কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

bdnews24

মহারথীদের পতন, স্বাধীনতাবিরোধীরা ধরাশায়ী

সমকাল ডেস্ক

এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রভাবশালী প্রার্থী হেরে গেছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা। পরাজিতদের মধ্যে আছেন অনেক সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী।

সবশেষে পাওয়া খবর অনুযায়ী পরাজিতরা হলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য এম সাইফুর রহমান, বিএনপি মহাসচিব ও সাবেক চিফ হুইপ খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সাবেক মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা সভাপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এম শামসুল ইসলাম, সাবেক উপ-রাষ্ট্রপতি মওদুদ আহমদ,

জামায়াতে ইসলামীর সেত্রেক্রটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, বিএনপির সাবেক মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া (স্বতন্ত্র), সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম, স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর (স্বতন্ত্র), মহাজোট প্রার্থী সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জামায়াত নেতা আবদুস সুবহান, ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, বিএনপি নেতা মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, লে. জে. (অব) মাহবুবুর রহমান, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এহছানুল হক মিলন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটল, রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, মুফতি ফজলুল হক আমিনী, কৃষক শ্রমিক লীগের কাদের সিদ্দিকী প্রমুখ।

স্বাধীনতাবিরোধী প্রার্থীদের মধ্যে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ছাড়া অন্যরা শোচনীয়ভাবে হেরে গেছেন। তারা হলেন- মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, এটিএম আজহারুল ইসলাম, আবদুস সুবহান, আবদুল খালেক মণ্ডল, রিয়াছাত আলী বিশ্বাস, আবদুল আজিজ, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ।

সমকাল, ৩০ ডিসেম্বর, ২০০৮

Permalink

অধিকাংশ মন্ত্রী-ভিআইপি ধরাশায়ী

যুগান্তর রিপোর্ট :
রাজনীতির অঙ্গনের বেশকিছু চেনামুখ মন্ত্রী, ভিআইপির পতন হল এবার। নবম সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোট সরকারের অধিকাংশ সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন ভিআইপি প্রার্থী ধরাশায়ী হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে দল ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবিতে থাকা এসব জাঁদরেল নেতার অনেককে নবীনদের কাছেও হার মানতে হয়েছে।
পরাজিতদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্প ধারার চেয়ারম্যান একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, বিএনপির প্রবীণ নেতা সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমদ, বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী আবদুল মান্নান ভূঁইয়া, জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, বিএনপি মহাসচিব ও সাবেক চিফ হুইপ খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন, সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকী, স্থায়ী কমিটির অপর চার সদস্য ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী এম শামসুল ইসলাম, চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট খোন্দকার মাহবুবউদ্দিন আহমাদ, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আসম হান্নান শাহ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ একটি আসনে বিজয়ী হলেও আরেকটি আসনে তার ভরাডুবি হয়েছে।
এছাড়াও এসব সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, মেয়র ও ভিআইপির মধ্যে রয়েছেনÑ বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী তরিকুল ইসলাম, সাবেক ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ও সাবেক দফতরবিহীন মন্ত্রী হারুনার রশিদ খান মুন্নু, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের চেয়ারম্যান ও সাবেক নৌমন্ত্রী আসম আবদুর রব, জোট সরকারের সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন, ঢাকার মেয়র ও নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি সাদেক হোসেন খোকা, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও সাবেক সাংসদ মুফতি ফজলুল হক আমিনী, জামায়াত নেতা ও সাবেক সাংসদ মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহছানুল হক মিলন, সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটল, সাবেক প্রতিমন্ত্রী কবির হোসেন, এবায়দুল হক চৌধুরী ও নুরুল হুদা, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রাজশাহীর মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, সাবেক ত্রাণ উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু প্রমুখ।
সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল জানতে টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখেন সারাদেশের মানুষ। ফলাফলে বিএনপিসহ চারদলীয় জোট ও অন্যান্য দলের জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের ভরাডুবির খবরে হতচকিত হয়ে যান তারা। ফলে এ নিয়ে শুরু করেন চুলচেরা বিশ্লেষণ। কেন তাদের এ পরিণতি হল তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেন তারা। একদিকে আওয়ামী লীগসহ মহাজোটের নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বসিত হন, অন্যদিকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তবে অনেকে এ ফলাফলকে প্রত্যাশিত বলেই মন্তব্য করেছেন। বলেছেন, এটাই তাদের পাওনা। আজকে দুর্নীতিতে বাংলাদেশের নাম শীর্ষে থাকার পেছনে তাদের অনেকের মুখ্য ভূমিকা রয়েছে। আবার অনেকে ওয়ান-ইলেভেন সৃষ্টির নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছেন।
মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্প ধারার চেয়ারম্যান একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবার আওয়ামী লীগের সুকুমার রঞ্জন ঘোষের কাছে এবং ঢাকা-৬ আসনে আওয়ামী লীগের নতুন মুখ মিজানুর রহমান খান দিপুর কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন। মুন্সীগঞ্জে তার অবস্থান তৃতীয়। প্রাপ্ত ভোট ৩৪ হাজার ১৪৭। এখানে বিজয়ী সুকুমার রঞ্জন ঘোষ পেয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ১২০ ভোট। দ্বিতীয় হয়েছেন বিএনপির শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। তার প্রাপ্ত ভোট ৯৮ হাজার ৭৮১। ঢাকা-৬ আসনে বি. চৌধুরী তৃতীয় হয়েছেন। ৬৬ হাজার ৫৭৯ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন দিপু। ৪৪ হাজার ৩৪০ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন বিএনপির সাদেক হোসেন খোকা। অথচ গত নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বদরুদ্দোজা চৌধুরী ৯৪ হাজার ৪০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। অন্যদিকে সুকুমার রঞ্জন ঘোষ পেয়েছিলেন ৬৪ হাজার ৯৯৪ ভোট।
পঞ্চগড়-১ আসনে সাবেক স্পিকার জমিরউদ্দিন সরকার মহাজোট প্রার্থী মজাহারুল হক প্রধানের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন। মজাহারুল হক পেয়েছেন ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৫০ ভোট। আর জমিরউদ্দিন পেয়েছেন এক লাখ ৭ হাজার ৭২৬ হাজার ভোট। এখানে তিনি ৪৮ হাজার ৮২৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। অথচ বিগত নির্বাচনে তিনি পেয়েছিলেন ৮১ হাজার ৬৬৪ ভোট এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মোঃ নূরুল ইসলাম পেয়েছিলেন ৭০ হাজার ১৫৫ ভোট।
কুমিল্লা-১১ আসনে এবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমদকে পরাজিত করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুজিবুল হক। এ আসন থেকে বহুবারের নির্বাচিত সাংসদ কাজী জাফর গত নির্বাচনে অংশ নেননি।
বিএনপির প্রবীণ নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান এবার সিলেট-১ ও মৌলভীবাজার-৩ আসনেই ভরাডুবির পথে। সিলেট-১ আসনে এবার আওয়ামী লীগ নেতা আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে তিনি অনেক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। আবুল মাল আবদুল মুহিত ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৩৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। সাইফুর রহমান ১ লাখ ৪০ হাজার ৩৬৭ ভোট পান। মৌলভীবাজার-৩ আসনে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৮৯২ ভোট। বিজয়ী আওয়ামী লীগের সৈয়দ মহসিন আলী পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৩৩ ভোট। বিগত নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে তিনি ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩১৩ ভোট পেয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল মাল আবদুল মুহিত পেয়েছিলেন ৯৩ হাজার ২১৮ ভোট।
নোয়াখালী-৫ আসনে মহাজোট প্রার্থী আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ১১ হাজার ২০৪। অন্যদিকে ওবায়দুল কাদের পেয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ৫৭৫ ভোট। গত নির্বাচনে তিনি পেয়েছিলেন ৮৪ হাজার ৫২৪ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী ওবায়দুল কাদের পেয়েছিলেন ৪৫ হাজার ৯০৬ ভোট।
নরসিংদী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া এবার মহাজোট প্রার্থী আওয়ামী লীগের জহিরুল হক মোহনের কাছে ধরাশায়ী হলেন। মান্নান ভূঁইয়ার প্রাপ্ত ভোট ৬৬ হাজার ৯৪১ ও মোহনের প্রাপ্ত ভোট ৯৩ হাজার ৭৪৬। অবশ্য এ আসনে তার আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন একসময়ের তার শিষ্য চারদলীয় জোটের প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার। মান্নান ভূঁইয়া বিগত নির্বাচনে ৬১ হাজার ৪৫৩ ভোট পেয়েছিলেন। ওই সময় তার প্রতিদ্বন্দ্বী মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া পেয়েছিলেন ৪৪ হাজার ৯৬০ ভোট।
মানিকগঞ্জ-১ আসনে একাধিকবারের সাংসদ বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে এবার আওয়ামী লীগের এবিএম আনোয়ারুল হকের কাছে হার মানতে হচ্ছে। আনোয়ারুল হক পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪১৯ ভোট। আর দেলোয়ার পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৯৫৬ ভোট। বিগত নির্বাচনে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ৮৫ হাজার ৪৪৫ ভোট পেয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের আবদুস সালাম পেয়েছিলেন ৫৯ হাজার ৫৪১ ভোট।
জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামীকে পাবনা-১ আসনে এবার আওয়ামী লীগের শামসুল হক টুকুর কাছে হার মানতে হয়েছে। টুকু পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯২৪ ভোট। আর নিজামী পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৯৪৪ ভোট। গত নির্বাচনে মতিউর রহমান নিজামী ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯৮২ ভোট পেয়েছিলেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের আবু সাইয়িদ পেয়েছিলেন ৯৮ হাজার ১১৩ ভোট।
কুমিল্লা-১ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে আওয়ামী লীগের সুবিদ আলী ভূঁইয়ার কাছে হার মানতে হয়েছে। অথচ বিগত নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ২৮ হাজার ৬৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। ৫৪ হাজার ৬৫১ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের হাসান জামিল সাত্তার।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী এম শামসুল ইসলাম মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের এম ইদ্রিস আলীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৭৮৫ ভোট। ইদ্রিস আলী ১ লাখ ২০ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
চট্টগ্রাম-১৪ আসনে এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ জামায়াতের শামসুল ইসলামের কাছে পরাজিত হলেও চট্টগ্রাম-১৪ আসনে আফসারউদ্দিনের সঙ্গে জয়ী হয়েছেন। শামসুল পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৩৩৯ ও অলি আহমদ পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৪১২ ভোট। চট্টগ্রাম-১৩ আসনে অলি পেয়েছেন ৮২ হাজার ৩৬ ভোট। আফসারউদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন ৬১ হাজার ৬৪৬ ভোট। অথচ গত নির্বাচনে তিনি ৭০ হাজার ১৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তখন তার প্রতিদ্বন্দ্বী আফসারউদ্দিন পেয়েছিলেন ৫৭ হাজার ৭শ’ ভোট। চট্টগ্রাম-১৪ আসনেও ধরা কর্নেল অলি। এ আসনে তিনি আওয়ামী লীগের একেএম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর কাছে হেরেছেন। অবশ্য বিগত নির্বাচনেও তিনি ওই আসনে ৬৪ হাজার ১৮৪ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। ১ লাখ ৬ হাজার ৭৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরী।
ফরিদপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের খন্দকার মোশাররফ হোসেনের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন জোট সরকারের সাবেক দুই মন্ত্রী বিএনপির সহ-সভাপতি চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। এখানে মোশাররফ হোসেন ১ লাখ ২২ হাজার ৪১৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন। আর চৌধুরী কামাল ৭৫ হাজার ৩৬৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় এবং মুজাহিদ ২৫ হাজার ১১৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান লাভ করেন।
চারদলীয় জোট সরকারের ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকীর নওগাঁ-৩ আসনে মহাজোট প্রার্থী আকরাম হোসেন চৌধুরীর কাছে ভরাডুবি হয়েছে। তিনি ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৪০ ভোট পেয়েছেন। আকরাম হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ৬৭ লাখ ১৫ হাজার ৭৪০ ভোট।
যশোর-৩ আসনে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের খালেদুর রহমান টিটো। সেখানে বিএনপির তরিকুল ইসলাম ১ লাখ ২২ হাজার ৫৩৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন। বিজয়ী টিটো ১ লাখ ৬৬ হাজার ১৯২ ভোট পান।
পটুয়াখালী-১ আসনে মহাজোট প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়ার কাছে ভরাডুবি হয়েছে বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর। এখানে শাহজাহান মিয়া পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ১৩২ ভোট। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ পেয়েছেন ৭৩ হাজার ১৭ ভোট।
ঢাকার মেয়র ও বিএনপির সাবেক নগর সভাপতি সাদেক হোসেন খোকা ঢাকা-৬ আসনে এবার আওয়ামী লীগের তরুণ নেতা মিজানুর রহমান খানের কাছে পরাজিত হলেন। বিগত নির্বাচনে খোকা ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৮৬ পেয়ে জয়ী হন। ৯৮ হাজার ২২৯ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছিলেন মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।
ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান সাবেক সাংসদ মুফতি ফজলুল হক আমিনী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মহাজোট প্রার্থী জাতীয় পার্টির জিয়াউল হক মৃধার সঙ্গে ধরাশায়ী হয়েছেন। মৃধা পেয়েছেন ৫২ হাজার ৫৬৫ ভোট। আমিনী পেয়েছেন ২২ হাজার ২৪৪ ভোট।

