁসি বহাল রাখার জন্য আদালত অবশ্যই একজন সাক্ষীর ওপর বিশ্বাস রেখেছেন। আমার কথা হলো, একই সাক্ষীর ওপর বিশ্বাস করে একজনকে ফাঁসি দেওয়া হলো, অথচ আরেকজনের বেলায় সেই সাক্ষীকেই অবিশ্বাস করা হলো। এটা রায়ের একটি অসংগতি।
লক্ষ করেছি, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিচারিক আদালত থেকে সব বিএনপি নেতা খালাস পেয়ে গেলেন। এখন হাইকোর্টে আসার পর এ মামলার প্রায় সব আসামি খালাস পেলেন। জনগণ যদি মনে করে দলীয় বিবেচনায় রায় হয়েছে−সেটা কি অন্যায় হবে?
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে জাতীয় নেতারা যে নিহত হয়েছিলেন, সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই। আসামি ও বাদী কোনো পক্ষই এ ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেনি। আসামি খালাস পাওয়ার পর প্রশ্ন উঠতেই পারে, চার নেতাকে কারা হত্যা করল? আসলে দোষী কারা, সেটা আদালতের বিবেচনায় রাখা দরকার ছিল।
শুনেছি, মামলার ৬৪ নম্বর সাক্ষী ছিলেন তদন্তকারী কর্মকর্তা, রায়ে যাঁর সমালোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, মামলা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা হয়নি। ২১ বছর তদন্ত না হওয়ার জন্য যেসব সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় ছিল, সেসব সরকার দায়ী। ২১ বছরে এ মামলার তদন্ত কেন হলো না, সে ব্যাপার আদালত কোনো বক্তব্য রাখেননি।
২১ বছর মামলা তদন্ত না হওয়ায় অনেক সাক্ষ্য, আলামত নষ্ট হয়ে গেছে, সেটা আদালত দেখেছেন। আমি আশা করেছিলাম, আদালত হয়তো এসব বিবেচনায় আনবেন, এসব আইনের বাইরে নয়। আইনকে সমুন্নত রাখতে এসব বিষয় বিবেচনায় আসতেই পারে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি আদালত সেটা করেননি।
আমার বক্তব্য, আমরা বিচার ভিক্ষা চাই না, সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার চাই। এটা পাওয়া আমার অধিকার।
অ্যাডভোকেট আনিসুল হক: রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি

প্রথম আলো, ২৯ আগস্ট, ২০০৮

Permalink

ফারুক, রশিদ, হুদাসহ মূল আসামিরা বেকসুর খালাস!


হাইকোর্টে জেলহত্যা মামলার রায় ঘোষণা * এ রায় প্রহসন: রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি

