কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

bdnews24

মহারথীদের পতন, স্বাধীনতাবিরোধীরা ধরাশায়ী

সমকাল ডেস্ক

এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রভাবশালী প্রার্থী হেরে গেছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা। পরাজিতদের মধ্যে আছেন অনেক সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী।

সবশেষে পাওয়া খবর অনুযায়ী পরাজিতরা হলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য এম সাইফুর রহমান, বিএনপি মহাসচিব ও সাবেক চিফ হুইপ খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সাবেক মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা সভাপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এম শামসুল ইসলাম, সাবেক উপ-রাষ্ট্রপতি মওদুদ আহমদ,

জামায়াতে ইসলামীর সেত্রেক্রটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, বিএনপির সাবেক মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া (স্বতন্ত্র), সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম, স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর (স্বতন্ত্র), মহাজোট প্রার্থী সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জামায়াত নেতা আবদুস সুবহান, ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, বিএনপি নেতা মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, লে. জে. (অব) মাহবুবুর রহমান, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এহছানুল হক মিলন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটল, রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, মুফতি ফজলুল হক আমিনী, কৃষক শ্রমিক লীগের কাদের সিদ্দিকী প্রমুখ।

স্বাধীনতাবিরোধী প্রার্থীদের মধ্যে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ছাড়া অন্যরা শোচনীয়ভাবে হেরে গেছেন। তারা হলেন- মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, এটিএম আজহারুল ইসলাম, আবদুস সুবহান, আবদুল খালেক মণ্ডল, রিয়াছাত আলী বিশ্বাস, আবদুল আজিজ, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ।

সমকাল, ৩০ ডিসেম্বর, ২০০৮

Permalink

নিজামী-মুজাহিদ-সাঈদীসহ শীর্ষ জামায়াত নেতারা পরাজিত

চট্টগ্রাম-১৪, কক্সবাজার-২ আসনে জিতেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুহাজিদ নির্বাচনে হেরে গেছেন। পাবনা-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামসুল ইসলাম এক লাখ ৪৪ হাজার ৯১৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নিজামী পেয়েছেন এক লাখ ২২ হাজার ৯৪৪ ভোট। তিনি ২১ হাজার ৯৭০ ভোটে হেরেছেন। ফরিদপুর-৩ আসনে মুজাহিদ মাত্র ৩০ হাজার ৮২১ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।

দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী (পিরোজপুর-১)ও পরাজিত হয়েছেন।

গতরাতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতের হামিদুর রহমান আযাদ বিজয়ী হয়েছেন বলে বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ২২ হাজার ৫০০ ভোট বেশি পেয়েছেন। চট্টগ্রাম-১৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী শামশুল ইসলাম জিতেছেন।

আমিরের পাশাপাশি পরাজিত হয়েছেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান (শেরপুর-১) এবং সাতক্ষীরা-২ ও ৪ আসনের প্রার্থীরা। সাতক্ষীরা-৩ আসনের প্রার্থী রিয়াছাত আলীও আছেন পরাজয়ের মুখে।

ঝিনাইদহ-৩ আসনে মতিয়ার রহমান, বাগেরহাট-৩ আসনে আব্দুল ওয়াদুদ শেখ, যশোর-১ আসনে আজিজুর রহমান, খুলনা-৫ আসনে মিয়া গোলাম পরওয়ার হেরেছেন। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনেও জামায়াতের প্রার্থী হাবিবুর রহমান পরাজিত হয়েছেন।

পরাজিত হয়েছেন এটিএম আজহারুল ইসলাম (রংপুর-২), আবদুস সুবহান মিয়া (পাবনা-৫)।
স্বাধীনতার বিরোধিতা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে−জামায়াতের এমন শীর্ষ নেতাদের কেউই নির্বাচনে জয় পাওয়ার অবস্থানে আসতে পারেননি। নির্বাচনে জামায়াত ৩৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ৩৪টি আসনে তারা চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এবং ৫টি আসনে বিএনপি ও মহাজোট প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।