যুগান্তর, ৩০ ডিসেম্বর, ২০০৮

Permalink

স্বাধীনতাবিরোধী প্রার্থী দুই জোটেই

চার দলে ১৭, মহাজোটে দুই, স্বতন্ত্র দুজন

ওয়াসেক বিল্লাহ্

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা, গণহত্যা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত অন্তত ২১ জন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন। তাঁদের ১৬ জন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। বিএনপির একজন। আর দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির আরও দুজন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটে মনোনয়ন পেয়েছেন দুজন স্বাধীনতাবিরোধী।

২০০৭ সালের বাতিল হওয়া নির্বাচনেও বেশ কয়েকজন স্বাধীনতাবিরোধী চারদলীয় জোটের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তবে সে সময় মহাজোটে এমন কেউ ছিলেন না। গত ১৬ মে সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর আওয়ামী লীগের মুখপাত্র সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, স্বাধীনতাবিরোধী কেউ যেন ভবিষ্যতে দলের মনোনয়ন না পান, সে বিষয়ে তাঁরা সতর্ক থাকবেন।
এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ্ প্রথম আলোকে বলেন, "আওয়ামী লীগ আমাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে ওয়াদা করেছিল, তারা যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে আঁতাত করবে না, স্বাধীনতাবিরোধীদের মনোনয়ন দেবে না। কিন্তু তারা ওয়াদা ভঙ্গ করেছে। এর জবাব জনগণ দেবে।"
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা জাতীয় পার্টির সঙ্গে আলোচনা করবেন।

জামায়াতের স্বাধীনতাবিরোধী প্রার্থীরা: পাবনা-১ আসনে প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তান আলবদর বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন (সুত্র: এ এস এম সামছুল আরেফিনের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান, পৃ-৪২৭)। ১৯৭১ সালের ১৪ নভেম্বর জামায়াতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম-এ "বদর দিবস: পাকিস্তান ও আলবদর" শিরোনামে একটি উপসম্পাদকীয়তে তিনি লিখেছিলেন, "...শুধু পাকিস্তান রক্ষার আত্মরক্ষামূলক প্রচেষ্টা চালিয়েই এ পাকিস্তানকে রক্ষা করা যাবে না।"
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ আলবদর বাহিনীর কেন্দ্রীয় সংগঠক ছিলেন। তিনি এবার ফরিদপুর-৩ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ১৯৭১ সালের ১৭ অক্টোবর রংপুরে পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের এক সভায় তিনি আলবদর বাহিনী গড়ে তুলতে দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন (সুত্র: ফোর্টনাইটলি সিক্রেট রিপোর্ট অন দ্য সিচুয়েশন ইন ইস্ট পাকিস্তান)।

শেরপুর-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান। ১৯৭১ সালের ১৬ আগস্ট দৈনিক সংগ্রাম-এর একটি প্রতিবেদনে তাঁকে ময়মনসিংহ জেলা আলবদর বাহিনীর প্রধান সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

রংপুর-২ আসনের প্রার্থী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এ টি এম আজহারুল ইসলাম আলবদর বাহিনীর রাজশাহী জেলা শাখার প্রধান ছিলেন। ফোর্টনাইটলি সিক্রেট রিপোর্ট অন দ্য সিচুয়েশন ইন ইস্ট পাকিস্তানে এ টি এম আজহার মুক্তিযোদ্ধাদের শায়েস্তা করতে তৎপর ছিলেন বলে উল্লেখ আছে।

নির্বাহী পরিষদের সদস্য পাবনা-৫ আসনে চার দলের প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ সুবহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনার শান্তি কমিটির প্রধান ছিলেন (মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান, পৃ-৪১১)। পাবনার একাধিক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জানান, একাত্তরের জুন মাসে মাওলানা সুবহানের নেতৃত্বে পাবনায় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মাওলানা কাসিমউদ্দিনকে হত্যা করে শান্তি কমিটি। তাঁরা জানান, স্বাধীনতার ৩৫ বছর পরও মাওলানা সুবহানকে তাঁরা ভয় করেন।

নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলী চট্টগ্রাম জেলা আলবদর বাহিনীর প্রধান রাজাকার বাহিনীর প্রধান ও আলবদর বাহিনীর কেন্দ্রীয় সংগঠক ছিলেন। তিনি ঢাকা-৮ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ২ আগস্ট চট্টগ্রামের মুসলিম হলে এক সমাবেশে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ করে বলেন, "গ্রামগঞ্জের প্রতিটি এলাকায় খুঁজে খুঁজে শত্রুর শেষচিহ্ন মুছে ফেলতে হবে (সুত্র: দৈনিক সংগ্রাম)।"
পিরোজপুর-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী (নির্বাহী কমিটির সদস্য) দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীও স্বাধীনতাবিরোধী একজন চিহ্নিত ব্যক্তি।

আমাদের গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধা-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রাজাকার বাহিনীর সদস্য আবু সালেহ মোহাম্মদ আবদুল আজিজ মিয়া রাজাকার বাহিনীর সদস্য ছিলেন বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লায়েক আলী খান। পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাঁকে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়কের মাঠের হাটসংলগ্ন সেতু পাহারা দেওয়ার সময় মুক্তিযোদ্ধা মনে করে একটি ঘোড়াকে গুলি করে মেরে ফেলেন। এর পর থেকে এলাকায় তাঁর নাম হয় "ঘোড়া মারা আজিজ"।
সাতক্ষীরার জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক এনামুল হক বিশ্বাস প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আবদুল খালেক নৃসংশতার জন্য "জল্লাদ খালেক" বলে পরিচিত ছিলেন। এপ্রিল মাসে আবদুল আজিজ সাতক্ষীরা শহরে পুলিন বিহারী ব্যানার্জির বাড়ি দখল করে নেন। যুদ্ধের পর তিনি পালিয়ে যান।
সাতক্ষীরা-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী এম রিয়াসত আলী বিশ্বাস ছিলেন আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের শান্তি কমিটির সেক্রেটারি। আশাশুনি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মতিয়ার রহমান বলেন, "একাত্তরের আগস্ট মাসে তাঁকে ধরে আনেন এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা। কিন্তু রোজার মাস হওয়ায় আমি তাঁকে হত্যা না করে বাসায় দিয়ে এসেছিলাম। তখন সে কথা দিয়েছিল আর রাজাকার থাকবে না; কিন্তু ওই কথা রাখেনি।"

শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনীর কেন্দ্রীয় সংগঠক শাহ্ মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস (মুক্তিযুদ্ধে ব্যক্তির অবস্থান, পৃ-৪২৮) মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন খুলনা-৬ আসনে। ঠাকুরগাঁওয়ের আলবদর বাহিনীর সদস্য মাওলানা আবদুল হাকিম মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনে।

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানও শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন বলে চুয়াডাঙ্গার গেরিলা কমান্ডার আবদুল হান্নানের স্বাধীনতা যুদ্ধে বৃহত্তর কুষ্টিয়া বইয়ের ১৯১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে।
সিলেট বিভাগীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল প্রথম আলোকে জানান, সিলেট-৫ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ফরিদউদ্দিন চৌধুরী আলবদর বাহিনীর সদস্য ছিলেন। সিলেট-৬ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হাবীবুর রহমান তখন জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ করতেন।

কক্সবাজার-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী এনামুল হক মঞ্জু মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি ছিলেন ও আলবদরের প্লাটুন কমান্ডার ছিলেন (সুত্র: একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা কে কোথায়, পৃ-১৪৬)।

বিএনপির তিনজন: চট্টগ্রাম-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী একাত্তরের ১৩ এপ্রিল চট্টগ্রামের বিশিষ্ট সমাজসেবী নতুন চন্দ্র সিংহ হত্যাকান্ডে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ আছে। সেদিন নতুন চন্দ্রকে তাঁর বাড়ি কুন্ডেশ্বরী ভবন থেকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে আসেন সাকা চৌধুরী। এরপর পাকিস্তান বাহিনীর একজন মেজর তাঁকে গুলি করেন। পরে সাকা চৌধুরী তাঁকে তিনটি গুলি করেন। একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা কে কোথায় বইয়ে এ তথ্য রয়েছে।

বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে জয়পুরহাট-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন আবদুল আলীম। তাঁর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিদের সারিতে দাঁড় করিয়ে নিজের হাতে গুলি করে মারার অভিযোগ আছে। তিনি ছিলেন শান্তি কমিটির অন্যতম সংগঠক ও জয়পুরহাট মহকুমার চেয়ারম্যান ( সুত্র: একাত্তরের ঘাতক দালালরা কে কোথায়)। গত ৪ নভেম্বর সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধীর তালিকাতেও আবদুল আলীমের নাম আছে।

ভোলা-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মোশারেফ হোসেন শাজাহান। তিনি "৭০-এ প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হয়েও মুক্তিযুদ্ধের সময় দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন।

মহাজোটের দুজন ও আরেকজনকে নিয়ে প্রশ্ন: পিরোজপুর-৩ থেকে মহাজোটের মনোনয়ন পেয়েছেন জাতীয় পার্টির আবদুল জব্বার। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মঠবাড়িয়ায় শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন মঠবাড়িয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এ ইউ এম নাছিরউদ্দিন। তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধের পর পর জব্বার এলাকা থেকে পালিয়ে যান। সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মামলাও হয়। তাঁর মনোনয়ন বদলের দাবিতে মঠবাড়িয়ায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মানববন্ধনসহ নানা কর্মসুচি পালন করেছে।
যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে মহাজোটের মনোনয়ন পেয়েছেন জাতীয় পার্টির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন। তিনি ১৯৯১ সালে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে এ আসন থেকে জয়ী হন। কেশবপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার কাজী রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, "সাখাওয়াত হোসেন একজন কুখ্যাত রাজাকার। মুক্তিযুদ্ধের সময় সে কেশবপুরের মানুষের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে, লুট করেছে।" সাখাওয়াতের মনোনয়ন বদলের দাবিতেও কেশবপুরে মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।

নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনে জাতীয় পার্টি ও মহাজোটের প্রার্থী ফারুক কাদেরের প্রয়াত বাবা মুসলিম লীগের নেতা কাজী কাদের স্বাধীনতাবিরোধীদের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধুর সরকার তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল করেছিল। সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সন্দেহভাজন যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় কাজী কাদেরের নাম আছে। তাঁর ছেলেকে মহাজোটের মনোনয়ন দেওয়ায় সিদ্ধান্ত বদলের দাবিতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্বজনেরা কালীগঞ্জ বধ্যভুমির সামনে মানববন্ধন করেছেন।
প্রথম আলো, ০৬ ডিসেম্বর, ২০০৮

Permalink

সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম এর দেয়া ৫০ যুদ্ধাপরাধীর তালিকা

সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম এর দেয়া ৫০ যুদ্ধাপরাধীর তালিকা

১. গোলাম আজম
২. মওলানা এ কে এম ইউসুফ
৩. মতিউর রহমান নিজামী
৪. দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী
৫. মো: কামরুজ্জামান
৬. মওলানা আব্দুর রহিম
৭. আব্বাস আলী খান
৮. আলী আহসান মোহাম্মদ মোজাহিদ
৯. আব্দুল কাদের মোল্লা
১০. মোহাম্মদ হামিদুল হক চৌধুরী
১১. খাজা খায়রুদ্দিন
১২. মোহাম্মদ আলী
১৩. মোহাম্মদ আব্দুল আলীম
১৪. এএমএস সোলায়মান
১৫. সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী
১৬. ফজলুল কাদের চৌধুরী
১৭. জুলমত আলী খান
১৮. কাজী কাদের
১৯. খান আব্দুস সবুর খান
২০. মওলানা ফরিদ আহমেদ
২১. শাহ্ মোহাম্মদ আজিজুর রহমান
২২. মাওলানা আব্দুল মান্নান
২৩. ডা: আবু মোতালেব মালেক
২৪. মোহাম্মদ ইউনুস
২৫. এবিএম খালেক মজুমদার
২৬. এএন এম ইউসুফ
২৭. নুরুল আমিন
২৮. এ কিউ এম শফিউল ইসলাম
২৯. আবদুল মতিন
৩০. এড. মোহাম্মদ আইনুদ্দিন
৩১. মাওলানা নুরুজ্জামান (আইআরপি)
৩২. মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক
৩৩. গোলাম সরোয়ার
৩৪. মোহাম্মদ আকতার উদ্দিন আহমেদ
৩৫. মাওলানা আবদুস সোবাহান
৩৬. ক্যাপ্টেন (অব: ) আব্দুল বাছেদ
৩৭. আবদুল মতিন ভূঁইয়া
৩৮. মোহাম্মদ আবুল কাশেম
৩৯. ওবায়দুল্লাহ মজুমদার
৪০. মীর কাশেম আলী
৪১. ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বার
৪২. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
৪৩. মোহাম্মদ আবদুল হান্নান
৪৪. ব্যারিস্টার কোরবান আলী
৪৫. আশরাফ হোসাইন
৪৬. এড. আনসার আলী
৪৭. মোহাম্মদ কায়সার
৪৮. আবদুল মজিদ তালুকদা
৪৯. নওয়াজেস আহমেদ
৫০. একে মোশাররফ হোসেন।