আশরাফ-উল-আলম
১৯৭৫ সালের প্রাসাদ ষড়যন্ত্র, ক্ষমতা দখল-পাল্টা দখলের ধারাবাহিকতায় রাতের অন্ধকারে কারাগারে বন্দী অবস্থায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যার দায় থেকে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি দফাদার মারফত আলী শাহ, দফাদার মো. আবুল হাশেম মৃধা ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি লে. কর্নেল (বরখাস্তকৃত) সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মেজর (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) বজলুল হুদা ও মেজর (অব.) এ কে এম মহিউদ্দিন আহাম্মদকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে পলাতক এক আসামির মৃত্যুদন্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত অপর আট আসামির সাজাও বহাল রাখা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মৃত্যুদন্ড নিশ্চিতকরণ (ডেথ রেফারেন্স) ও কারাগারে আটক যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের আপিলের রায় ঘোষণা করা হয়।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চ এই রায় দেন। গত ১৩ জুলাই হাইকোর্টে জেলহত্যাসংক্রান্ত মৃত্যুদন্ড নিশ্চিতকরণ ও আপিল শুনানি শুরু হয়। গত ১৮ আগস্ট রায় ঘোষণা শুরু হয়। টানা আট কার্যদিবস ধরে রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, এ রায় প্রহসন, দুঃখজনক ও বাস্তবতাকে অস্বীকার করা। তিনি বলেন, রায়ে মনে হয়েছে যে একজন লোক কারাগারে এসে চারজনকে খুন করে চলে গেল। এর পেছনে যেন আর কেউ জড়িত নয়। হত্যার পেছনে কোনো পরিকল্পনা ছিল না বা কোনো ষড়যন্ত্র ছিল না। কিন্তু বাস্তবতা তো ভিন্ন। আনিসুল হক বলেন, ‘এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা আপিল করব। লড়াই চালিয়ে যাব। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রতি আমাদের বিশ্বাস রয়েছে। শেষ পর্যন্ত আমরা ন্যায়বিচার পাব।’
হাইকোর্টের রায়ে পলাতক আসামি রিসালদার মোসলেম উদ্দিন ওরফে মুসলেম উদ্দিন ওরফে হিরন খান ওরফে মুসলেম উদ্দিন খানের মৃত্যুদন্ড বহাল রাখা হয়েছে। পলাতক অপর আট আসামি কর্নেল (অব.) খন্দকার আবদুর রশীদ, লে. কর্নেল (অব.) শরিফুল হক ডালিম, কর্নেল (অব.) এম বি নুর চৌধুরী, লে. কর্নেল (অব.) এ এম রাশেদ চৌধুরী, মেজর (অব.) আহম্মদ শরিফুল হোসেন, ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল মাজেদ, ক্যাপ্টেন (অব.) কিশমত হাশেম ও ক্যাপ্টেন (অব.) নাজমুল হোসেন আনসারের যাবজ্জীবন কারাদন্ড বহাল রেখেছেন আদালত।
২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত জেলহত্যা মামলার রায় দেন। রায়ে পলাতক তিন আসামিকে ফাঁসি ও ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন। নৃশংসতম এই হত্যার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র খুঁজে না পাওয়ায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. মতিউর রহমান ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত চার রাজনীতিবিদ কে এম ওবায়েদুর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, নুরুল ইসলাম মঞ্জুর ও তাহেরউদ্দিন ঠাকুর এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মেজর (অব.) খায়রুজ্জামানকে বেকসুর খালাস দেন। শুধু তা-ই নয়, ষড়যন্ত্রের কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় মামলার ২০ আসামির সবাইকে ফৌজদারি কার্যবিধি ১২০(খ) ধারায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
জাতীয় চার নেতাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায় হত্যার ২৯ বছর পর দেওয়া নিম্ন আদালতের ওই রায়ে মূল পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে সেনা কর্মকর্তাদের যোগাযোগ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু কারা ওই পরিকল্পনাকারী, বিচারিক আদালত তা চিহ্নিত করেননি। নিম্ন আদালতের রায় নিয়ে ব্যাপক সমালোচনাও হয়।
নিম্ন আদালত রায় দেওয়ার চার বছর পর আপিল আদালতের (হাইকোর্ট) রায়েও বলা হয়েছে, জেল হত্যাকান্ডে কোনো ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আপিল আদালতের দৃষ্টিতে জেল হত্যাকান্ড একটি বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত ঘটনা মনে হলেও ঘটনার প্রকৃত নায়কদের চিহ্নিত করা যায়নি।
হাইকোর্ট বলেছেন, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আট আসামি আপিল করেননি বলে তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত কোনো সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না। তাঁরাও আপিল করলে রায় তাঁদের অনুকুলে যেত। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের অভিমত, হাইকোর্টের দৃষ্টিতে একজনকেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
হাইকোর্টের অভিমত: হাইকোর্ট রায়ে বলেছেন, জেলহত্যা মামলায় যাঁরা সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাঁদের পরস্পরের বক্তব্যের মধ্যে কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। একজন সাক্ষীর সঙ্গে অন্য সাক্ষীর বক্তব্যের বৈপরীত্য রাষ্ট্রপক্ষের পুরো মামলাটিকে সন্দেহপূর্ণ মনে হয়েছে। এই সন্দেহের সুবিধাটুকু আসামিরাই পেয়ে থাকেন।
আদালত বলেছেন, এই মামলার আসামিরা পরস্পর ষড়যন্ত্র করেছেন বা ঘটনা সংঘটনের জন্য বঙ্গভবন থেকে টেলিফোনে কারা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করেছেন−রাষ্ট্রপক্ষের এই অভিযোগ আদালতের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি।
লে. কর্নেল (বরখাস্তকৃত) সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মেজর (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) বজলুল হুদা ও মেজর (অব.) এ কে এম মহিউদ্দিন আহাম্মদসহ বেশকিছু সেনা কর্মকর্তা জেল হত্যাকান্ডের আগে বঙ্গভবনে অবস্থান করছিলেন বলে সাক্ষীরা তাঁদের সাক্ষ্যে বলেছেন। এ প্রসঙ্গে আদালতের রায়ে বলা হয়, সেনা কর্মকর্তারা কোন উদ্দেশ্য নিয়ে বঙ্গভবনে আসা-যাওয়া করেছিলেন, আদালতের কাছে তা সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়নি।