প্রথম আলো, ৩০ ডিসেম্বর, ২০০৮

Permalink

অধিকাংশ মন্ত্রী-ভিআইপি ধরাশায়ী

যুগান্তর রিপোর্ট :
রাজনীতির অঙ্গনের বেশকিছু চেনামুখ মন্ত্রী, ভিআইপির পতন হল এবার। নবম সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোট সরকারের অধিকাংশ সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন ভিআইপি প্রার্থী ধরাশায়ী হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে দল ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবিতে থাকা এসব জাঁদরেল নেতার অনেককে নবীনদের কাছেও হার মানতে হয়েছে।
পরাজিতদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্প ধারার চেয়ারম্যান একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, বিএনপির প্রবীণ নেতা সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমদ, বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী আবদুল মান্নান ভূঁইয়া, জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, বিএনপি মহাসচিব ও সাবেক চিফ হুইপ খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন, সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকী, স্থায়ী কমিটির অপর চার সদস্য ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী এম শামসুল ইসলাম, চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট খোন্দকার মাহবুবউদ্দিন আহমাদ, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আসম হান্নান শাহ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ একটি আসনে বিজয়ী হলেও আরেকটি আসনে তার ভরাডুবি হয়েছে।
এছাড়াও এসব সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, মেয়র ও ভিআইপির মধ্যে রয়েছেনÑ বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী তরিকুল ইসলাম, সাবেক ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ও সাবেক দফতরবিহীন মন্ত্রী হারুনার রশিদ খান মুন্নু, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের চেয়ারম্যান ও সাবেক নৌমন্ত্রী আসম আবদুর রব, জোট সরকারের সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন, ঢাকার মেয়র ও নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি সাদেক হোসেন খোকা, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও সাবেক সাংসদ মুফতি ফজলুল হক আমিনী, জামায়াত নেতা ও সাবেক সাংসদ মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহছানুল হক মিলন, সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটল, সাবেক প্রতিমন্ত্রী কবির হোসেন, এবায়দুল হক চৌধুরী ও নুরুল হুদা, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রাজশাহীর মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, সাবেক ত্রাণ উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু প্রমুখ।
সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল জানতে টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখেন সারাদেশের মানুষ। ফলাফলে বিএনপিসহ চারদলীয় জোট ও অন্যান্য দলের জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের ভরাডুবির খবরে হতচকিত হয়ে যান তারা। ফলে এ নিয়ে শুরু করেন চুলচেরা বিশ্লেষণ। কেন তাদের এ পরিণতি হল তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেন তারা। একদিকে আওয়ামী লীগসহ মহাজোটের নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বসিত হন, অন্যদিকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তবে অনেকে এ ফলাফলকে প্রত্যাশিত বলেই মন্তব্য করেছেন। বলেছেন, এটাই তাদের পাওনা। আজকে দুর্নীতিতে বাংলাদেশের নাম শীর্ষে থাকার পেছনে তাদের অনেকের মুখ্য ভূমিকা রয়েছে। আবার অনেকে ওয়ান-ইলেভেন সৃষ্টির নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছেন।
মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্প ধারার চেয়ারম্যান একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবার আওয়ামী লীগের সুকুমার রঞ্জন ঘোষের কাছে এবং ঢাকা-৬ আসনে আওয়ামী লীগের নতুন মুখ মিজানুর রহমান খান দিপুর কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন। মুন্সীগঞ্জে তার অবস্থান তৃতীয়। প্রাপ্ত ভোট ৩৪ হাজার ১৪৭। এখানে বিজয়ী সুকুমার রঞ্জন ঘোষ পেয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ১২০ ভোট। দ্বিতীয় হয়েছেন বিএনপির শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। তার প্রাপ্ত ভোট ৯৮ হাজার ৭৮১। ঢাকা-৬ আসনে বি. চৌধুরী তৃতীয় হয়েছেন। ৬৬ হাজার ৫৭৯ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন দিপু। ৪৪ হাজার ৩৪০ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন বিএনপির সাদেক হোসেন খোকা। অথচ গত নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বদরুদ্দোজা চৌধুরী ৯৪ হাজার ৪০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। অন্যদিকে সুকুমার রঞ্জন ঘোষ পেয়েছিলেন ৬৪ হাজার ৯৯৪ ভোট।
পঞ্চগড়-১ আসনে সাবেক স্পিকার জমিরউদ্দিন সরকার মহাজোট প্রার্থী মজাহারুল হক প্রধানের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন। মজাহারুল হক পেয়েছেন ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৫০ ভোট। আর জমিরউদ্দিন পেয়েছেন এক লাখ ৭ হাজার ৭২৬ হাজার ভোট। এখানে তিনি ৪৮ হাজার ৮২৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। অথচ বিগত নির্বাচনে তিনি পেয়েছিলেন ৮১ হাজার ৬৬৪ ভোট এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মোঃ নূরুল ইসলাম পেয়েছিলেন ৭০ হাজার ১৫৫ ভোট।
কুমিল্লা-১১ আসনে এবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমদকে পরাজিত করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুজিবুল হক। এ আসন থেকে বহুবারের নির্বাচিত সাংসদ কাজী জাফর গত নির্বাচনে অংশ নেননি।
বিএনপির প্রবীণ নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান এবার সিলেট-১ ও মৌলভীবাজার-৩ আসনেই ভরাডুবির পথে। সিলেট-১ আসনে এবার আওয়ামী লীগ নেতা আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে তিনি অনেক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। আবুল মাল আবদুল মুহিত ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৩৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। সাইফুর রহমান ১ লাখ ৪০ হাজার ৩৬৭ ভোট পান। মৌলভীবাজার-৩ আসনে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৮৯২ ভোট। বিজয়ী আওয়ামী লীগের সৈয়দ মহসিন আলী পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৩৩ ভোট। বিগত নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে তিনি ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩১৩ ভোট পেয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল মাল আবদুল মুহিত পেয়েছিলেন ৯৩ হাজার ২১৮ ভোট।