Permalink

বিএনপি-জামায়াতের ত্রিমুখী আচরণ

হারুন আল রশীদ

নির্বাচনী আইন সংশোধন প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান তিন ধরনের। আদালতে মামলা দায়েরের সময়ে এক রকম, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে আরেক রকম এবং প্রকাশ্যে একবারে অন্যরকম। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, জামায়াতের যে ত্রিমূর্তি আচরণ, তার অন্ধ অনুসারী হয়ে পড়েছে বিএনপি।

বিএনপি ও জামায়াত সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহের মধ্যে সরকার, আদালত ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে যেসব দাবি-দাওয়া পেশ করেছে, সেসব দাবির একটির সঙ্গে অন্যটির কোনো মিল নেই। তারা আদালত এবং ইসির কাছে সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের সুনির্দিষ্ট কিছু বিধান বাতিলের দাবি জানালেও বাইরে সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের সব বিধান বাতিলের দাবি জানিয়ে যাচ্ছে। ১৮ ডিসেম্বর নির্বাচন করতে আপাতত সংশোধিত আইন বাতিল বা এ আইনে নতুন করে সংশোধনী আনা সম্ভব নয় জানার পরও তারা সরকার ও ইসির সঙ্গে দরকষাকষির চেষ্টা করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা বর্তমান সরকারের আইন সংশোধনের এখতিয়ার নিয়েও প্রশু তুলেছে। ইসির মতে, বিএনপি ও জামায়াত আসলে কী চায় তা তাদের কাছে স্পষ্ট নয়। যে কারণে বর্তমানে বিএনপি ও জামায়াতের দাবি-দাওয়া তাদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

জামায়াত ২৮ আগস্ট গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করে। এতে ২০২০ সালের মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সব পর্যায়ের কমিটিতে ৩৩ ভাগ নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা (ধারা ৯০-বি/১/বি/২), ছাত্র-শিক্ষক-শ্রমিক সমন্বয়ে অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন না করার বিধান (ধারা ৯০-বি/বি/৩), প্রবাসে দলের শাখা সংগঠন না রাখার বিধান (৯০-সি/ডি) এবং গঠনতন্ত্রে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও লিঙ্গ ভেদে কোনো বৈষম্য না রাখার বিধান (৯০-সি (১/বি) বাতিলের দাবি জানায়। একই সঙ্গে তারা সংবিধানের ৫৮-ঘ/১ অনুচ্ছেদের উল্লেখ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন সংশোধনের এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন সমকালকে বলেন, ‘জামায়াত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ধর্ম, বর্ণ সংক্রান্ত (৯০-সি ১/বি) বিধান বাতিলের যে দাবি জানিয়েছে, তা সংবিধানের সঙ্গে মিল আছে বলেই আমরা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে অন্তর্ভুক্ত করেছি। একই বিধান সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদেও রয়েছে।’

ইসির তৃতীয় দফা সংলাপ শুরু হওয়ার পর ৭ সেপ্টেম্বর বিএনপি এবং ৮ সেপ্টেম্বর জামায়াত ও ইসলামী ঐক্যজোট ইসিকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল, অর্থহীন সংলাপে তারা অংশ নেবে না। খালেদা জিয়ার মুক্তির পর হঠাৎ করেই বিএনপি তাদের মত পাল্টে সংলাপে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বিএনপির এ সিদ্ধান্তেরর পর জামায়াত এবং ইসলামী ঐক্যজোটেরও সুর পাল্টে যায়। তারাও সংলাপে অংশ নেওয়ার আগ্রহ জানিয়ে ইসিকে চিঠি দেয়।

২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সংলাপে জামায়াত এবং ইসলামী ঐক্যজোট ইসির কাছে লিখিত প্রস্তাব দাখিল করলেও বিএনপির পক্ষ থেকে তা করা হয়নি। ইসির কাছে মৌখিক প্রস্তাব দিয়েছে তারা। তবে তিনটি দলেরই প্রস্তাব ছিল অভিন্ন।

ইসিতে দাখিল করা জামায়াতের লিখিত দাবির সঙ্গে ২৮ আগষ্ট আদালতে দাখিল করা দাবির কিছুটা অমিল রয়েছে। বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী ঐক্যজোট সুস্পষ্টভাবে গণপ্রতনিধিত্ব আদেশের তিনটি বিশেষ ধারাসহ আরো একাধিক ধারা বাতিল অথবা ক্ষেত্রবিশেষ সংশোধনের দাবি জানায়। বিশেষ তিনটি ধারা হলো- ধারা ৯০-বি/১/বি/২, ৯০-সি (১/এ) ও ৯০-সি (১/বি)।

৯০-বি/১/বি/২ ধারা মতে, রাজনৈতিক দলের সব স্তরের কমিটিতে ৩৩ ভাগ নারীর প্রতিনিধিত্ব আগামী ২০২০ সালের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০-সি (১/এ) ধারায় রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের শর্তে বলা হয়েছে, দলীয় গঠনতন্ত্রের উদ্দেশ্যসমূহ সংবিধানের পরিপন্থী হতে পারবে না।

৯০-সি (১/বি) ধারায় বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্রে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও লিঙ্গভেদে কোনো বৈষম্য থাকতে পারবে না।

কিন্তু ওইদিন সংলাপ শেষে তিনটি দলই বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের জানায়, তারা সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ পুরোটাই বাতিলের দাবি জানিয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে একজন নির্বাচন কমিশনার ক্ষোভের সঙ্গে বলেছিলেন, ‘সবই যদি বাতিল করতে হয়, তাহলে সংলাপে বসে অহেতুক আমাদের সময় নষ্ট করা হলো কেন?’

একই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ড. এটিএম শামসুল হুদা ২২ সেপ্টেম্বর দুঃখ ও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘হায় আল্লাহ... ইয়া রাহমানুর রাহিম, পবিত্র মাহে রমজানে জামায়াত ও ইসলামী ঐক্যজোটের হুজুরদের মুখে এ আমি কী শুনিতে পাইলাম!’ বিস্ময়ের কারণ, আগের দুটি সংলাপে জামায়াত ও ইসলামী ঐক্যজোট আমাদের সিংহভাগ সংস্কার প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করলেও তৃতীয় দফা সংলাপে তারা সব ধরনের সংস্কারই নাকচ করে দিয়েছে।

ইসির মতে সংবিধানের ৯৩/১ অনুচ্ছেদ অনুসারে বর্তমান সরকারের আইন প্রণয়ন এবং সংশোধন করার এখতিয়ার রয়েছে। সংবিধানের ৯৩/১ অনুচ্ছেদে বলা আছে- ‘সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় অথবা উহার অধিবেশন ব্যতীত কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্টি’তি বিদ্যমান রহিয়াছে বলিয়া সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে, তিনি উক্ত পরিস্থিতিতে যেরূপ প্রয়োজনীয় বলিয়া মনে করিবেন, সেইরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিতে পারিবেন এবং জারি হইবার সময় হইতে অনুরূপভাবে প্রণীত অধ্যাদেশ সংসদ আইনের ন্যায় ক্ষমতাসম্পন্ন হইবে।’

ইসি ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কর্তৃক গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে সংশোধনের বিষয়টিকেও নজির হিসেবে দেখছে। ২০০১ সালের ৮ আগস্ট গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ সংশোধন করে গেজেট জারি করা হয়। তখন বিএনপি ও জামায়াত ওই সংশোধনীকে সাধুবাদ জানিয়েছিল। অপরদিকে আপত্তি জানিয়েছিল আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ ১২ আগস্ট তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমান, ১৩ আগস্ট সিইসি এম সাঈদ এবং ১৪ আগস্ট রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন সংক্রান্ত গেজেট বাতিলের দাবি জানায়। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ তা আমলে নেয়নি।

নির্বাচন কমিশনারদের মতে, ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আইন সংশোধন করতে পারলে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার পারবে না কেন? যে কারণে বিএনপি-জামায়াতের দাবিকে তারা পুরোপুরি অযৌক্তিক বলে মনে করছেন।

আদালত এবং ইসির বাইরে বিএনপি ও জামায়াত সরকারের সঙ্গে যে ধরনের দরকষাকষি করে যাচ্ছে তাকেও অযৌক্তিক বলে মনে করছে ইসি। সরকারের কাছে তারা যেসব দাবি-দাওয়া রেখে যাচ্ছে, তার সঙ্গে আদালত ও ইসির কাছে রাখা দাবির যথেষ্ট অমিল রয়েছে। যে কারণে ইসি মনে করে বিএনপি ও জামায়াতের দাবি সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নয়।

এ অবস্থায় ইসি আপাতত বিএনপি ও জামায়াতের দাবি আমলে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে ইসি থেকে সরকার পক্ষকে সুস্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ১৮ ডিসেম্বর নির্বাচন এবং ১ অথবা ২ নভেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে হলে নির্বাচনী আইনে আর কোনো ধরনের সংশোধনী আনা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নিতে হলে বিএনপি-জামায়াতসহ তাদের অন্য দুই শরিক দলকে আগামীকালের মধ্যেই দলের নাম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে।

Permalink

সব ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার হুমকি দিলেন আমিনী

সব ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার হুমকি দিলেন আমিনী
হজ মিনারের দাবিতে মিছিল
নিজস্ব প্রতিবেদক
ক্ষমতায় গেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরসহ সারা দেশে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে নির্মিত সব মূর্তি (ভাস্কর্য) ভেঙে ফেলার ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির আমির ও ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী।

গতকাল শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। তিনি ‘শিখা চিরন্তন’ ও ঢাকা সেনানিবাসে অবস্স্থিত ‘শিখা অনির্বাণ’ নিভিয়ে দেওয়ারও হুমকি দেন।
এক প্রশ্নের জবাবে মুফতি আমিনী বলেন, ‘যেগুলো স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইয়ে হিসেবে বানানো হইছে, সেগুলোর ব্যাপারে আমাদের আপত্তি নাই।’

তাহলে শিখা অনির্বাণের ব্যাপারে আপত্তি কেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘শিখা অনির্বাণ স্বাধীনতার কিছু হইতে পারে না। স্বাধীনতার সময় কি আগুন জ্বালানো হইছিল?’

চারদলীয় জোটের শরিক একটি দলের শীর্ষ নেতা মুফতি আমিনী আরও বলেন, দেশ ও জাতির কঠিন দুঃসময়ে বর্তমান সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতি দমনসহ প্রাথমিক বেশ কিছু পদক্ষেপে দেশবাসীর অকুন্ঠ সমর্থন লাভ করেছিল। কিন্তু ২১ মাসের জরুরি অবস্থার মধ্যে এই সরকারের দেশ ও ইসলামবিরোধী কিছু পদক্ষেপ মারাত্মক উৎকন্ঠার সৃষ্টি করেছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে নারী উন্নয়ন নীতিমালা, ব্র্যাকের হাতে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা তুলে দেওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে ভাস্কর্য নির্মাণের কথা উল্লেখ করেন। তিনি প্রথম আলো ও সাপ্তাহিক ২০০০-কে ইসলামবিরোধী পত্রিকা হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরীর সমালোচনা করেন।

মুফতি আমিনী বলেন, ‘আমাদের রাজনীতির থিউরি হচ্ছে, আমরা সব ক্ষমতার মালিক আল্লাহ্কে মনে করি। কাজেই এই দেশের ভবিষ্যৎ খুব অন্ধকার। একদিকে দেশ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে, আরেক দিকে ইসলামের বিরুদ্ধে কাজ হইতাছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে আমিনী বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় এলে হাসিনা যেসব মূর্তি বানাইছে ইউনিভার্সিটিতে, এইগুলো ভাইঙ্গা চুরমার কইরা দিব। হাসিনা এই দেশটাকে মূর্তির দেশ বানাইতেছে। ইউনিভার্সিটি চত্বরে যে মূর্তিগুলো বানানো হইছে, এটা মারাত্মক ইসলামবিরোধী এবং ইসলামি শক্তি ক্ষমতায় এলে এ সমস্ত মূর্তি রাখতে পারে না।’

খালেদা জিয়ার আমলেও তো কিছু বানানো হয়েছে, সেগুলো কী করবেন−এ প্রশ্নের জবাবে আমিনী পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘কোথায় বানাইছে?’