বঙ্গভবনের তৎকালীন কর্মকর্তারা এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়ে সেনা কর্মকর্তাদের বঙ্গভবনে উপস্িথতির কথা বললেও আদালত তা বিশ্বাস করেননি। এ প্রসঙ্গে রায়ে বলা হয়েছে, ঘটনার আগে পরে কারা বঙ্গভবনে আসা-যাওয়া করেছেন, তা নির্ণয় করা হয়নি। ওই সময়কার বঙ্গভবনে রক্ষিত রেজিস্টার আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। উপস্থাপন করা হলে অবশ্যই বঙ্গভবনে যাতায়াতকারীদের চিহ্নিত করা যেত।
কারাগার সম্পর্কেও আদালত বলেন, ঘটনার সময়কার কারা রেজিস্টারগুলো আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি বলে কারাগারে কে কে প্রবেশ করেছিলেন, তা চিহ্নিত হয়নি। এসব কারণে আদালত কারাগার ও বঙ্গভবনের সাক্ষীদের সাক্ষ্য বিশ্বাস করেননি।
কর্নেল শাফায়াত জামিলের সাক্ষ্য আদালত গুরুত্ব দিয়েছেন বলে রায়ে বলা হয়। কিন্তু ওই সাক্ষীর সাক্ষ্যকে অন্য কোনো সাক্ষী সমর্থন করেননি। যে কারণে সন্দেহের ঊর্ধ্বে গিয়ে মামলা প্রমাণ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ।
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি মারফত আলী ও আবুল হাশেম মৃধার ঘটনাস্থলে উপস্িথতি সম্পর্কে তিনজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এই তিনজন সাক্ষী যে ঘটনাস্থলে উপস্িথত ছিলেন, তা আদালতের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি বলে রায়ে বলা হয়েছে। আসামিদের শনাক্ত করার বিষয়ে সাক্ষীরা যে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাও আদালতের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়নি। অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আদালতে উপস্িথত করা হয়নি বলে রায়ে বলা হয়েছে।
এই মামলার বিচার চলাকালে আসামিপক্ষ জেলহত্যার ঘটনা খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থানের ফল বলে দাবি করেছিল। এ প্রসঙ্গে রায়ে আদালত বলেছেন, খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে অভ্যুত্থান চেষ্টাকারীদেরও এই ঘটনায় সম্পৃক্ত করার বিষয়টি আদালত বিবেচনায় নিয়েছেন।
জেলহত্যা মামলাটি যথাযথভাবে তদন্ত হয়নি বলে আদালত বারবার তাঁর রায়ে উল্লেখ করেছেন। আদালত বলেছেন, তদন্ত কর্মকর্তা সঠিকভাবে তদন্ত করলে প্রকৃত দুষ্ককৃতকারীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হতো।
ঘটনার বিবরণ: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর একই বছরের ৩ নভেম্বর রাত চারটার দিকে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও কামরুজ্জামানকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। ৪ নভেম্বর তৎকালীন কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি, প্রিজন) আব্দুল আউয়াল লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় রিসালদার মোসলেম উদ্দিনের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, তাঁর নেতৃত্বে চার-পাঁচজন সেনাসদস্য কারাগারে ঢুকে চার নেতাকে হত্যা করেন।
অভিযোগপত্র: ঘটনার পরদিন মামলা দায়ের করা হলেও এই মামলার তদন্ত ২১ বছর থেমে ছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা সরকারগুলো জেলহত্যা মামলার তদন্তে বাধার সৃষ্টি করে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তদন্ত শুরু হয়। ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ−সিআইডির এএসপি আবদুল কাহার আকন্দ ২১ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আসামি আবদুল আজিজ পাশা মামলা চলাকালে জিম্বাবুয়েতে মারা যাওয়ায় তাঁকে রায়ের আগে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। মোট ৭৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৪ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয় এই মামলায়।
গতকালের আদালত: গতকাল রায় ঘোষণার সময় আদালতের নিরাপত্তাব্যবস্থা কিছুটা বাড়ানো হয়। তবে নিহতদের আত্মীয়রা কেউ উপস্িথত ছিলেন না। সংবাদকর্মীদের উপস্িথতি লক্ষণীয় হলেও কোনো রাজনীতিক বা সাধারণের উপস্িথতি চোখে পড়ার মতো ছিল না।
আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া: রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট আনিসুল হক রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এর আগেও বিভিন্ন মামলায় হাইকোর্ট বাজে রায় দিয়েছেন। ওই সব রায় কিছুক্ষণের জন্য হতাশা তৈরি করলেও আপিল বিভাগে সে হতাশা কেটে গেছে। তিনি বলেন, সার্বিকভাবে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির প্রতিটি লোকই এ রায়ে মর্মাহত।
জেলহত্যা মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আরেক আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম বলেন, হাইকোর্টের রায় অপ্রত্যাশিত। যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে এই মামলায়। সাক্ষ্য ও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা সব আসামির সাজা বহাল রাখার জন্য যথেষ্ট। অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, জেল হত্যাকান্ড সম্পর্কে আপিল আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি সঠিক নয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, জেলহত্যার সঙ্গে এই আসামিরা জড়িত ছিলেন না তা প্রমাণিত হয়েছে। খালেদ মোশাররফের অনুসারীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, এটাও এ রায়ে স্পষ্ট হয়েছে। তিনি জেলহত্যা মামলার বিচার চেয়ে বলেন, ‘প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।’