নোয়াখালী-৫ আসনে মহাজোট প্রার্থী আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ১১ হাজার ২০৪। অন্যদিকে ওবায়দুল কাদের পেয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ৫৭৫ ভোট। গত নির্বাচনে তিনি পেয়েছিলেন ৮৪ হাজার ৫২৪ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী ওবায়দুল কাদের পেয়েছিলেন ৪৫ হাজার ৯০৬ ভোট।
নরসিংদী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া এবার মহাজোট প্রার্থী আওয়ামী লীগের জহিরুল হক মোহনের কাছে ধরাশায়ী হলেন। মান্নান ভূঁইয়ার প্রাপ্ত ভোট ৬৬ হাজার ৯৪১ ও মোহনের প্রাপ্ত ভোট ৯৩ হাজার ৭৪৬। অবশ্য এ আসনে তার আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন একসময়ের তার শিষ্য চারদলীয় জোটের প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার। মান্নান ভূঁইয়া বিগত নির্বাচনে ৬১ হাজার ৪৫৩ ভোট পেয়েছিলেন। ওই সময় তার প্রতিদ্বন্দ্বী মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া পেয়েছিলেন ৪৪ হাজার ৯৬০ ভোট।
মানিকগঞ্জ-১ আসনে একাধিকবারের সাংসদ বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে এবার আওয়ামী লীগের এবিএম আনোয়ারুল হকের কাছে হার মানতে হচ্ছে। আনোয়ারুল হক পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪১৯ ভোট। আর দেলোয়ার পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৯৫৬ ভোট। বিগত নির্বাচনে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ৮৫ হাজার ৪৪৫ ভোট পেয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের আবদুস সালাম পেয়েছিলেন ৫৯ হাজার ৫৪১ ভোট।
জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামীকে পাবনা-১ আসনে এবার আওয়ামী লীগের শামসুল হক টুকুর কাছে হার মানতে হয়েছে। টুকু পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯২৪ ভোট। আর নিজামী পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৯৪৪ ভোট। গত নির্বাচনে মতিউর রহমান নিজামী ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯৮২ ভোট পেয়েছিলেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের আবু সাইয়িদ পেয়েছিলেন ৯৮ হাজার ১১৩ ভোট।
কুমিল্লা-১ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে আওয়ামী লীগের সুবিদ আলী ভূঁইয়ার কাছে হার মানতে হয়েছে। অথচ বিগত নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ২৮ হাজার ৬৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। ৫৪ হাজার ৬৫১ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের হাসান জামিল সাত্তার।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী এম শামসুল ইসলাম মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের এম ইদ্রিস আলীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৭৮৫ ভোট। ইদ্রিস আলী ১ লাখ ২০ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
চট্টগ্রাম-১৪ আসনে এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ জামায়াতের শামসুল ইসলামের কাছে পরাজিত হলেও চট্টগ্রাম-১৪ আসনে আফসারউদ্দিনের সঙ্গে জয়ী হয়েছেন। শামসুল পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৩৩৯ ও অলি আহমদ পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৪১২ ভোট। চট্টগ্রাম-১৩ আসনে অলি পেয়েছেন ৮২ হাজার ৩৬ ভোট। আফসারউদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন ৬১ হাজার ৬৪৬ ভোট। অথচ গত নির্বাচনে তিনি ৭০ হাজার ১৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তখন তার প্রতিদ্বন্দ্বী আফসারউদ্দিন পেয়েছিলেন ৫৭ হাজার ৭শ’ ভোট। চট্টগ্রাম-১৪ আসনেও ধরা কর্নেল অলি। এ আসনে তিনি আওয়ামী লীগের একেএম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর কাছে হেরেছেন। অবশ্য বিগত নির্বাচনেও তিনি ওই আসনে ৬৪ হাজার ১৮৪ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। ১ লাখ ৬ হাজার ৭৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরী।
ফরিদপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের খন্দকার মোশাররফ হোসেনের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন জোট সরকারের সাবেক দুই মন্ত্রী বিএনপির সহ-সভাপতি চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। এখানে মোশাররফ হোসেন ১ লাখ ২২ হাজার ৪১৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন। আর চৌধুরী কামাল ৭৫ হাজার ৩৬৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় এবং মুজাহিদ ২৫ হাজার ১১৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান লাভ করেন।
চারদলীয় জোট সরকারের ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকীর নওগাঁ-৩ আসনে মহাজোট প্রার্থী আকরাম হোসেন চৌধুরীর কাছে ভরাডুবি হয়েছে। তিনি ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৪০ ভোট পেয়েছেন। আকরাম হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ৬৭ লাখ ১৫ হাজার ৭৪০ ভোট।
যশোর-৩ আসনে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের খালেদুর রহমান টিটো। সেখানে বিএনপির তরিকুল ইসলাম ১ লাখ ২২ হাজার ৫৩৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন। বিজয়ী টিটো ১ লাখ ৬৬ হাজার ১৯২ ভোট পান।
পটুয়াখালী-১ আসনে মহাজোট প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়ার কাছে ভরাডুবি হয়েছে বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর। এখানে শাহজাহান মিয়া পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ১৩২ ভোট। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ পেয়েছেন ৭৩ হাজার ১৭ ভোট।
ঢাকার মেয়র ও বিএনপির সাবেক নগর সভাপতি সাদেক হোসেন খোকা ঢাকা-৬ আসনে এবার আওয়ামী লীগের তরুণ নেতা মিজানুর রহমান খানের কাছে পরাজিত হলেন। বিগত নির্বাচনে খোকা ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৮৬ পেয়ে জয়ী হন। ৯৮ হাজার ২২৯ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছিলেন মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।
ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান সাবেক সাংসদ মুফতি ফজলুল হক আমিনী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মহাজোট প্রার্থী জাতীয় পার্টির জিয়াউল হক মৃধার সঙ্গে ধরাশায়ী হয়েছেন। মৃধা পেয়েছেন ৫২ হাজার ৫৬৫ ভোট। আমিনী পেয়েছেন ২২ হাজার ২৪৪ ভোট।