একজন সাংবাদিক বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৯২ সালে বানানো হয়েছে। আমিনীর জবাব, ‘ওইডা আমরা দেখি নাই। তার পরে আরেকটা জিনিস; আগুন পূজা হইতাছে, এইডারও আমরা বিরোধী। এই যে আগুন পূজা করে সেনাবাহিনীর দ্বারা, এইডারও আমরা বিরোধী। আমরা অনুরোধ করছি, আগুন পূজা আপনারা বন্ধ করুন। আগুনকে শ্রদ্ধা করা আর আগুন পূজা করা একই কথা।’ জোট সরকারের পাঁচ বছর এসব বলেননি কেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘তখন তো বলেছি, খালেদা জিয়াকে বলেছি তো ব্যক্তিগতভাবে। কিন্তু আমাদের কথায় কি কান দিছে? আমাদের তো ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি বানানো হইছে। আমাদের কোনো কথায় কান দেওয়া হই নাই।’

বিমানবন্দর চত্বর থেকে লালন শাহের ভাস্কর্য সরানোর দাবিতে মুফতি নুর হোসাইন নুরানীর নেতৃত্বে আন্দোলন সমর্থন করেন কি না−জানতে চাওয়া হলে মুফতি আমিনী বলেন, ‘নুরানী কে, আমরা ওনারে চিনি না।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, মাওলানা শফিউদ্দিন, মাওলানা আবুল কাশেম, আহরুল্লাহ ওয়াছেল প্রমুখ।

হজ মিনারের দাবিতে মিছিল: বিমানবন্দর গোলচত্বরে একটি ‘হজ মিনার’ নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন খতমে নবুওয়ত আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি নুর হোসাইন নুরানী। গতকাল উত্তরার ফায়দাবাদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে মিছিল-পূর্ব সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আশা করি সরকার অচিরেই মসজিদের নগর ঢাকার মর্যাদা ও সৌন্দর্য বর্ধনে জিয়া বিমানবন্দর গোলচত্বরে একটি আধুনিক হজ মিনার নির্মাণ করবে। অন্যথায় যেকোনো ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে আমরা হজ মিনার নির্মাণে সরকারকে বাধ্য করেই ঘরে ফিরব।’

‘বিমানবন্দর গোলচত্বর মূর্তি প্রতিরোধ কমিটি’র ব্যানারে এ কর্মসুচি পালিত হয়। এতে বক্তব্যকালে মুফতি নুরানী বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা ও অপপ্রচার করে কোনো লাভ নেই। কারণ, আমরা বাঘের গর্জন শুনে অভ্যস্ত, বানরের ভেংচিতে ভয় পাই না।’

মিছিলে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য সচিব ও জামেয়া বাবুস সালাম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আনিছুর রহমান এবং খতমে নবুওয়ত আন্দোলনের মহাসচিব আবদুল আলীম নিজামী। সমাবেশের পর একটি মিছিল এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মিছিলের সামনে পুলিশের একটি দলও ছিল।

প্রথম আলো, ১৮ অক্টোবর, ২০০৮

Permalink

ক্ষমতায় গেলে সব ‘মূর্তি’ ভেঙে ফেলার ঘোষণা আমিনীর

সমকাল প্রতিবেদক

‘২১ মাসের জরুরি অবস্থার মধ্যে সরকারের দেশ ও ইসলামবিরোধী কিছু পদক্ষেপে মারাত্মক উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে’ বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় আসলে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরসহ শেখ হাসিনার সময়কার যত মূর্তি আছে সব ভেঙে ফেলা হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে আমিনী বলেন, ‘আমরা শিখা অনির্বাণসহ সেনাবাহিনীর আগুন পূজারও বিরোধী।’
জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে গোলচত্বরে লালন ভাস্কর্য ভাংচুরের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুফতি আমিনী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জরুরি অবস্থায় রাজনৈতিক দলের মুখ বন্ধ করা যায়, ইসলামের মুখ বন্ধ করা যায় না।
সেনাশাসকরা যদি মনে করেন তারা চিরদিন ক্ষমতায় থাকবেন- তা অসম্ভব। অতীতে আওয়ামী লীগ-বিএনপিও তাই মনে করেছিল। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, সময় থাকতে সতর্ক না হলে আফসোস করতে হবে।
আমিনী বলেন, বর্তমান সরকার আবার মুসলমানদের মাতৃভূমিকে ‘পৌত্তলিক দেশ’ বানানোর কাজে হাত দিয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে আমিনী বলেন, খালেদা জিয়ার সময়ে তৈরি মূর্তিও ভাঙতে হবে। ওই সময় কেন শিখা অনির্বাণের বিরোধিতা করেননি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কথা তারা শোনেনি।
চারদলীয় ঐক্যজোটের এই শীর্ষ নেতা সাংবাদিকদের বলেন, লুকোচুরির কিছু নেই, সরকার ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ না করলে প্রয়োজনে হরতাল করব, রক্ত দেব, জরুরি অবস্থায় মার্শাল ল’ ভঙ্গ করব। এর আগে লিখিত বক্তব্যে তিনি অঙ্গীকার করেও নারী উন্নয়ন নীতিমালা বাতিল না করা, দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় হজরত মুহাম্মদের (সাঃ) ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ ও সাপ্তাহিক ২০০০-এ কাবা শরিফ অবমাননার দায়ে মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া, ব্র্যাকের হাতে প্রাথমিক শিক্ষা তুলে দেওয়া, সারাদেশে মূর্তি স্থাপন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাবিষয়ক কলেজের শিক্ষক ড. তাজ হাশমীকে দিয়ে ইসলামবিরোধী বক্তব্য প্রদানের সমালোচনা করেন।

ড. হাশমী সম্প্রতি সেনাবাহিনীর স্টাফ কলেজে ক্লাস নিতে আমন্ত্রিত হয়ে ঢাকায় আসেন। মুফতি আমিনী বলেন, ১৩ অক্টোবর প্রথম আলোতে ড. হাশমী বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতিকে বেআইনি ঘোষণার সুপারিশ, মাদ্রাসা শিক্ষার বিলুপ্তি, ধর্মাশ্রিত রাজনীতি উন্নতির অন্তরায় ইত্যাদি বক্তব্য দিয়েছেন। এ অবস্থায় কোনো মুসলমানের চুপ করে বসে থাকার সুযোগ নেই। তিনি অবিলম্বে ‘মুরতাদ’কে দেশ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান। এক প্রশ্নের জবাবে আমিনী বলেন, আর্মি স্টাফ কলেজের উচিত ড. হাশমীর ক্লাস না নেওয়া।

ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, মাওলানা শফিক উদ্দিন, মুফতি মোহাম্মদ তৈয়্যব, মাওলানা আবুল কাশেম, মাওলানা আহলুল্লাহ ওয়াছেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিরোধ কমিটির ঘোষণা

এদিকে অপসারিত ভাস্কর্যের জায়গায় হজ মিনার নির্মাণ কাজ শুরু না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে ‘বিমানবন্দর গোলচত্বর মূর্তি প্রতিরোধ কমিটি’। গতকাল জুমার নামাজ শেষে বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে এই ঘোষণা দেন মূর্তি প্রতিরোধ কমিটির প্রধান মুফতি নূর হোসাইন নূরানী।

উত্তরা ফায়দাবাদ জামে মসজিদ থেকে মিছিলটি বের হয়ে চুয়ারিরটেক, কোটবাড়ী হয়ে আবদুল্লাহপুরে এসে শেষ হয়। নূরানী কোনো অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে আগামী ২৪ অক্টোবর বাদ জুমা হজ ক্যাম্পের উত্তর গেটে অনুষ্ঠেয় সমাবেশ সফল করার আহ্বান জানান।
সমকাল, ১৮ অক্টোবর, ২০০৮

Permalink

‘পলাতক’ মুজাহিদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক!

পলাতক আসামি জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদের সঙ্গে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংলাপে অংশ নিলেন।

গতকাল মঙ্গলবার সরকার ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে অনুষ্ঠিত সংলাপে জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দলে আলী আহসান মুজাহিদও উপস্থিত ছিলেন।
একজন পলাতক আসামি কীভাবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করলেন- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাব প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্টি’ত উপদেষ্টাদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। তবে আলী আহসান মুজাহিদের আইনজীবী ও জামায়াত নেতা ব্যারিষ্টার আবদুর রাজ্জাক একটি বিভ্রান্তিকর জবাব দেন।

সংলাপে দলের আমির ও সেক্রেটারি জেনারেল ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আবদুল কাদের মোল্লা, ব্যারিষ্টার আবদুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট জসিমউদ্দিন, আবদুস সুবহান, রফিকউল ইসলাম খান, মকবুল আহমেদ, মোহাম্মদ কামারুজ্জামান ও এটিএম আজাহারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সরকারের পক্ষে শিক্ষা ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, যোগাযোগ উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম কাদের, আইন উপদেষ্টা হাসান আরিফ ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আনোয়ারুল ইকবাল উপস্থিত ছিলেন।
সংলাপে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনার বিচারসহ ১০ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে গ্যাটকো, নাইকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিসহ সব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের কতিপয় ধারা সংশোধন, আগের সীমানা অনুযায়ী নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা এবং মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী ৩১ মে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিকেলে প্রায় দুই ঘণ্টা দীর্ঘ সংলাপ শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ের শুরুতেই মাগরিবের নামাজের সময়ের কথা উল্লেখ করে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী তার বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। আলোচনাকালে আমরা নির্বাচনের আগে জরুরি আইন প্রত্যাহারসহ উপজেলা নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলেছি। সেইসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীসহ জেলে আটক জোট নেতাদের মুক্তি এবং তাদের ওপর থেকে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, জামায়াতের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তারা দেশে অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সরকারের কাছে বেশ ক’টি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন। এর মধ্যে নির্বাচনের আগে জরুরি আইন প্রত্যাহার, উপজেলা নির্বাচনের তারিখ কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া। এসব বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে তাদের আগ্রহের কথাও তুলে ধরা হয়।

তিনি বলেন, সরকার দেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে বদ্ধপরিকর। এ ব্যাপারে যে কোনো ধরনের উদ্যোগ নিতে সরকার পিছপা হবে না। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোসহ সবার আন্তরিক সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। তাদের কাছ থেকে সে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। রোডম্যাপ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ অন্য দলগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনে আরো আলোচনা হবে।

জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী মাগরিবের নামাজের কথা বলে তার বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করেন। একইভাবে শিক্ষা উপদেষ্টা তার বক্তব্য শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে মাত্র একটি প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা দেন। এ সময় সাংবাদিকরা সমস্বরে প্রতিবাদ জানান। জরুরি আইন প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কোনো দিন ঘোষণা করা হয়েছে কি-না। এ প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, জামায়াতের পক্ষ থেকে জরুরি আইন প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। বিষয়টি সরকার পর্যালোচনা করছে।

এরপর জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল পলাতক আসামি, তিনি কী করে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সংলাপে অংশ নিলেন- এ প্রশ্ন করা হলে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী দলের সেক্রেটারি জেনারেল এবং পুলিশের খাতায় পলাতক আসামি আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের আইনজীবী ব্যারিষ্টার আবদুর রাজ্জাককে দেখিয়ে দিয়ে তাকে প্রশ্নের জবাব দিতে বলেন।

ব্যারিষ্টার আবদুর রাজ্জাক বলেন, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ রয়েছে তার স্বপক্ষে উচ্চ আদালতে একটি আবেদন আছে, যা আগামী ১৬ অক্টোবর শুনানি হবে। যেহেতু বিষয়টি উচ্চ আদালতের বিবেচনাধীন আছে সেহেতু তার পক্ষে সংলাপে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা নেই। তিনি মুক্ত মানুষ এবং জামায়াতের সেত্রেক্রটারি জেনারেল হিসেবেই সংলাপে অংশ নিয়েছেন।

আবদুর রাজ্জাকের এ জবাবের পর সরকারি ভাষ্য জানতে শিক্ষা উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এবং আইন উপদেষ্টা হাসান আরিফের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা পলাতক আসামি আলী আহসান মুজাহিদকে নিয়ে দ্রুত ব্রিফিং কক্ষ ত্যাগ করেন।