প্রথম আলো, ২৯ আগস্ট ২০০৮

Permalink

জামাতী পেইড ব্লগার চেনার উপায় কি?

জামাতী পেইড ব্লগার চেনার উপায় কি?
১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৫৬
লিখেছেন: সুশান্ত সামহোয়ার ইন ব্লগ

এই নিয়ে একটা লেখা দিয়েছিলাম , ভালো রেসপন্স পাওয়া গেছে। এখানে দেখুন:

১। সুরা-আয়াত কপি পেস্ট করে
২। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কে বা-আ-ল বলে ডাকে
৩। হাসিনা কে হাছিনা বলে
৪। ১৯৭১ রিলেটেড পোস্ট এ লুকিয়ে ১ মার্কিং করে
৫। প্রথম হল এরা বলবে অতীত ঘাটতে গেলে অনৈক্য হবে দেশে।
৬। ত্রিশ না তিন লক্ষ সেটা নিয়ে চেচাঁবে
৭। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ।
৮। পশ্চিম দিকে মুখ করে সিজদা দেয় কারন পাকিস্তান পশ্চিমে, কাবাঘরের জন্য নয়।
৯। শেখ মুজিব আর জিয়াকে একি কাতারের নেতা বানাবে। শেখ মুজিবের স্বাধীনতা পরবর্তী ভুলকে স্বাধীনতা সংগ্রমের নেতৃত্বের চেয়ে বড় করে দেখাবে।
১০। যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাইনা সেটা বলবেনা, বলবে বিচার চাই, কিন্তু আদালত ঠিক করবে কে যুদ্ধাপরাধী।
১১। রবীন্দ্রনাথ আর নজরুল নিয়ে প্যাঁচ লাগাবে, বলবে নজরুলের নোবেল পাওয়া উচিত ছিল। অথচ এরাই নজরুলকে মুরতাদ ঘোষণা করেছিল।
১২। গালাগালি করা হলো পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্যতম অপরাধ ।
১৩। ৭১ কে গন্ডগোল বলবে, অথবা সিভিল ওয়ার।
১৪ । গোআ'কে বলবে ভাষা সৈনিক।
১৫ । বংগবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। বলবে বংগবন্ধু আরো আগে স্বাধীনতা ঘোষণা দিলে এত রক্ত ঝরতনা।
১৬ । আওয়ামীলীগাররা যুদ্ধের সময় ভারতে পালাইছিল। বলবে শেখ মুজিব পাকিস্তানিদের হাতে বন্দি ছিল, তাই সে মুক্তিযুদ্ধা না।
১৭ । জামাতের বিরুদ্ধ বললে বলবে ইসলামের বিরুদ্ধে বলতেছে।
১৮ । মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বললে বলবে ভারতের দালাল।
১৯ । বাংলাদেশ-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচে পাকিস্তানকে সাপোর্ট করবে, পাকিস্তান হেরে গেলে বলবে ওরা ইচ্ছে করেই হেরেছে, অথবা বলবে জুয়ারিদের হাত ছিল।
২০। মওদুদীকে বলবে এশিয়ার সবচাইতে বড় ইসলামিক স্কলার।
২১ । মাদ্রাসা শিক্ষা বন্ধ করতে বললে বলবে মাদ্রাসা থিকায় আলোকিত(!) মানুষ বের হয়। বলবে থানায় গিয়ে খোঁজ নেন কয়জন মাদ্রাসার ছাত্রের ক্রিমিনাল রেকর্ড আছে।
২২ । সাইদীর মত বলবে আওয়ামীলীগকে ভোট দিলে ঈমান থাকবেনা।
২৩ । ইসলামের নাম দিয়ে সুদকে হালাল বানাবে।
২৪ । সাইমুম সিরিজ পড়বে, নয়াদিগন্ত থিকা রেফারেন্স দিবে।
২৫। রাজাকারের নাম জানতে চাইলেই লগ অফ করবে।
২৬। গু আযম'র ছবির পোষ্টের এগেনেষ্টে পর্ণো ছবি পুষ্টাইলে কইবে আমারে ধর্ষন করছে। তখন তারে ৭১ এর ধর্ষন সম্পক্কে জিগাইলে ১৯ বছরের নাবালিকা কইয়া সহানুভুতি পাইতে চেষ্টা করিবে। পর্ন ছবি পোষ্ট নিয়া দিনের পর দিন কানবো মাগার লক্ষ লক্ষ মা বোনের ৭১ এর ধর্ষন কে ইসলামের গনিমতের মাল বইলা চালাইবো।
২৭। বাংলা বিকৃত করে পাকি ভাষায় বলবে যেমন শয়তান না বলে দুশমন, শত্রু না বলে জালিম........
২৮। বাংলাদেশে সুশীল পর্নোগ্রাফি ধারনার প্রবর্তক শফিক রেহমআন কে অতীব পছন্দ করিবে।
২৯ । ওগো আইডিতে ফুল,আলপোনা এগুলার ছবি বেশি থাকে।
৩০ । কথায় কথায় কোরআন শরীফ থেইকা অর্ধেক লাইন উদ্ধৃত করব, পুরাটা কইব না।
৩১ । অতীত ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে ডায়লগ দেয় ।
৩২। ওসমানী কেন আত্নসমর্পন অনুষ্ঠানে ছিল না এইটা লইয়া জল ঘোলা করার চেষ্টা করবে।