যুগান্তর, ৩০ ডিসেম্বর, ২০০৮

Permalink

কাজ পেতে কোকোকে ঘুষ দেয় সিমেন্স

ফখরুল ইসলাম হারুণ, আব্দুল্লাহ মামুন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো জার্মান বহুজাতিক কোম্পানি সিমেন্স এজির স্থানীয় প্রতিষ্ঠান সিমেন্স বাংলাদেশকে অর্থের বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দিয়েছিলেন। এ জন্য কোকোকে কমপক্ষে এক কোটি ২৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা যায়, প্রতিশ্রুত টাকা দেওয়া হয়নি বলে কোকো অভিযোগ করলে অতিরিক্ত অর্থ হিসেবে ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁর সিঙ্গাপুরের ব্যাংক হিসাবে এই অর্থ জমা পড়ে। সিঙ্গাপুরে কোকোর ব্যাংক হিসাবে যে ১১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে, তার মধ্যে এই টাকাও আছে।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশের সরকারি মোবাইল ফোন কোম্পানি টেলিটক প্রকল্পের কাজ পায় সিমেন্স ৫৩ লাখ ডলার ঘুষ দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও ইতালির তদন্ত এবং সিমেন্স এজির নিজস্ব তদন্তে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। মার্কিন আদালতে ঘুষ দেওয়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে সিমেন্স বাংলাদেশও। শাস্তিস্বরূপ তাদের পাঁচ লাখ ডলার জরিমানা দিতে হবে। গত ১২ ডিসেম্বর মার্কিন আদালত এই রায়দেন।

আদালতের এই রায়মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের প্রতিবেদনে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া মার্কিন বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমেও এই রায়ের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে।

এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘুষ দেওয়ার অপরাধে সিমেন্সকে এ পর্যন্ত ১৬০ কোটি মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে হয়েছে। আর নিজস্ব তদন্ত ও সংস্কারকাজে তাদের ব্যয় হয়েছে আরও ১০০ কোটি ডলার।