Permalink

সরকারের সঙ্গে পলাতক আসামি মুজাহিদের বৈঠক, নানা প্রশ্ন

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে সরকারের সঙ্গে বৈঠক করলেন পলাতক আসামি জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ। গতকাল মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ ও চার উপদেষ্টার সঙ্গে সংলাপে জামায়াতের প্রতিনিধিদলে তিনিও ছিলেন।
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতির মামলায় জনাব মুজাহিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর পুলিশ তাঁকে পলাতক দেখিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। এর পরও তিনি কীভাবে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে গিয়ে সরকারের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংলাপ শেষে যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে সরকারের চার উপদেষ্টার সঙ্গে মুজাহিদও যোগ দেন। ব্রিফিংয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, একটির বেশি প্রশ্ন করা যাবে না। তার পরও সাংবাদিকেরা জোরাজুরি করে আরেকটি প্রশ্ন করেন। প্রশ্নটি হলো, পুলিশ আদালতকে জানিয়েছে, জনাব মুজাহিদ পলাতক, তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু তিনি সরকারের সঙ্গে সংলাপ করলেন, এখন কোনটা সঠিক? সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাব না দিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান মাইক ঠেলে দেন জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর দিকে। জনাব নিজামী মাইক ঠেলে দেন মুজাহিদের দিকে। জনাব মুজাহিদ বলেন, এ প্রশ্নের জবাব দেবেন ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক। জনাব রাজ্জাক বলেন, এ দেশের অনেক রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে মামলা আছে। সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও মামলা আছে। জনাব মুজাহিদ এই মামলায় হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেছিলেন, সেটির নিষ্পত্তি হয়নি। তবে আদালত ১৬ তারিখ পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। তাই মুজাহিদের আজকের সংলাপে যোগ দেওয়াটা বেআইনি হয়নি।
এ পর্যায়ে সাংবাদিকেরা সরকারের বক্তব্য জানতে বারবার প্রশ্ন করলেও কোনো জবাব না দিয়ে চার উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ, হোসেন জিল্লুর রহমান, আনোয়ারুল ইকবাল ও গোলাম কাদের তড়িঘড়ি করে উঠে চলে যান।
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতির মামলায় জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত গত ৬ অক্টোবর জামায়াতের নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার আমিনুল হকসহ নয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ১২ অক্টোবর পুলিশ সাইফুর রহমান ছাড়া অপর আটজনকে পলাতক উল্লেখ করে তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল বিষয়ে উত্তরা থানা পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, "গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়েছে। পলাতক থাকায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয় নাই।"
১২ অক্টোবর বিকেলে যখন পুলিশ এই প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়, ওই সময় জামায়াতের নেতা জনাব মুজাহিদ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে চলা চারদলীয় জোটের সমাবেশে বক্তৃতা করেন।
পুলিশের ওই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ১৬ অক্টোবরের মধ্যে আলোচ্য আসামিদের আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।
আদালতের এরূপ নির্দেশ দেওয়ার পর জনাব মুজাহিদ ছাড়া অন্যদের প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
দন্ডবিধির ২২০, ২২১ ও ২২২ ধারা মোতাবেক আদালতের এরূপ নির্দেশ উপেক্ষা করা হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মচারী সাত বছর কারাদন্ড বা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।
গতকাল এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পুলিশের মহাপরিদর্শক নুর মোহাম্মদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহ্দীন মালিক প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম স্পষ্টত প্রমাণ করে, সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছার কাছে আইন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নতজানু হয়ে পড়েছে। এ মামলার আসামিরা কে কোথায় আছেন, কোন অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন, সেসব অনুষ্ঠানের আয়োজনকারীসহ সবার কাছেই তা জানা। তিনি বলেন, একদিকে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করছেন, অন্যদিকে ঘটনাপ্রবাহে মনে হচ্ছে, সরকারের পক্ষ থেকে বলে দেওয়া হচ্ছে গ্রেপ্তার না করার জন্য। অর্থাৎ এ সরকারও আগের সরকারের মতো আইন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সুত্র জানায়, জনাব মুজাহিদকে সংলাপে যোগ দেওয়া থেকে বিরত রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। মুজাহিদকে ছাড়া জামায়াত সংলাপে যোগ দিতে রাজি হয়নি। তা ছাড়া বিএনপির সঙ্গে সমঝোতায় সরকারের পক্ষ থেকে জনাব মুজাহিদকে দুতিয়ালির কাজে লাগানোয় এ ক্ষেত্রে জামায়াত সে সুযোগ কাজে লাগিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সরকারি উচ্চপর্যায়ের সুত্র বলছে।
জামায়াতের বক্তব্য: জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে গত রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জনাব মুজাহিদের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের মতামত পাঠানো হয়।
এতে বলা হয়, মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজের আদালত থেকে আলী আহসান মুজাহিদকে আগামী ১৬ অক্টোবরের মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া তাঁর জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। তাঁর বিষয়টি বিচারাধীন আছে। এমতাবস্থায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা সমীচীন নয়। দেশের একজন নাগরিক ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তিনি সরকারের সঙ্গে সংলাপে অংশগ্রহণ করেছেন। এ ব্যাপারে তাঁর ও সরকারের জন্য আইনগত কোনো বাধা নেই।
এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ব্যারিস্টার রাজ্জাক গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কথা উল্লেখ না করলেও গত ১৩ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র দৈনিক সংগ্রামসহ অন্যান্য জাতীয় দৈনিকে পরোয়ানা জারির খবর ঠিকই ছাপা হয়েছে।

প্রথম আলো, ১৫ অক্টোবর, ২০০৮

Permalink

একাত্তরে যে সুযোগ হারিয়েছি আবার তা হারানো চলবে না

‘একাত্তরে যে সুযোগ হারিয়েছি আবার তা হারানো চলবে না’
- বোস্টারকে মোশতাক
’৭৫ এর ট্র্যাজেডি ॥ মার্কিন দলিলে -৩
অজয় দাশগুপ্ত

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পঞ্চম দিন ২০ আগস্ট বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ইউজিন বোস্টার রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ প্রসঙ্গে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস থেকে ওয়াশিংটনে যেসব গোপনীয় বার্তা পাঠানো হয় তা ছিল নিম্নরূপ :
শিরোনাম : নতুন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আমার (বোস্টার) প্রথম বৈঠক
বোস্টার : আমাকে মাত্র এক ঘণ্টার নোটিশে আজ বিকেল ৩টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোশতাকের অফিসে ডেকে পাঠানো হয়। এ ভবনে আগে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদউল্লাহ থাকতেন। যদিও আমি রাজনৈতিক কাউন্সিলরকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু রাষ্ট্রপতি একান্ত বৈঠকের অনুরোধ করেন। তিনি প্রথমেই জানতে চাইলেন : আমি কবে ওয়াশিংটন চলে যাচ্ছি [অভ্যুত্থানের আগের সস্পাহে তার সঙ্গে ডিনারে আমি তাকে জানিয়েছিলাম, আমি এ মাসের শেষদিকে সিলেকশন বোর্ডে দায়িত্ব পালনের জন্য চলে যাচ্ছি]। আমি তাকে জানাই, আমি কিছু সময় আগে জেনেছি, আমার ওই দায়িত্ব প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং আমাকে ঢাকাতেই রেখে দেওয়া হচ্ছে। রা®দ্ব্রপতি বলেন, এ খবরে তিনি আনন্দিত হয়েছেন এবং তিনি এটা আশা করছিলেন।
বোস্টার : এরপর রাষ্ট্রপতি আন্তরিকতার সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। বারবার তিনি আমার হাত চেপে ধরছিলেন। দেশে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চাইছিলেন। তিনি বলেন, কী ধরনের সাহায্য প্রয়োজন তার তালিকা তিনি তৈরি করেননি। কিন্তু এটা জোর দিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালে যে সুযোগ আমরা হারিয়েছি, আবার তা হারানো চলবে না। এ প্রসঙ্গে তিনি আমার সঙ্গে গত মে মাসে তার আলোচনার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। ১৯৭১ সালে তিনি কলকাতায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মকর্তাদের সঙ্গে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে আপসের বিষয়ে চেষ্টা করেছিলেন, যা সফল হয়নি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান আমাদের উপলব্ধি করতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি তার বিরুদ্ধে ভারতীয় সংবাদপত্রে যে অবন্ধুসুলভ খবর প্রকাশ হচ্ছে তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, দেশে রক্তপাত ছাড়াই পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। কিন্তু যদি ভারত স্থলপথে কিংবা আকাশপথে বিশেষভাবে আকাশপথে যদি অভিযান চালায় তাহলে তিনি প্রতিরক্ষাহীন হয়ে পড়বেন। তিনি বলেন, অসন্তুষ্ট বাঙালিদের শরণার্থী অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলোতে জড়ো করা হচ্ছে বলে তার কাছে খবর রয়েছে এবং তার আশঙ্কা, ১৯৭১ সালে ভারতীয় ও বাঙালিরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যে কৌশল অনুসরণ করে সফল হয়েছে এখন সেটাই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হতে পারে। আমি তাকে এখানে যা ঘটছে তা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার বলে ভারতের বিবৃতির কথা স্মরণ করিয়ে দেই এবং এটাও বলি, ভারত অন্য কোনো পদক্ষেপ নেবে না। তিনি বলেন, তিনি এটা আশা করেন।

বোস্টার : তিনি এরপর আমার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির প্রসঙ্গ তোলেন। আমি তার সরকারের সঙ্গে আমাদের স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখার প্রসঙ্গ তুলে ধরি এবং স্বীকৃতির’ বিষয়টিকে কম গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলি। তিনি বলেন, আপনাদের অবস্থান আমি বুঝি কিন্তু স্বীকৃতির মনস্তাত্ত্বিক তাৎপর্য রয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখা এবং ভারতের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রক্ষাকবচের জন্য স্বীকৃতি এ মুহূর্তে- ‘আজই’ দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। আমি তার এ অবস্থান ওয়াশিংটনে জানিয়ে দেব বলে তাকে জানাই।
তার সরকারের নতুন কার্যক্রম বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৬১ জেলায় পুরনো প্রশাসন ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ব্যবস্থা [জেলায় গভর্নর নিয়োগ] একদলীয় বাকশালের অংশ। তিনি বলেন, মাকে হত্যা করে সন্তানকেও হত্যা করতে তিনি সক্ষম হবেন। আমি তার কাছে জানতে চাই, এর দ্বারা তিনি একদলীয় বাকশালের পরিবর্তে বহুদলীয় ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া বোঝাতে চান কি-না। তিনি হ্যাঁ-সূচক জবাব দেন।
বোস্টার বলেন, আমি তার নতুন দায়িত্বে সাফল্য কামনা করি। আমি তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হোসেন আলীর সঙ্গে আমাদের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আথারটনের আলোচনা প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলি, আমরা অর্থনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখব এবং এটা সহায়ক হবে। তিনি উপসংহারে আমাকে যে কোনো সময়ে তার সঙ্গে আমার সাক্ষাতে সমস্যা নেই বলে জানান।

বোস্টারের মন্তব্য : মোশতাকের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে বোস্টার প্রতিবেদনে বলেছেন : আমার কাছে মনে হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নতুন সরকারের প্রতি আমাদের সহানুভূতির মনোভাব প্রকাশের সবচেয়ে কার্যকর ও সহজ উপায় হতে পারে। বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি যুক্তরাষ্ট্র যেসব নীতিগত পরিবর্তন দেখতে চায় তা করতে আগ্রহী বলেই মনে হয়। আমি এ কারণে জরুরিভিত্তিতে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য অনুরোধ জ্ঞাপন করছি।
কে এই মোশতাক : ১৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের পরপরই ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ওয়াশিংটনে খন্দকার মোশতাকের পরিচিতি জানায়। এতে বলা হয়, তিনি সবসময়ই মার্কিনপন্থি হিসেবে পরিচিত। ভারতবিরোধী ও সোভিয়েতবিরোধী হিসেবেও তার সুনাম রয়েছে। বেখোটো ও রোগা দেখতে মোশতাককে বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের মানুষ মনে হয় না। শেখ মুজিবের যে ক্যারিশমা সেটাও তার নেই। তিনি তাজউদ্দিন আহমদের বিরোধী। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ হারানোর জন্য তিনি এ প্রভাবশালী নেতা এবং ভারতীয় নেতৃত্বকে দায়ী মনে করেন।
১৯৭২ সালে তিনি ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের বলেন, তিনি বাংলাদেশে ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মাত্রাতিরিক্ত প্রভাবের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি সে সময়ে আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সোভিয়েত ও ভারতের প্রভাবের বিরুদ্ধে পাল্টা ভারসাম্য বজায় রাখায় সহায়তা করবে। ১৯৭৪ সালে ঢাকায় রাষ্ট্রদূত বোস্টারের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি নিজেকে বাংলাদেশ সরকারে মার্কিনপন্থি সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেন। সে সময়ে তিনি মুজিবকে আরো সহায়তা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনুরোধ করেন যাতে তিনি বামপন্থার প্রতি ঝুঁকে না পড়েন। ১৯৭৫ সালের ১০ আগস্ট ঢাকায় এক ডিনার পার্টিতে, যেখানে রাষ্ট্রদূত বোস্টার উপস্টি’ত ছিলেন- খন্দকার মোশতাক আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন কেউ ভোট দেয় না।’
২২ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ইউজেন বোস্টার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর সঙ্গে কিছু সময় কথা বলেন। তিনি ১৯৭১ সালে তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের উল্লেখ করে বলেন, সে সময় তাকে ৫ বছরের ভিসা দেওয়া হয়েছিল। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সর্বদা কৃতজ্ঞ থাকবেন বলেও জানান। আমি তাকে আমাদের অব্যাহত সাহায্যের কথা জানাই।
বোস্টার ওয়াশিংটনে পাঠানো তার প্রতিবেদনে বলেন, মোশতাকের সঙ্গে যে অনুষ্ঠানে আবু সাঈদ চৌধুরী ছিলেন সেখানে যুক্তরাষ্ট্রে নবনিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আর সিদ্দিকীও উপষ্থিত ছিলেন। তিনি আমাকে জানান, রাষ্ট্রপতি চাচ্ছেন তিনি যত দ্রুত সম্ভব ওয়াশিংটনে গিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করুন।
বোস্টারের প্রতিবেদনে ২৩ আগস্ট বাংলাদেশের জাতীয় টুপি প্রসঙ্গও স্থান পেয়েছে। তিনি লিখেছেন : এ পর্যন্ত কেবল খন্দকার মোশতাক আহমদই এ টুপি ব্যবহার করতেন। আজকের অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবু সাঈদ চৌধুরী এবং এম আর সিদ্দিকী দু’জনেই যে টুপি পরেছিলেন তা ছিল একেবারে নতুন বানানো। বোঝাই যাচ্ছে, টুপি বানিয়ে বাংলাদেশের দর্জিরা আগামী কিছুদিন ভালো ব্যবসা করবে।