কোন কিছু মিস্ হয়ে গেলে জানাবেন।

Permalink

সমর্থন করি

মূর্খ নেতাদের জনসভায় আর যাবো না। এই অঙ্গীকার আমার একার আর অহঙ্কার নয়। নির্বাচন কমিশনের বিধিমালাগুলো সম্পূর্ণভাবে সমর্থনযোগ্য।
খবর: প্রথম আলো, ২২ জুন ০৮

প্রার্থীদের ব্যক্তিগত সাতটি তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক
নিজস্ব প্রতিবেদক

সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় হলফনামার মাধ্যমে ব্যক্তিগত সাতটি তথ্য দিতেই হবে। এর আগে এসব তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক ছিল না। তা ছাড়া বর্তমান আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত ব্যক্তি কোনো রাজনৈতিক দলের কমিটিতে থাকতে পারবেন না।

নতুন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা অধ্যাদেশের ধারা ৯-এর বিধান সাপেক্ষে সিটি ও পৌরসভা নির্বাচন বিধিমালার ৩(ঈ) ধারায় সাত তথ্য প্রকাশের বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ জন্য নির্বাচন কমিশন মনোনয়ন ফরমে এ সংক্রান্ত আলাদা ঘর রেখেছে।

মেয়র, সংরক্ষিত আসন ও সাধারণ আসনের কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে কমিশন-নির্ধারিত ফরমে সাতটি তথ্য দিতে হবে।

এগুলো হলো:
  • ১. প্রার্থীর সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সনদপত্রের ফটোকপি
  • ২. বর্তমানে প্রার্থী কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত আছেন কি না, থাকলে বিবরণ;
  • ৩. অতীতে ফৌজদারি মামলার রেকর্ড আছে কি না, থাকলে রায় কী ছিল;
  • ৪. ব্যবসা বা পেশার বিবরণী;
  • ৫. প্রার্থীর আয়ের উৎস;
  • ৬. প্রার্থীর নিজের ও তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের সম্পদ ও দায়ের বিবরণ এবং
  • ৭. প্রার্থীর ঋণসংক্রান্ত তথ্যাবলি।
আদালতের রায়ে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের আট তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক ঘোষণা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন স্থানীয় নির্বাচনেও প্রার্থীদের এসব ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করে। তবে প্রকাশযোগ্য এই আট তথ্যের মধ্যে স্থানীয় নির্বাচনের জন্য একটি তথ্য বাতিল করা হয়; এটা হলো প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। অর্থাৎ প্রার্থী আগের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে থাকলে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন তা প্রকাশ করা। তা ছাড়া নির্বাচনে বিজয়ী হলে জনগণের জন্য কী করবেন সে সম্পর্কে জানানো।

প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয়: যেকোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী সিটি ও পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে তাঁকে দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে না। তবে তিনি দলীয় প্রতীক বা দলের প্রভাব নির্বাচনী প্রচারকাজে ব্যবহার করতে পারবেন না। কিন্তু ওই প্রার্থী নির্বাচনে জয়ী হলে তাঁকে অবশ্যই রাজনৈতিক দলের কমিটি থেকে পদত্যাগ করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে সাধারণ সদস্য হিসেবে থাকতে কোনো বাধা থাকবে না।

নির্বাচনী ব্যয়: প্রস্তাবিত ‘সিটি ও পৌরসভা নির্বাচনসংক্রান্ত বিধিমালা ২০০৮’-এ মেয়রদের ব্যয় নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট সিটি বা পৌর এলাকার এবং কাউন্সিলরদের (ওয়ার্ড কমিশনার) জন্য ব্যয় নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ভোটার অনুপাতে। প্রার্থীর এই ব্যয়ের মধ্যে ব্যক্তিগত ও নির্বাচনী ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ভোটার অনুপাতে সিটি মেয়র প্রার্থী সর্বনিম্ন পাঁচ লাখ ৭৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১৭ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবেন। অন্যদিকে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সর্বনিম্ন এক লাখ ১৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবেন।

পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী সর্বনিম্ন দুই লাখ ১৫ হাজার থেকে পাঁচ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয় করতে পারবেন। অন্যদিকে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সর্বনিম্ন ৫৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ দুই লাখ ১৫ হাজার টাকা ব্যয় করতে পারবেন।

সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা থাকবে: সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা থাকছে। বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় নিয়োজিত সেনাবাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে স্বীকৃত হওয়ায় এই নির্বাচনে তাদের ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ থাকবে।

সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা নির্বাচন বিধিমালা ২০০৮-এর ৮৩ ও ৮৬ ধারা অনুযায়ী তারা এ ক্ষমতা পাবে।