বাংলাদেশে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু হলে অন্যান্য দেশের সঙ্গে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাগ্রিমেন্ট বা পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তি না থাকার কারণে প্রথম দিকে বাইরে থেকে সাহায্য পাওয়া যায়নি। পরে সরকারের দুর্নীতিবিরোধী উদ্যোগে সাহায্যের ব্যাপারে বিশ্বের অনেক দেশ এগিয়ে এসেছে। সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে পাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের দুর্নীতিসংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়কে দায়িত্ব দিয়েছে। তারা এ সংক্রান্ত তথ্য পেতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর ও ইতালি থেকে বিভিন্ন মামলার নথিপত্র ও তদন্ত প্রতিবেদন পেতে শুরু করেছে। শিগগির আরও এক ডজন সাবেক মন্ত্রী-রাজনীতিকের সম্পর্কে তথ্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় পেতে পারে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশের সরকারি মোবাইল ফোন কোম্পানি টেলিটকের কাজ পাওয়ার জন্য সিমেন্স বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ঘুষ দেওয়ার বিষয়টির বিস্তারিত জানা যায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতের কাগজপত্র থেকে। বিশ্বব্যাপী দুর্নীতির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে সিমেন্স এজির বিরুদ্ধে মামলা হয়। এর মধ্যে সিমেন্স বাংলাদেশও রয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট জজ রিচার্ড জে লিওনের আদালতে শুনানি চলাকালে মূল প্রতিষ্ঠান সিমেন্স এজি তাদের দোষ স্বীকার করে নেয় এবং ৪৪ কোটি ৮৫ লাখ ডলার শোধ করতে সম্মত হয়। এর মধ্যে সিমেন্স বাংলাদেশের মতো সিমেন্স আর্জেন্টিনা ও সিমেন্স ভেনিজুয়েলাও আছে। এরা প্রত্যেকে পাঁচ লাখ ডলার করে জরিমানা দিতে সম্মত হয়েছে।

তিন যুগ আগে মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া একটি আইনে বলা হয়েছে, বাইরের দেশে কাজ পেতে কোনো মার্কিন কোম্পানি ঘুষ দিতে পারবে না। সিমেন্স মূলত জার্মান কোম্পানি হলেও তা নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে নিবন্ধিত। সে কারণে সিমেন্স বাংলাদেশের বিরুদ্ধে "দ্য ফরেন করাপ্ট প্র্যাকটিসেস অ্যাক্ট-১৯৭৭" আইনে মামলা করে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এ মামলার বিবরণে টেলিটকের কাজ পেতে সিমেন্স কী ধরনের অসাধু পন্থা অবলম্বন করেছিল, তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। কলম্বিয়ার ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে পেশ করা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতিবেদন, ইতালির সরকারি কৌঁসুলির দপ্তর থেকে পাঠানো অনুরোধপত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যসংবলিত প্রতিবেদন প্রথম আলোর হাতে এসেছে।

সম্প্রতি ইতালির সরকারি কৌঁসুলি প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে সহযোগিতা চেয়ে অনুরোধপত্র পাঠায়। এটি পাঠানো হয় বাংলাদেশে অবস্থিত ইতালি দুতাবাসকে। সঙ্গে পাঠায় সিমেন্স নিযুক্ত মার্কিন ল ফার্ম দেবেভয়স অ্যান্ড প্লিমটনের তৈরি তদন্ত প্রতিবেদনের সংক্ষিপ্তসার। এ তদন্ত প্রতিবেদনেও কীভাবে কোকো ও অন্যদের সঙ্গে ঘুষের লেনদেন হয়েছে, তার বিস্তারিত বর্ণনা আছে। ইতালি দুতাবাস ওই সংক্ষিপ্তসারসহ অনুরোধপত্রটি এ মাসের শুরুতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। আর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ মাসের মাঝামাঝি তা পাঠিয়ে দেয় আইন মন্ত্রণালয় ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে।

ইতালির সরকারি কৌঁসুলি লরা পেডিও স্বাক্ষরিত ওই অনুরোধপত্রে বাংলাদেশের আদালতের হস্তক্ষেপও চাওয়া হয়েছে। আরও তথ্য পেতে অনুরোধ জানানো হয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের দিলকুশা শাখায় পরিচালিত সিমেন্স বাংলাদেশের ব্যাংক হিসাবসহ (হিসাব নম্বর ০১-২০০৫৩৪৪-০১) একই শাখায় পরিচালিত এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের হিসাব পরীক্ষা করার। পাশাপাশি তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করার এবং তাঁদের বাসায় তল্লাশি চালানোরও অনুরোধ করা হয়।

এ প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে পররাষ্ট্রসচিব মো. তৌহিদ হোসেন গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোর কাছে সিমেন্স বাংলাদেশের দুর্নীতিবিষয়ক একটি চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, "চিঠিটি এসেছে বাংলাদেশের ইতালি দুতাবাস থেকে। পাওয়ার পরই চলতি মাসের মাঝামাঝি একাধিক কপি করে তা আইন মন্ত্রণালয় ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।" তিনি বলেন, "এ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কিছু করার নেই। যাদের কিছু করার আছে, তাদের কাছেই তা পাঠানো হয়েছে।"

অ্যাটর্নি জেনারেল সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, এটি অত্যন্ত গোপনীয় বিষয়। এ নিয়ে কোনো আলোচনা বা মন্তব্য করতে রাজি নন তিনি।