সংগ্রহ করা হয়েছে সমকাল পত্রিকা থেকে।

Permalink

ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভেলকিবাজি

বদরুদ্দীন উমর

বাংলাদেশে ইসলামী মৌলবাদী নামে পরিচিত জামায়াতে ইসলামী সংগঠন ও এর নেতাদের সঙ্গে আফগানিস্তানের তালেবান ও মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামী মৌলবাদীদের একটা বড় পার্থক্য এই যে, শোষোক্তরা ধর্মীয় মৌলবাদী হিসেবে প্রতিক্রিয়াশীল হলেও তারা একটা দৃঢ় আদর্শগত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে এবং এদিক দিয়ে তারা সৎ। কিন্তু বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী এবং এদের মতো ধর্মীয় সংগঠনগুলোর সেরকম কোন দৃঢ় আদর্শ নেই। ঘোষিত আদর্শ অবশ্যই আছে, কিন্তু বাস্তবত সেরকম কিছু নেই। এরা সুবিধাবাদী এবং সে কারণে এদের দ্বারা অনেক কিছুই সম্ভব এবং অনেক কিছুই হয়ে থাকে যার ফলে বোঝা যায় যে, এরা সুবিধাবাদী এবং অসৎ। নিজেদের স্বার্থের কারণে এরা এমন সব কাজ করে থাকে যার সঙ্গে এদের ঘোষিত আদর্শগত অবস্থানের সম্পর্ক সামান্য অথবা নেই বললেই চলে।


এরা মিথ্যাবাদী। এদের মিথ্যাবাদিতা ও প্রতারক চরিত্র এরা নিজেরাই জনগণের কাছে এখন তুলে ধরছে ভাষা আন্দোলন এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় এদের নিজেদের ভূমিকা নিয়ে যে প্রচারণা এরা শুরু করেছে তার মধ্যে। বিষয়টি চরিত্রের দিক দিয়ে এত কদর্য যে এর উল্লেখ করা এক বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব।
নব্বই দশকের প্রথমদিকে যখন যুদ্ধাপরাধী হিসেবে গোলাম আযমের শাস্তির দাবিতে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে আন্দোলন চলছিল, তখন ঢাকার দেয়ালে দেয়ালে গোলাম আযমকে ‘ভাষাসৈনিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে চিকা মারা হয়েছিল। সে সময় আমরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে এর মিথ্যা চরিত্র জনগণের কাছে তুলে ধরেছিলাম। আমরা বলেছিলাম, শুধু ইসলামের নাম নিয়ে এখন নিজেদের রাজনৈতিকভাবে রক্ষা করা সম্ভব না হওয়ার কারণে তারা ভাষা আন্দোলনের মতো একটি গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ আন্দোলনে তাদের নিজেদের সম্পর্ক জাহির করে বাঁচার চেষ্টা করছে।


এ কাজ তারা এখন আবার নতুন করে শুরু করেছে। সম্প্রতি তারা ‘ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস’ নামে একটি ভিডিও ক্যাসেট প্রকাশ করেছে। এতে সিডির কভারে লেখা আছে ‘মাতৃভাষা বাংলা ভাষা খোদার সেরা দান’। সবকিছু ছেড়ে দিয়ে এরা এখন মাতৃভাষাকে খোদার ‘সেরা দান’ হিসেবে জনগণের কাছে উপস্থিত করার চেষ্টা করছে। এদের নেতাদের বক্তৃতায় এবং এদের সমগোত্রীর লোকদের ওয়াজের মধ্যে খোদার ‘সেরা দান’ বলে যেসব বিষয়ের উল্লেখ করা হয় তার সঙ্গে বাংলা ভাষার কোন সম্পর্ক থাকে না। এর কোন উল্লেখ করা হয় না।
যাই হোক, ক্যাসেটটিতে ভাষা আন্দোলনের ওপর কিছু কথাবার্তা থাকলেও বিশেষভাবে লক্ষণীয় হল জামায়াতে ইসলামীর নেতা গোলাম আযমের দু’দফা সাক্ষাৎকার, যাতে তিনি নিজেকে ভাষা আন্দোলনের একজন সক্রিয় নেতা হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করেছেন। এই প্রচেষ্টা যে কত অসৎ ও হীন এর একটা প্রমাণ হচ্ছে, এ ক্যাসেট তৈরির সময় তথ্য সহায়তা যারা করেছেন তাদের মধ্যে আমার নাম উল্লেখ। এ কাজ করার উদ্দেশ্য যে এই প্রতারণাপূর্ণ ব্যাপারটির প্রামাণ্যতা নিশ্চিত করা এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু আমার তথ্য সরবরাহ করার বিষয়টি সর্বৈব মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়। এক বন্ধু ক্যাসেটটি দেখার জন্য আমাকে দেয়ার আগে এ বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। ভাষা আন্দোলনে গোলাম আযমের ভূমিকা সম্পর্কে প্রচার কাজে আমি তথ্য দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে সহায়তা করেছি এটা প্রচার করা থেকে বড় ধৃষ্টতা আর কি হতে পারে? কতখানি নৈতিক অধঃপতন ঘটলে এ কাজ কোন ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব, সেটা বলাই বাহুল্য।


আমি আমার ভাষা আন্দোলনের বইটির প্রথম খণ্ডে একবারই মাত্র গোলাম আযমের উল্লেখ করেছি। ১৯৪৮ সালের নভেম্বর মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান পূর্ব পাকিস্তান সফরে আসেন। ২৭ নভেম্বর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের এক সমাবেশে ভাষণ দেন। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে তাকে একটি মানপত্র দিয়ে তাতে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানানো হয়। এ মানপত্রটি পাঠ করেন ইউনিয়নের তৎকালীন সেক্রেটারি গোলাম আযম। আসলে এটি পাঠ করার কথা ছিল ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট অরবিন্দ বোসের। কিন্তু লিয়াকত আলীকে ভাষা আন্দোলনের দাবি সংবলিত মানপত্র পাঠ একজন হিন্দু ছাত্রকে দিয়ে করালে তার মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হবে এবং মুসলিম লীগ সরকার এ নিয়ে নানা প্রকার বিরূপ প্রচার শুরু করবেÑ এ আশংকা থেকেই একজন মুসলমান ছাত্র হিসেবে সেক্রেটারি গোলাম আযমকে সেটা পাঠ করতে দেয়া হয়েছিল। এই হল ভাষা আন্দোলনে গোলাম আযমের ‘বিরাট’ ভূমিকা। যাই হোক, এ বিষয়টি আমি আমার ভাষা আন্দোলনের ওপর লেখা বইটিতে স্বাভাবিকভাবেই উল্লেখ করেছি। বইটি থেকে অন্যান্য তথ্যের মতো এ তথ্যও যে কোন লোক ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, আমি গোলাম আযমকে ভাষা আন্দোলনের একজন নায়ক হিসেবে উপস্থিত করার জন্য জামায়াতে ইসলামীর এই প্রতারণাপূর্ণ প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে কোন তথ্য সহায়তা প্রদান করেছি। মানুষ হিসেবে এদের চরিত্র কত কলুষিতÑ এই প্রতারণা তার এক প্রামাণ্য দৃষ্টান্ত।


এ তো গেল বিষয়টির একটি দিক। এর অন্যদিক হল, মহামান্য গোলাম আযম সাহেব ভাষা আন্দোলনে বীরত্বপূর্ণ ও নায়কোচিত ভূমিকা পালন করা সত্ত্বেও তাতে নিজের এই অংশগ্রহণকে সুবিধাবাদী কারণে অস্বীকার করতেও দ্বিধাবোধ করেননি। আজ নয়, পাকিস্তানি আমলে ১৯৭০ সালের জুন মাসে, পশ্চিম পাকিস্তানের শুক্কুর শহরে এক বক্তৃতা প্রসঙ্গে এই জামায়াত নেতা ‘খোদার সেরা দান’ বাংলা ভাষা ও ভাষা আন্দোলনের বিরোধিতা করতে গিয়ে বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এক মারাÍক রাজনৈতিক ভুল এবং তিনি নিজে এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার জন্য দুঃখিত। গোলাম আযম ভাষা আন্দোলনের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে গিয়ে বলেন, উর্দু হচ্ছে এমন একটা ভাষা যার মাধ্যমে ইসলামী শিক্ষার উপযুক্ত প্রচার ও প্রসার সম্ভব। কারণ ‘উর্দু পাক-ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের সাধারণ ভাষা এবং এতে তাদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্পদ সংরক্ষিত রয়েছে।’ নিজের ভ্রান্ত ভূমিকা সম্পর্কে খেদোক্তি করতে গিয়ে গোলাম আযম আরও বলেন, বাংলা ভাষা আন্দোলন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দৃষ্টিকোণ থেকে মোটেই সঠিক কাজ হয়নি। (দৈনিক আজাদ, ২০ জুন, ১৯৭০) শুক্কুরে দেয়া গোলাম আযমের এই বক্তৃতা পত্রিকায় প্রকাশের পর আমি আমার সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘গণশক্তি’ পত্রিকায় এর ওপর লিখেছিলাম। (২১.৬.১৯৭০) গোলাম আযম এসব কথা বলছিলেন এমন এক সময়ে যার অনেক আগে ভাষা আন্দোলনের দাবি অনুযায়ী ১৯৫৬ সালের পাকিস্তান সংবিধানে বাংলা অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃত হয়েছিল।


দেখা যাচ্ছে, জামায়াত নেতা গোলাম আযম সাহেবের কথাবার্তার ভেল্কিবাজি ও নৈতিক অধঃপতনের তুলনা নেই। ভাষা আন্দোলনে তার অংশগ্রহণের কাহিনী, তারপর ১৯৭০ সালে তাতে অংশগ্রহণে দুঃখ প্রকাশ ও ভাষা আন্দোলনকে বেঠিক কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করা, ১৯৯২ সালে নিজেকে ‘ভাষাসৈনিক’ হিসেবে প্রচার করা এবং এখন আবার বাংলা ভাষাকে ‘খোদার সেরা দান’ হিসেবে গৌরবান্বিত করার জন্য মিথ্যায় পরিপূর্ণ ক্যাসেট বের করাÑ সবই হল জামায়াতে ইসলামীর জাদুর খেলা। এর সঙ্গে যে প্রকৃত ইসলামী নৈতিকতার কোন সম্পর্ক নেই একথা বলাই বাহুল্য।