Permalink

ব্রেকফাস্ট টেবিলে একহাতে কাঁটাচামচ আরেক হাতে ৭৭ মুক্তিযোদ্ধা অফিসারের ফাঁসির নির্দেশে স্বাক্ষর দেন জিয়াউর রহমান

খবর সূত্র: ভোরের কাগজ

ব্রেকফাস্ট টেবিলে একহাতে কাঁটাচামচ আরেক হাতে ৭৭ মুক্তিযোদ্ধা অফিসারের ফাঁসির নির্দেশে স্বাক্ষর দেন জিয়াউর রহমান

নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সেনা প্রধান হারুন

নিউইয়র্ক থেকে এনা : শাসক জিয়া মুক্তিযোদ্ধা জিয়ার সঙ্গে বিট্রে (বিশ্বাসঘাতকতা)করেছেন। ব্রেকফাস্টের টেবিলে বসে একহাতে কাঁটাচামচ, আরেক হাতে ৭৭ মুক্তিযোদ্ধা অফিসারের ফাঁসির নির্দেশে স্বাক্ষর দেন জিয়াউর রহমান। গত ২৬ মে নিউইয়র্কে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অব) হারুন-অর রশীদ বীরপ্রতীক এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ১৯৭৫-এর পট পরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমানের শাসনামলে কতোটি ক্যুর চেষ্টা হয়েছিল, আর সেগুলো ব্যর্থ হওয়ার পর বিদ্রোহের দায় চাপিয়ে মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের কিভাবে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়- তার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।

লে. জেনারেল (অব) হারুন-অর রশীদ বলেন, জিয়াউর রহমানের আমলে অর্থাৎ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে নৃশংসভাবে হত্যার পর থেকে ১৯৮১ সালের ৩০ মে তিনি নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত সেনাবাহিনীতে ২৬টি ক্যু হয়েছে, যার একটিও সফল হয়নি। এসব ক্যুর জন্য শত শত মুক্তিযোদ্ধা অফিসারকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে।

লে. জেনারেল হারুন সে সব দিনের দুঃসহ স্মৃতিচারণ করে আরো বলেন, ব্রেকফাস্টের টেবিলে বসে একহাতে কাঁটাচামচ ধরে, আরেক হাতে কলম তুলে ফাঁসির নির্দেশে স্বাক্ষর করেছেন জিয়াউর রহমান। একদিন সকালে এভাবে মোট ৭৭ জনের ফাঁসির আদেশে স্বাক্ষর দেন তিনি।
হারুন-অর রশীদ বলেন, ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত জেনারেল এরশাদের আমলে ৭ বার ক্যুর চেষ্টা করা হয়। এরশাদ ১৪ জন মুক্তিযোদ্ধা অফিসারকে বিনাবিচারে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছেন জেনারেল জিয়াউর রহমানের ঘাতক হিসেবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জেল হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এবং মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফকে হত্যা করা হয়েছে। আরেক সেক্টর কমান্ডার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল আবু তাহেরকেও একইভাবে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে। মোট কথা ১৯৭৫-এর পট পরিবর্তনের পর নানা অজুহাতে মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক এবং মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের নির্বিচারে হত্যা করা হয় ।

সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, এসব ঘটনা দেশবাসীকে জানতে হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক সেনাপ্রধান ও সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী হারুন-অর রশীদ বলেন, ক্যু, পাল্টা ক্যু ইত্যাদির ষড়যন্ত্র হয়েছে বাইরে এবং তার বাস্তবায়ন ঘটানো হয় ক্যান্টনমেন্ট থেকে এবং প্রতিটি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তারা। তিনি বলেন, এহেন পরিস্থিতির অবসানে সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নির্ভেজাল গণতন্ত্র অপরিহার্য। তবে সে গণতন্ত্র যেন দলীয় স্বার্থে জিম্মি হয়ে না পড়ে সেদিকেও সংশ্লিষ্টদের খেয়াল রাখতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অপর এক প্রশ্নের জবাবে সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সমন্বয়কারী মেজর জেনারেল (অব) জামিল ডি আহসান বীরপ্রতীক বলেন, সেনা শাসন প্রলম্বিত হয় রাজনীতিকদের কারণে। কিছুসংখ্যক রাজনীতিক সেনা শাসনকে সমর্থন দেন নিজেদের স্বার্থে।
প্রসঙ্গত, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবিতে সোচ্চার প্রবাসের বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘ফেডারেশন অব অর্গানাইজেশনস এগেইনস্ট বাংলাদেশ ওয়ার ক্রিমিনালস’ এবং ‘বাংলা হলোকাস্ট এন্ড নাৎসি রিসার্চ সেন্টার’-এর যৌথ উদ্যোগে জ্যাকসন হাইটসের বাংলাদেশ প্লাজা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে সাবেক এয়ার ভাইস মার্শাল ও সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের আহ্বায়ক এ কে খন্দকারও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