প্রায় একই ধরনের মন্তব্য করেন আইনসচিব কাজী হাবিবুল আউয়াল। গত বৃহস্পতিবার যোগাযোগ করা হলে তিনিও এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাননি।

যেভাবে জড়িত হলেন কোকো ও তৎকালীন টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক: সিমেন্স ২০০০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকেই টেলিটক মোবাইল ফোন প্রকল্পের কাজ পেতে চেষ্টা চালায়। এ জন্য ফজলে সেলিম ও জুলফিকার আলী নামের দুজনকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয় সিমেন্স বাংলাদেশ। ২০০১ সালের ২৭ মার্চ সিমেন্স ইতালির বাণিজ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা ওই দুই পরামর্শকের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করেন। এতে বলা হয়, ফজলে সেলিম ও জুলফিকার আলীর বিভিন্ন প্রকল্পে ১৫ বছরের সফলতার ইতিহাস আছে। সার্বিকভাবে জটিল এ কাজে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দুই রাজনৈতিক দল, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটিতে বিটিটিবির শীর্ষ থেকে নিম্নপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। এ কারণে তাঁরা পরামর্শক ফি সাধারণ কমিশনের তুলনায় বেশি চেয়েছেন। ওই বছরের ২৪ এপ্রিল সিমেন্স বাংলাদেশ ও সিমেন্স ইতালি ওই দুই পরামর্শকের সঙ্গে ব্যবসাসংক্রান্ত কাজের ব্যাপারে তাঁদের কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানায়। সে সময় তাঁদের সঙ্গে মৌখিকভাবে চুক্তি হয় যে প্রকল্পের অর্থের মধ্যে ১০ শতাংশ তাঁদের দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রে মামলার নথিতে এসব তথ্য দেওয়া আছে। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম সরাসরি না দিয়ে প্রতীকী শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ইতালির দেবেভয়স অ্যান্ড প্লিমটনের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্টদের নাম সরাসরি এসেছে। বিটিসিএলের কর্মকর্তারাও তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।

বিটিটিবির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার আগে টেলিটক প্রকল্পটির জন্য তিনবার খোলা দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং তিনবারই অংশ নেয় সিমেন্স বাংলাদেশ। এতে অংশ নিয়ে কারিগরি অযোগ্যতার কারণে বাদ পড়ে সিমেন্স। পরবর্তী সময়ে পুরো প্রক্রিয়াটিই অবশ্য বাতিল করা হয়। দ্বিতীয়বার ২০০১ সালে দরপত্র আহ্বান করা হলে তালিকায় নাম ওঠে সিমেন্সের। কিন্তু সদ্য ক্ষমতায় বসা তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকার তা বাতিল করে দেয়। অর্থের পরিমাণ পরিবর্তন ও সরবরাহকারীর সংখ্যা কমিয়ে দিয়ে তৃতীয় দরপত্র আহ্বান করা হয় ২০০২ সালে। কিন্তু ২০০২ সালের ১৮ ডিসেম্বর সিমেন্স ওই দরপত্রে যথাযথভাবে সনদ দেখাতে না পারায় অকৃতকার্য হয়।

মার্কিন আদালতে মামলার নথিতে বলা হয়, পরদিন ১৯ ডিসেম্বর সিমেন্স বাংলাদেশের তৎকালীন বাণিজ্য বিভাগের প্রধান খালেদ শামস সিমেন্স ইতালির একজন কর্মকর্তার কাছে ই-মেইলে জানান, ওই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য ফজলে সেলিম ও জুলফিকারের কোনো ক্ষমতা নেই। এ ধরনের প্রকল্পের জন্য অবশ্যই শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রণালয় এবং বিটিটিবির শীর্ষ ও কারিগরি ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকতে হবে। ওই দুই পরামর্শকের সঙ্গে টেলিযোগাযোগমন্ত্রীর ভালো যোগাযোগ নেই।

এ সময় মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে তৃতীয় পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয় সিমেন্স বাংলাদেশ। তিনি তৎকালীন টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের বেয়াই। সিমেন্সের বাণিজ্য বিভাগের তৎকালীন প্রধান খালেদ শামস (বর্তমানে নকিয়া সিমেন্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের কান্ট্রি পরিচালক) তাঁকে এ অনুরোধ করেন। খালেদ শামস এ কথা মার্কিন তদন্তকারীদের বলেছেন। মামলার নথি থেকে জানা যায়, মিজানুর রহমান প্রথমেই নিজেকে মন্ত্রীর লোক বলে পরিচয় দেন এবং বলেন, দরপত্র বাতিল হলেও কাজটি তিনি সিমেন্সকে পাইয়ে দিতে পারবেন।