শুধু ভাষা আন্দোলনই নয়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও জামায়াতে ইসলামী এখন একটা জাদুর খেলা দেখাচ্ছে। ১৯৭১ সালে তারা স্বাধীনতা যুদ্ধের সম্পূর্ণ বিরোধিতা করে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর সঙ্গে নানা চক্রান্তে লিপ্ত ছিল। তারা সামরিক বাহিনীর সহায়ক শক্তি হিসেবে এমন ক্রিমিনাল কাজ নেই যা করেনি, ডিসেম্বর মাসে তারা এদেশের অনেক গুণী বুদ্ধিজীবীকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। সে সময়ে এদের অপকীর্তি ও গণশত্র“তার শেষ নেই। অথচ এরাই এখন মাঠে নেমেছে নিজেদের একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের সৈনিক হিসেবে প্রমাণ করার জন্য। এ উদ্দেশ্যে এরা কিছুসংখ্যক বেইমানকে দিয়ে গঠন করেছে এক মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।
এই সংক্ষিপ্ত লেখা শেষ করার আগে এটা অবশ্যই বলা দরকার, জামায়াতে ইসলামী এখন ‘বিশুদ্ধ ইসলামী লাইনের’ বাইরে এসে ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা আন্দোলনে নিজেদের ভূমিকা প্রমাণ করার চেষ্টার মূল কারণ, ইসলাম দিয়ে এখন আর তাদের বড় বেশি সুবিধা হচ্ছে না। এজন্য এ দেশের প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক, মিথ্যার ভিত্তিতে হলেও প্রচার করে, এরা নিজেদের পায়ের নিচে মাটি খোঁজার চেষ্টা করছে। কিন্তু যে মাটি তাদের পায়ের তলায় নেই, সেটা খোঁজ করে কোন লাভ নেই। জামায়াতে ইসলামীর মতো প্রতিক্রিয়াশীল ধর্মীয় রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে অনেক আগেই ঐতিহাসিকভাবে নির্ধারিত হয়ে গেছে।

দৈনিক যুগান্তর । ২৭ জুলাই ২০০৮

Permalink

আমি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়েই যাব

আমি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়েই যাব
লাঞ্ছিত সেই মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী সমকালকে বললেন-
সমকাল প্রতিবেদক

মুক্তিযোদ্ধাদের নামধারী সংগঠন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সম্মেলনে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছিলেন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার চক্কাশী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোহাম্মদ আলী আমান। তিনি জানান, সম্মেলনের নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকা ছাত্রশিবিরের ক্যাডাররা তাকে টেনেহিঁচড়ে লাথি মেরেই শুধু ক্ষান্ত থাকেনি, প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রেখেছিল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিটিউট ভবনের একটি কক্ষে। ঘরবাড়ির ঠিকানাসহ নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ, সঙ্গে থাকা ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি নিয়ে তারপর ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে।

গতকাল সমকাল কার্যালয়ে বসে এক সাক্ষাৎকারে মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী বলেন, যত বিপদই আসুক আমি একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়েই যাব। তিনি মধ্য বাড্ডার বিজয় সরণি সড়কে থাকেন। ছেলের সঙ্গে ঘরবাড়ি রঙের কাজ করেন। এলাকার একজন পরিচিত মুক্তিযোদ্ধার আমন্ত্রণে তিনি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স
ইনষ্টিটিউটে যান। কিন্তু সম্মেলন কক্ষের বাইরে থেকে উঁকি দিয়ে দেখতে পান, সেখানে সেক্টর কমান্ডারদের কেউ নেই। এ অবস্থায় তিনি ভেতরে না গিয়ে বাইরের লনে বসেন। এরই মধ্যে ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা কয়েকজন বিড়বিড় করে বলতে থাকেন, যে মিটিংয়ে সেক্টর কমান্ডারদের বিচার চাওয়া হয়, সে মিটিংয়ে থাকব না।

এ সময় একুশে টেলিভিশনের একজন সাংবাদিক তার কাছে জানতে চান, তিনি মুক্তিযোদ্ধা কি-না? উত্তরে তিনি জানান, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১১নং সেক্টরে কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বাধীন প্রথম বেঙ্গল রেজিমেন্টের ডি কোম্পানিতে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

এরপর ইটিভি জানতে চায়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য আছে কি-না? উত্তরে তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা এ দেশের বিরোধিতা করেছিল, নারী ধর্ষণ করেছিল, অগ্নিসংযোগ করেছিল, বুদ্ধিজীবী হত্যা করেছিল সেসব যু™ব্দাপরাধীকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত। তখন শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান-মেম্বার যারা ছিল তারা জামায়াতে ইসলামী ও বর্তমানে পিডিপি করে।

তিনি বলেন, তাদের এখনই ফাঁসি দিতে হবে। বর্তমান নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারই কেবল এ বিচার করতে পারে। মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর ভাষায়, ‘আমার বক্তব্য শেষ হতে দেরি, ধরতে দেরি নাই। উড়াল দিয়ে পাখির মতো ছোঁ মেরে আমাকে ভেতরে নিয়ে যায়। তারা যা করেছে, তা আমি আর বলতে চাই না। বললে এটা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অপমান হবে।’

ভেতরে নিয়ে বর্ষীয়ান এই মুক্তিযোদ্ধাকে তিন ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। এ সময় ইটিভির কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারের জন্য কৈফিয়ত চাওয়া হয় তার কাছে। পরে জনৈক জামায়াত নেতা সোলায়মান হোসেনের মধ্যস্ট’তায় তিনি মুক্ত হন। ছেড়ে দেওয়ার আগে ওই জামায়াত নেতা জানতে চান, ভবিষ্যতে তাকে মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ আমন্ত্রণ জানালে তিনি আসবেন কি-না। উত্তরে তিনি বলেন- ‘আসব, তবে আমি
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়েই যাব। আমার ফাঁসি হলেও এ দাবি করেই যাব।’

জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনপুষ্ট এ ধরনের সংগঠনকে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, খোঁজ নিলে দেখা যাবে এর ভেতরে অনেক যুদ্ধাপরাধী লুকিয়ে আছে। লুকায়িত যুদ্ধাপরাধীদের সম্মেলনে একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির অংশগ্রহণ সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন, শাহ আজিজের মতো রাজাকার প্রধানমন্ত্রী হতে পারলে সাবেক প্রধান বিচারপতি তাদের মিটিংয়ে আসতেই পারেন।

ইটিভির রিপোর্টার ও মুক্তিযোদ্ধাকে আটক সম্পর্কে
সম্মেলনে ইটিভির রিপোর্টার সাজেদ রোমেল ও মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীকে আটকের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সংগঠনের মহাসচিব মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, বিষয়টি আমরা জানতামই না। ইটিভির হেড অব নিউজ রাশেদ চৌধুরী আমাদের একজনকে জানান, আমাদের লোকেরা নাকি তার রিপোর্টারকে আটকে রেখেছে। বিষয়টি জেনে আমরা তাকে ফোন করে জানাই, আপনার রিপোর্টার স্বেচ্ছায় বসে আছেন। তিনি তার বন্ধুদের ছাড়া যেতে রাজি নন। মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের সম্মেলনে প্রতিনিধি সংখ্যা নির্ধারিত। প্রতিনিধিদের জন্য নির্দিষ্ট কার্ড আছে এবং কারা সম্মেলনে এলেন তারও রেকর্ড আছে। কেউ ইচ্ছা করলেই সম্মেলনের ভেতরে ঢুকতে পারবেন না। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে মোহাম্মদ আলী কারো ভাড়াটে হিসেবে সে কাজটিই করতে চেয়েছেন।

মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ যা বলছে
এদিকে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ সমকালসহ গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা বলেছে, কতিপয় লোক সম্মেলনের ডেলিগেট কার্ড ছাড়া জোর করে ঢুকতে গেলে স্বেছাসেবকরা কার্ড দেখতে চাইলে তারা অসংলগ্ন কথা বলে। এ সময় ইটিভি সে দৃশ্য ধারণ করে পরিকল্পিতভাবে তাদের সাক্ষাৎকার নেয়। তারা মূল অনুষ্ঠানের সংবাদ পরিবেশন না করে
কতিপয় ভাড়াটে লোক উদ্দেশ্যমূলক এ দৃশ্যের অবতারণা করে প্রতিনিধি সম্মেলনকে ভন্ডুল করার অপচেষ্টা চালায়। কিন্তু তাদের সে অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তারা দাবি করেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠন। এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা নেই।
---------
খবর: সমকাল ১৪ জুলাই

Permalink

বিচারপতির কুকীর্তি

সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন যে কেমন মানুষ ছিলেন তা আর দেশের নাগরিকদের কাছে অজানা নয়।

জনকণ্ঠে প্রকাশিত নিচের চিত্রফাইলটা পড়ুন। বিস্তারিত নিজেই জানতে পারবেন।

বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা, আজ জেগেছে সেই জনতা।


নিউজ লিংক

Permalink

কুৎসিত জামায়াত শিবির

এই কুৎসিত জামায়াতী ইসলামের নেতাকে চিনে রাখুন। তার মুখে থু থু দিন।
রে কুলাঙ্গার জামায়াত শিবির তোদের দিন ফুরিয়ে গেছে। পিপিলীকার পাখা গজায় মরিবার তরে। তোরা ভুলে গেছিস কি সে কথা? তোর মরণ অতি সন্নিকটে। তোদের আর কোন ক্ষমা নাই।

এই অপরাধীকে চিহ্নিত করার পরেও সরকার নীরব কেন? কোথায় তাদের সমস্যা? কেন সরকার এই হিংস্র নরপশুকে এখনও গ্রেফতার করছে না। সরকার এই প্রসঙ্গে চুপ করে আছে কেন?

Permalink

জামায়াতী কাণ্ড

বিএনপি'র আমলের সাবেক বিচারপতি মোদাচ্ছির এ কি কথা বললেন? তিনি বলেছেন- জামায়াতের এই আয়োজনে শরিক হতে পেরে তিনি গর্বিত। ছি! ছি! বিচারপতি, তোকে ছি! তোর মুখে থু থু দেই। তোর মত নরাধমকে বিএনপি বিচারপতি বানিয়েছিল, এটাই স্বাভাবিক।

এই জামায়াত নেতাকে চিনে রাখুন। এই সেই নোংরা, কুৎসিত, কদর্য চেহারা। এই সেই হিংস্র, নরাধম জামায়াতে ইসলামীর নেতা। এই সেই পাপীষ্ঠ যে বাংলা মায়ের শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধার পবিত্র শরীরে লাথি মারে।