এ কে খন্দকার বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবিতে চলমান আন্দোলনের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। আমেরিকানরাও মানবাধিকারকে অধিক গুরুত্ব দেন। তাই প্রতিটি প্রবাসীকে নিজ নিজ এলাকার সিনেটর-কংগ্রেসম্যানের সঙ্গে লবিং চালাতে হবে।
আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক ড. নূরন্নবী এবং সৈয়দ মুহম্মদ উল্লাহ ও ডা. মিনা ফারাহ ছাড়াও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কেন জরুরি সে আলোকে বক্তব্য উপস্থাপন করেন সীতাংশু গুহ এবং ড. মহসিন আলী। এ সময় ডা. মিনা ফারাহর লেখা ‘হিটলার থেকে জিয়া’ গ্রন্থটির একটি কপি উপহার দেওয়া হয় সেক্টর কমান্ডারস ফোরামকে।

সংবাদ সম্মেলনের পর তারা বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার প্রতিনিধিত্বকারী লোকজনের সঙ্গে চলমান আন্দোলনের ব্যাপারে মতবিনিময় করেন।

Permalink

জঙ্গি শনাক্ত করার পরিণামে পদাবনতি

আজকের সমকালের একটি বিশেষ খবর। কারও চোখে পড়েছে কিনা জানিনা, কিন্তু খবরটি বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য।