২০০৩ সালের শেষ দিকে ব্যারিস্টার আমিনুল হক বিটিটিবির প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বুঝিয়ে বাতিল দরপত্র সচল করতে সক্ষম হন বলে যুক্তরাষ্ট্রের মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, মন্ত্রী এ সময় সিমেন্সের প্রস্তাব সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটিতে পাঠাতে বলেন। ২০০৪ সালের ২৬ জানুয়ারি ক্রয় কমিটি সিমেন্সের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এ সময় ব্যারিস্টার আমিনুল হক খালেদ শামসকে জানান, তিনি সিমেন্সকে একটি ভালো অবস্থানে আনার জন্য বিষয়টি দেশের শীর্ষস্তরে নিয়ে যেতে চান।

মার্কিন আইন সংস্থার তদন্তে জানা যায়, ওই সময়ই আরাফাত রহমান কোকো নির্দিষ্ট কমিশনের (পারসেন্টেজ) বিপরীতে সিমেন্সকে ওই অবস্থা থেকে উদ্ধার করার জন্য খালেদ শামসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আর আর্থিক বিষয়টি সুরাহার জন্য তাঁরা যোগাযোগ করেন কোকোর প্রতিনিধি সাজিদ করিম নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। সাজিদ করিম দরপত্রে অংশ নেওয়া চীনা কোম্পানি হুয়াইয়ের প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করেন বলে ইতালি সরকারের অনুরোধপত্রে জানানো হয়েছে। সিমেন্সের সঙ্গে হুয়াইও টেলিটক প্রকল্পের আংশিক কাজ পায়।
সব ধরনের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সিমেন্সের দরপত্র পাস হয় এবং ২০০৪ সালের ১৪ জুন বিটিটিবির সঙ্গে তাঁদের চুক্তি হয়। দরপত্র পাস হওয়ার খবরটি কোকোই প্রথম জানান খালেদ শামসকে।

মার্কিন আদালতের মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালের মাঝামাঝি কোকো ও খালেদ শামসের মধ্যে কথা হয়। এ সময় কোকো তাঁকে প্রতিশ্রুত টাকা দেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। খালেদ ও সিমেন্সের নতুন প্রধান নির্বাহী রুডলফ ক্লিংক কোকোর সঙ্গে দেখা করে আশ্বস্ত করেন যে তাঁরা প্রতিশ্রুত অর্থ দেওয়ার ব্যাপারে আন্তরিক।

২০০৫ সালের সেপ্টেম্বরে পরামর্শক জুলফিকার আলী সিঙ্গাপুরে ইউনাইটেড ওভারসিজ ব্যাংকে (ইউওবি) কোকোর ব্যাংক হিসাবে এক লাখ ৮০ হাজার ডলার পাঠিয়ে দেন।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয় খালেদ শামসের সঙ্গে। তখন তিনি বলেন, পরে কথা বলবেন। তখন থেকে গতকাল রোববার পর্যন্ত বারবার তাঁর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। তাঁর ফোনে রিং হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এমনকি কথা বলার জন্য এসএমএস পাঠানো হলেও এর উত্তর দেননি।

সিঙ্গাপুরে কোকোর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও সিমেন্সের টাকা: সংশ্লিষ্ট একটি সুত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ১২ এপ্রিল সিঙ্গাপুরের এক নাগরিকের সহযোগিতায় কোকো ওই দেশে জেডএএসজেড ট্রেডিং অ্যান্ড কনসালটিং প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি নিবন্ধন করেন এবং ইউওবি ব্যাংকে হিসাব খোলেন। সিঙ্গাপুরের ওই নাগরিকের সঙ্গে কোকোর পরিচয় করিয়ে দেন কিউসি শিপিংয়ের এক কর্মকর্তা। ব্যাংক হিসাবটি যৌথ হলেও তা থেকে অর্থ তোলার ক্ষমতা ছিল একমাত্র কোকোর। যুক্ত সই কিংবা এককভাবে চেকে কোকো সই করে অর্থ তুলতে পারতেন। সিঙ্গাপুরের ওই ব্যাংকে কোনো বিদেশি নাগরিকের হিসাব খোলার নিয়ম নেই। সে কারণেই ওই নাগরিকের সহযোগিতা নেন কোকো। সিঙ্গাপুরের ওই নাগরিকের বক্তব্য ইতিমধ্যে জমা পড়েছে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে।

লিখিত ওই বক্তব্যে জানা যায়, সিমেন্সের পরামর্শক জুলফিকার আলী ২০০৫ সালের ৬ অক্টোবর কোকোর ওই হিসাবে এক কোটি ২৬ লাখ টাকা (এক লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার) জমা করেন। এর আগে ওই ব্যাংক হিসাবে চায়না হার্বার ইঞ্জিনিয়ারিং নামে একটি প্রতিষ্ঠান ২০০৫ সালের ৬ মে ও ৩১ মে যথাক্রমে নয় লাখ ২০ হাজার ৯৮৬ এবং আট লাখ ৩০ হাজার ৬৫৬ সিঙ্গাপুরি ডলার জমা করে। ২০০৫ সালে চট্টগ্রামে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান চায়না হার্বার ইঞ্জিনিয়ারিং।