Permalink

জামায়াতের হিংস্রতা

প্রথম আলো’র নিউজঃ

‘জামায়াতের এ সমস্ত নেতারা পিস কমিটির (শান্তি কমিটি) সদস্য ছিল। যারা রাজাকার, আলবদর ছিল তারা গণহত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ করেছে। এখনই তাদের বিচার করতে হবে। আমার বিবেচনায়, তাদের এখনই ফাঁসি দিতে হবে।…’
তাঁর বক্তব্য শেষ হয়নি। সাংবাদিকেরা তাঁর নামটিও জানার সুযোগ পাননি। এর আগেই বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরার সামনে থেকে বর্ষীয়ান এ মুক্তিযোদ্ধাকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। একজন তাঁর পিঠে লাথি বসিয়ে দেয়।
গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ’-এর প্রতিনিধি সম্মেলনে এ ঘটনা ঘটে। জামায়াতের উদ্যোগে গড়া সংগঠনটির গতকালের সম্মেলনে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা। তাদের হাতেই লাঞ্ছিত হন ওই মুক্তিযোদ্ধা। তারা একুশে টেলিভিশনের প্রতিবেদক সাজেদ রোমেলকেও প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রাখে।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রবের কাছে মুক্তিযোদ্ধা লাঞ্ছনা ও সাংবাদিককে আটকে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি দাবি করেন, এমন কিছু হতেই পারে না। নির্যাতনের ছবি টেলিভিশনের ক্যামেরায় ধারণ করা আছে জানালে তিনি মুহুর্তেই সুর পাল্টে বলেন, ‘এসব সাবোটাজ (অন্তর্ঘাতমূলক কাজ)। আমাদের সংগঠনের লোকেরা এসব করতে পারে না।’
সংগঠনটির জাতীয় সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন। জামায়াত-সংশ্লিষ্টদের অনুষ্ঠানে আসার বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসবের কিছুই তিনি জানেন না।
তবে আলোচনা অনুষ্ঠানে জে আর মোদাচ্ছির বলেছেন, এখন স্বাধীনতার চেতনার নাম দিয়ে জাতিকে বিভাজন না করে সুন্দর দেশ গড়ার জন্য কাজ করতে হবে।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান বলেন, গত ২৬ মার্চ ভারতীয় জেনারেলকে এনে স্বাধীনতার চেতনার অবমাননা করা হয়েছে।
বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) ফজলুর রহমান বলেন, ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ ও ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করতে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া এখন সময়ের দাবি।
উইং কমান্ডার (অব.) হামিদুল্লাহ খান বলেন, কতিপয় সেক্টর কমান্ডার জাতিকে বিভ্রান্ত করে দেশবাসীকে অপমানিত করার জন্য কথিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের হুমকি দিয়েছেন। সম্মেলনে কয়েকজন বক্তা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাওয়ায় মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারদের শাস্তি দাবি করেছেন।
ঢাকার বাইরে থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধারা এসব বক্তব্য শুনে হতভম্ব হয়ে পড়েন। পাবনা থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন ক্ষুব্ধ হয়ে সম্মেলনকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা যেসব মন্তব্য করেছে, সেগুলো মোটেও ভালো লাগেনি। এ কারণে আমি অনুষ্ঠান থেকে বের হয়ে এসেছি। এসব অসহনীয় বক্তব্য। এরা বলে, সেক্টর কমান্ডারদের বিচার হতে হবে। এরা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নানা কথা বলেছে। কিন্তু আমরা তো আওয়ামী লীগের ডাকে মুক্তিযুদ্ধ করেছি।’
জামায়াত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন তৈরি ও জাতীয় সম্মেলন করাকে ভন্ডামি আখ্যা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সামরিক নেতারা প্রথম আলোকে বলেন, যারা যুদ্ধের সময় এ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে গণহত্যা, লুন্ঠন ও ধর্ষণে সহায়তা করেছে, এখন তারা মুক্তিযোদ্ধা সাজার চেষ্টা করছে। তারা দেশের সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতারিত করার চেষ্টা করছে। এদের প্রতি ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই থাকতে পারে না।
মুক্তিযুদ্ধের উপপ্রধান সেনাপতি এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সভ্য দেশে বাস করছি, এখানে এসব অসভ্যতা চলতে পারে না। এদের ব্যাপারে কী করা যায় আমরা শিগগিরই বসে সিদ্ধান্ত নেব।’
৮ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরীও বলেছেন, ‘ওরা যা-ই বলুক না কেন, মানুষের কাছে এসবের কোনো মূল্য নেই। মানুষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়।’
গত ২৬ জানুয়ারি ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ’ গঠন করা হয়। প্রথমে এ/১১ শ্যামলী হাউজিং, আদাবরে একটি বাড়িতে ও পরের মাসে ১১৬/২ নয়াপল্টনে (জামান কনস্ট্রাকশন ভবনের দোতলায়) জামায়াতের পল্টন থানা শাখার সাবেক আমির এ টি এম সিরাজুল হকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে এর কেন্দ্রীয় কার্যালয় স্থাপন করা হয়। সেখানকার পল্টন মানবশিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের একটি কক্ষ সাবলেট (ভাড়াটের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া) নিয়ে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। এ টি এম সিরাজুল হক ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করলে এ সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। ফোরাম যে দলগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনছে, এগুলোর অন্যতম হচ্ছে জামায়াত। ফোরামের আন্দোলনকে বিতর্কিত করার মানসে ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ’ নামে এ সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গত ২২ মার্চ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ও ২৬ মার্চ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নেওয়ায় সেক্টর কমান্ডারদের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছিল জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ। গতকালের সম্মেলনেও একই ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়।
পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রকৌশলী মোসলেম উদ্দিনের সভাপতিত্বে গতকালের সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক রেজোয়ান সিদ্দিকী, নিউ নেশন-এর সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন গাজী, সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীর প্রমুখ।

Permalink

‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ’-এর সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা লাঞ্ছিত

‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ’-এর সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা লাঞ্ছিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
‘জামায়াতের এ সমস্ত নেতারা পিস কমিটির (শান্তি কমিটি) সদস্য ছিল। যারা রাজাকার, আলবদর ছিল তারা গণহত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ করেছে। এখনই তাদের বিচার করতে হবে। আমার বিবেচনায়, তাদের এখনই ফাঁসি দিতে হবে।...’
তাঁর বক্তব্য শেষ হয়নি। সাংবাদিকেরা তাঁর নামটিও জানার সুযোগ পাননি। এর আগেই বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরার সামনে থেকে বর্ষীয়ান এ মুক্তিযোদ্ধাকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। একজন তাঁর পিঠে লাথি বসিয়ে দেয়।
গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ’-এর প্রতিনিধি সম্মেলনে এ ঘটনা ঘটে। জামায়াতের উদ্যোগে গড়া সংগঠনটির গতকালের সম্মেলনে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা। তাদের হাতেই লাঞ্ছিত হন ওই মুক্তিযোদ্ধা। তারা একুশে টেলিভিশনের প্রতিবেদক সাজেদ রোমেলকেও প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রাখে।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রবের কাছে মুক্তিযোদ্ধা লাঞ্ছনা ও সাংবাদিককে আটকে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি দাবি করেন, এমন কিছু হতেই পারে না। নির্যাতনের ছবি টেলিভিশনের ক্যামেরায় ধারণ করা আছে জানালে তিনি মুহুর্তেই সুর পাল্টে বলেন, ‘এসব সাবোটাজ (অন্তর্ঘাতমূলক কাজ)। আমাদের সংগঠনের লোকেরা এসব করতে পারে না।’
সংগঠনটির জাতীয় সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন। জামায়াত-সংশ্লিষ্টদের অনুষ্ঠানে আসার বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসবের কিছুই তিনি জানেন না।
তবে আলোচনা অনুষ্ঠানে জে আর মোদাচ্ছির বলেছেন, এখন স্বাধীনতার চেতনার নাম দিয়ে জাতিকে বিভাজন না করে সুন্দর দেশ গড়ার জন্য কাজ করতে হবে।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান বলেন, গত ২৬ মার্চ ভারতীয় জেনারেলকে এনে স্বাধীনতার চেতনার অবমাননা করা হয়েছে।
বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) ফজলুর রহমান বলেন, ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ ও ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করতে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া এখন সময়ের দাবি।
উইং কমান্ডার (অব.) হামিদুল্লাহ খান বলেন, কতিপয় সেক্টর কমান্ডার জাতিকে বিভ্রান্ত করে দেশবাসীকে অপমানিত করার জন্য কথিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের হুমকি দিয়েছেন। সম্মেলনে কয়েকজন বক্তা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাওয়ায় মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারদের শাস্তি দাবি করেছেন।
ঢাকার বাইরে থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধারা এসব বক্তব্য শুনে হতভম্ব হয়ে পড়েন। পাবনা থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন ক্ষুব্ধ হয়ে সম্মেলনকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা যেসব মন্তব্য করেছে, সেগুলো মোটেও ভালো লাগেনি। এ কারণে আমি অনুষ্ঠান থেকে বের হয়ে এসেছি। এসব অসহনীয় বক্তব্য। এরা বলে, সেক্টর কমান্ডারদের বিচার হতে হবে। এরা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নানা কথা বলেছে। কিন্তু আমরা তো আওয়ামী লীগের ডাকে মুক্তিযুদ্ধ করেছি।’
জামায়াত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন তৈরি ও জাতীয় সম্মেলন করাকে ভন্ডামি আখ্যা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সামরিক নেতারা প্রথম আলোকে বলেন, যারা যুদ্ধের সময় এ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে গণহত্যা, লুন্ঠন ও ধর্ষণে সহায়তা করেছে, এখন তারা মুক্তিযোদ্ধা সাজার চেষ্টা করছে। তারা দেশের সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতারিত করার চেষ্টা করছে। এদের প্রতি ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই থাকতে পারে না।
মুক্তিযুদ্ধের উপপ্রধান সেনাপতি এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সভ্য দেশে বাস করছি, এখানে এসব অসভ্যতা চলতে পারে না। এদের ব্যাপারে কী করা যায় আমরা শিগগিরই বসে সিদ্ধান্ত নেব।’
৮ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরীও বলেছেন, ‘ওরা যা-ই বলুক না কেন, মানুষের কাছে এসবের কোনো মূল্য নেই। মানুষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়।’
গত ২৬ জানুয়ারি ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ’ গঠন করা হয়। প্রথমে এ/১১ শ্যামলী হাউজিং, আদাবরে একটি বাড়িতে ও পরের মাসে ১১৬/২ নয়াপল্টনে (জামান কনস্ট্রাকশন ভবনের দোতলায়) জামায়াতের পল্টন থানা শাখার সাবেক আমির এ টি এম সিরাজুল হকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে এর কেন্দ্রীয় কার্যালয় স্থাপন করা হয়। সেখানকার পল্টন মানবশিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের একটি কক্ষ সাবলেট (ভাড়াটের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া) নিয়ে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। এ টি এম সিরাজুল হক ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করলে এ সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। ফোরাম যে দলগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনছে, এগুলোর অন্যতম হচ্ছে জামায়াত। ফোরামের আন্দোলনকে বিতর্কিত করার মানসে ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ’ নামে এ সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গত ২২ মার্চ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ও ২৬ মার্চ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নেওয়ায় সেক্টর কমান্ডারদের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছিল জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ। গতকালের সম্মেলনেও একই ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়।
পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রকৌশলী মোসলেম উদ্দিনের সভাপতিত্বে গতকালের সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক রেজোয়ান সিদ্দিকী, নিউ নেশন-এর সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন গাজী, সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীর প্রমুখ।

প্রথম আলো: ১২ জুলাই ২০০৮

Permalink

জামায়াতের ঔদ্ধত্য

উপরের ছবিতে ক্লিক করলে বড় হবে। সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন সরাসরি জনকণ্ঠের নিজস্ব ফাইল থেকে।নরপশুর রূপ (এই সেই কুলাঙ্গার বাঙালি, শিবির নেতা যে রাজাকারদের বিচার দাবী করায় মুক্তিযোদ্ধার পিঠে লাথি মেরেছে।)

হিংস্র নরপশু জামায়াতে ইসলামীর আসল চেহারা। মুক্তিযুদ্ধের নামে ভণ্ডামী শুরু করেছে। একজন সচেতন মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী তথা রাজাকারদের বিচার দাবী করলে রাজাকার, আলবদরদের শ্বাসকষ্ট ওঠে। তারা হিংস্রভাবে লাফিয়ে পরে মুক্তিযোদ্ধার উপর। তাকে শারীরিকভাবে কিল, লাথি, ঘুষি দিয়ে থামিয়ে দিতে চায়। বন্ধ করতে চায় মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠস্বর। তাদের যুদ্ধ্ এখনও শেষ হয় নাই। তারা এখনও মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করে। আমরা এর বিচার চাই। বিস্তারিত পড়ুন উপরের ছবিতে ক্লিক করে।
খবর: দৈনিক জনকণ্ঠ, ১৩ জুলাই, ২০০৮।

রাজাকারদের সহ সকল যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাই।

Permalink

নিজামী গ্রেফতার

অবশেষে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঘৃণ্য রাজাকার, একাত্তুরের যুদ্ধাপরাধী, নরপশু মতিউর রহমান নিজামীকে গ্রেফতার করা হল। কিন্তু গ্রেফতার করার পর তাকে থানায় নিয়ে গিয়ে জেলহাজতে রাখা হয় নাই। ওসির চেম্বারে সারারাত একটি আরামদায়ক চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়েছে। কেন? থানার লোকজন কি শিবিরের কেউ নাকি? তারা কি জামায়াতের লোক? এই হিংস্র, নরপশু, নরাধম, কুৎসিত, জঘন্য, কুকুরসদৃশ প্রাণীটিকে খাতির করার কারণ কি?

Permalink

তুই রাজাকার

আজকের জনকণ্ঠ পত্রিকায় অজয় দাশগুপ্ত রাজাকার সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে নিয়ে একটি মজার ছড়া লিখেছেন। কয়েকদিন আগে এই রাজাকার আদালতে দাড়িয়ে রাজাকার হিসেবে গর্বিত অহংকার প্রকাশ করেছিলেন। তারই জবাবে অজয় দাশগুপ্ত এই ছড়াটি লিখেছেন। সকলের সাথে শেয়ার করার জন্য আমি এখানে পোস্ট করে দিলাম।


'তুই রাজাকার' সাকা

অজয় দাশগুপ্ত

গর্বিত হলে রাজাকার বলে

পাপী নাকি তুমি ধৃষ্ট?

নেই অনুতাপ, পাকিদের পাপ

ফেলে যাওয়া উচ্ছিষ্ট।

পরদেশ প্রীতি, নিজ দেশে ভীতি

জাগাতে পিতা ও পুত্রে

করে ছারখার, হলে রাজাকার

দাগী যে জন্ম সূত্রে।

ষড়যন্ত্রী কখনো মন্ত্রী

কখনো বা উপদেষ্টা

হাতরাঙ্গা খুনে, কি কপাল গুণে?

চেটে খেলে পুরো দেশটা।

এর, ওর দলে, ছলে কৌশলে

প্রতিক্রিয়ার সখা

দিলে রেখে দিল এ কেমন মিল

যেন পাকিদের ফকা।

গেল কত রাজা, দেয়নি তো সাজা

তুষেছে বরং দালালে

আমাদের ঘটে, বুদ্ধিও বটে

জাগে শুধু চোর পালালে।

যত কর তেজ, কুকুরের লেজ

হামেশাই থাকে বাঁকা

নেই সম্মান তারই প্রমাণ

"তুই রাজাকার" সা, কা।

Permalink

BBC Asia-Pacific

CNN.com - Asia