জঙ্গি শনাক্ত করার পরিণামে পদাবনতি
সাতক্ষীরা
ওসি গোলাম মোহাম্মদকে পদাবনতি করে দারোগা করা হয়েছে। জঙ্গিবিরোধী অভিযানের সাতক্ষীরা সদর আসনের জামায়াতে ইসলামীর সাবেক এমপি মাওলানা আঃ খালেক মণ্ডলের কোপানলে পড়েই তার এই পরিণতি। জোট সরকারের উদ্দেশ্য ছিল ২০০৫ সালের ১৭ আগষ্ট সিরিজ বোমা হামলার দায়-দায়িত্ব তৎকালীন বিরোধী দলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া। জেএমবিকে আড়াল করাও ছিল সরকারের লক্ষ্য। কিন্তু সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায় সিরিজ বোমা হামলার মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে সাতক্ষীরায় সর্বপ্রথম জেএমবি জঙ্গিগোষ্ঠীকে শনাক্ত করার কারণে। আর ওসি গোলাম মোহাম্মদ এই শনাক্তকরণের কাজটি করেছিলেন।
দুই জেএমবি জঙ্গির স্বীকারোক্তির ভিডিও ফুটেজ দেশ-বিদেশের টিভি চ্যানেলগুলোতে প্রচার হওয়ায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও শায়খ রহমান ও বাংলাভাইকে আড়াল করতে পারেনি জোট সরকার। এসব কারণেই সাতক্ষীরা সদর থানার তৎকালীন অবাধ্য ওসি গোলাম মোহাম্মদকে দায়ী করা হয়। তিন হাজার টাকা দুর্নীতির অভিযোগে ওসি গোলাম মোহাম্মদকে দারোগা পদে ডিমোশন দেওয়া হয়েছে। আর এই দুর্নীতির অভিযোগের নেপথ্যে ছিলেন জামায়াত সমর্থিত এক ইউপি চেয়ারম্যান। জোট সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
২০০৫ সালের ১৭ আগষ্ট বেলা ১১টার দিকে দেশের ৬৩টি জেলায় একযোগে বোমা হামলা চালানো হয়। সাতক্ষীরা শহরের সাতটি পয়েন্টে বোমা হামলা চালায় জঙ্গিগোষ্ঠী। সাতক্ষীরা শহরের বাঁকাল ইসলামপুর চরের বাসিন্দা পকেটমার রওশন আলীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সিরিজ বোমা হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় জেএমবি জঙ্গি নাসির উদ্দিন দফাদার। ধৃত নাসিরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ১৭ আগষ্ট রাত নয়টার দিকে শহরের ইটাগাছা এলাকার বাসিন্দা অপর জঙ্গি মনিরুজ্জামান মুন্নাকে পুলিশ গ্রেফতার করে। শায়খ রহমান ও বাংলাভাইয়ের নির্দেশে ইসলামী আইন বাস্তবায়নের দাবিতে সিরিজবোমা হামলার দায়-দায়িত্ব স্বীকার করে জেএমবি জঙ্গি নাসির উদ্দিন দফাদার ও মনিরুজ্জামান মুন্না। তৎকালীন সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি গোলাম মোহাম্মদ ধৃত দুই জেএমবি জঙ্গির স্বীকারোক্তির ভিডিওচিত্র ধারণ করেন নিজ উদ্যোগে। একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও দুই জঙ্গির জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিওচিত্র ধারণ করে সাতক্ষীরায় প্রথম জেএমবি জঙ্গিগোষ্ঠীকে শনাক্ত করার পরও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর চাপে ২০ আগষ্ট পুলিশ হেডকোয়ার্টারের দিকনির্দেশনায় তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ সমর্থিত লোকজনকে গ্রেফতার করতে বলা হয়। পুলিশ হেডকোয়ার্টারের এ নির্দেশনা সব থানায় পৌঁছে যায়। কিন্তু ধৃত জেএমবি জঙ্গি নাসির ও মুন্নার স্বীকারোক্তিমহৃলক জবানবন্দি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে (এটিএন বাংলা) প্রচারিত হওয়ার পর বিপাকে পড়েন সদর থানার ওসি গোলাম মোহাম্মদ। পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে তাকে শোকজ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সিরিজ বোমা হামলার দায়-দায়িত্ব আওয়ামী লীগের ঘাড়ে চাপিয়ে জেএমবিকে আড়াল করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয় জোট সরকারের শীর্ষ নেতারা। পর্যায়ক্রমে সিরিজ বোমা হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজন জেএমবি জঙ্গি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। গ্রেফতারকৃত জেএমবি জঙ্গিরা জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক বলে প্রকাশ পায়। পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ হন স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর জনৈক নেতা। সিরিজ বোমা হামলার দায়-দায়িত্ব স্বীকার করে ছয়জন জেএমবি জঙ্গি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমহৃলক জবানবন্দি প্রদান করে। এরপর পুলিশের বিশেষ শাখার উদ্যোগে সন্দেহভাজন জেএমবি জঙ্গিদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। ধর্মের নামে উগ্র জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের বিরুদ্ধেদ অভিযান শুরু হলে সদর থানার ওসির ওপর ক্ষেপে যান সাবেক জামায়াত এমপি মাওলানা আঃ খালেক মণ্ডল। সাতক্ষীরা জেলায় তালিকাভুক্ত ১২৯ জেএমবি জঙ্গির বিরুদ্ধে ধর্মের নামে উগ্র জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেয় পুলিশ। বিষয়টি জামায়াত নেতা আঃ খালেক জানতে পেরে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। সদর থানার তৎকালীন ওসি গোলাম মোহাম্মদ বাদী হয়ে তালিকাভুক্ত ১২৯ জেএমবি জঙ্গিকে আসামি করে ২০০৫ সালের ১ অক্টোবর বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করেন। মামলা নং-১০। এ মামলা দায়েরের খবর বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হলে চরম ক্ষুব্ধ হন সাবেক জামায়াত এমপি আঃ খালেক মণ্ডল। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে ওইদিন রাতেই পুলিশ ১২৯ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা
মামলার এজাহার রদবদল করতে বাধ্য হয়। মামলার নম্বর ঠিক রেখে আসামির তালিকায় ১২৯ জনের পরিবর্তে ১১ জনকে দেখানো হয়। তবে পুলিশ তালিকাভুক্ত জেএমবি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করলে আবারো ক্ষুব্ধ হন জামায়াত নেতা আঃ খালেক। তবে ওই জামায়াত নেতা তালিকাভুক্ত তিন জেএমবি জঙ্গির নাম একটি চিরকুটে লিখে তাদের না ধরার জন্য সদর থানার ওসিকে অনুরোধ করেন। সাবেক জামায়াত এমপির অনুরোধ উপেক্ষা করে পুলিশ তালিকাভুক্ত জেএমবি জঙ্গি সদর উপজেলার তনুইগাছা গ্রামের আশরাফ মাষ্টার (২৬ নং) ও টেংরা গ্রামের রিয়াজ হাজিকে গ্রেফতার করলে তিনি আরো ক্ষেপে যান। অপর তালিকাভুক্ত জঙ্গি সদর উপজেলার তনুইগাছা গ্রামের মাওলানা ওহিকুর রহমান (৩৩ নং) ও কুশখালী গ্রামের আলাউদ্দিন মোড়লকে (২৮ নং) আটক করার জন্য পুলিশ বিরামহীন অভিযান চালাতে থাকলে ২০০৫ সালের ২৪ অক্টোবর সাবেক এমপি আঃ খালেক সদর থানার ওসি গোলাম মোহাম্মদকে অন্যত্র বদলির জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার পাঠান। বিভিন্ন সময়ে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে সাবেক এমপি মাওলানা আঃ খালেকের বিরুদ্ধে পুলিশ সদর থানায় সাতটি জিডি করে। এরপরও জেএমবি জঙ্গিগোষ্ঠী প্রধান পৃষ্ঠপোষক মাওলানা আঃ খালেক ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতার কারণে। তবে মাওলানা আঃ খালেক পত্রিকায় বিবৃতি দিয়ে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগকে তিনি ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দিয়েছেন।

Permalink

চালের দাম‌

চালের দাম আকাশচুম্বী হচ্ছে অথচ সরকারের তেমন কোন প্রতিক্রিয়া নেই। খোলা বাজারে বিক্রি করে কি সব মানুষের ঘরে চাল পৌছানো যাবে?

Permalink

ইমেইল করুন

Your Name :
Your Email :
Subject :
Message :
Image (case-sensitive):

Permalink

BBC Asia-Pacific

CNN.com - Asia