১৮ ডিসেম্বর সংবাদ ব্রিফিংয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন−দুদক জানায়, সিঙ্গাপুর সরকার সে দেশের ব্যাংকে জমা কোকোর ১১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা জব্দ করেছে। কোকোর জমা থাকা ও জব্দ করা টাকার বিশদ বিবরণ সিঙ্গাপুর সরকার বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে জানালে ওই অর্থের উৎসের ব্যাপারে দুদক অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে।
সুত্র জানিয়েছে, ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে কোকো সিঙ্গাপুরের ওই নাগরিককে জেডএএসজেডের নামে থাকা হিসাব বন্ধ করে ওই টাকা অন্য একটি ব্যাংকে জমা দিতে নির্দেশ দেন। ওই সময় ক্রেডিট ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাট কমার্শিয়াল (সিআইসি) নামে ফরাসি ব্যাংকের সিঙ্গাপুর শাখায় কোকোর টাকা স্থানান্তর করেন তিনি। তবে এবার ওই হিসাব কোকোর নামে নয়, ওই নাগরিকের নামেই করা হয়। এ সময় ২০ লাখ ১৩ হাজার ৪৬৭ দশমিক ৩৮ সিঙ্গাপুরি ডলার স্থানান্তর করা হয়। তবে গত বছরের নভেম্বরে তিনি ওই অর্থ আবারও আগের ব্যাংকে স্থানান্তর করেন বলে জানা যায়।

তবে সিঙ্গাপুরে জেডএএসজেড নামে কোম্পানি ছাড়াও ফারহিল কনসালটিং প্রাইভেট লিমিটেড নামে কোকোর আরেকটি কোম্পানির সন্ধান পাওয়া গেছে। সুত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে টেলিফোন ব্যবসার জন্য দুবাইয়ের একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পরামর্শক হিসেবে কাজ করার জন্য ওই কোম্পানি খোলেন তিনি। ২০০৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর ইউওবির অন্য একটি শাখায় সিঙ্গাপুরের ওই নাগরিককে হিসাব খুলতে নির্দেশ দেন কোকো। তবে এবার সিঙ্গাপুরের ওই ব্যক্তির নামেই হিসাব খোলা হয়। ২০০৬ সালের ১৭ ও ১৯ জানুয়ারি হিসাবটিতে যথাক্রমে এক লাখ ৪৯ হাজার ৯৮৮ ও এক লাখ নয় হাজার ৯৮৮ মার্কিন ডলার জমা পড়ে। হাবিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তি দুবাই থেকে ওই টাকা জমা দেন। এরপর ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি কোকোর নির্দেশে সিআইসি ব্যাংকে ওই টাকা স্থানান্তর করেন।

কাজ পেতে সিমেন্সের ব্যয় ৩৭ কোটি টাকা: ২০০১ সালের মে থেকে ২০০৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত টেলিটক প্রকল্পের কাজ পেতে সিমেন্স অন্তত ৫৩ লাখ ৩৫ হাজার ৮৩৯ দশমিক ৮৩ মার্কিন ডলার বা ৩৭ কোটির বেশি টাকা ব্যয় করে। এ টাকা তিন পরামর্শক সাজিদ সেলিম, জুলফিকার আলী ও মিজানুর রহমানকে দেওয়া হয়। তাঁদের হাত ঘুরে টাকা চলে যায় প্রকল্পসংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিটিটিবির কর্মকর্তাদের কাছে। কিছু টাকা হাতে হাতে তুলে দেওয়া হয় বিটিটিবির কর্মকর্তা বা তাঁদের আত্মীয়দের হাতে।

২০০৩ সালের এপ্রিলে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সদস্য নাদির শাহ কোরেশীর কাছে ১০ হাজার ডলার, বিটিটিবির অপর এক কর্মকর্তার মেয়ের কাছে পাঁচ হাজার ডলার এবং মন্ত্রীর ভাগ্নের কাছে এক হাজার ডলার তুলে দেয় সিমেন্স। যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের করা মামলার নথিতে এ বিষয়গুলোর সুস্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে। সিমেন্স তৃতীয় দরপত্রে সনদসংক্রান্ত ত্রুটির জন্য যে অকৃতকার্য হয়, তার থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অর্থ দেওয়া হয় কোরেশীকে। ২০০২-এর শেষপ্রান্তে কিংবা পরের বছরের শুরুতে বিটিটিবির প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সদস্য ও বর্তমানে টেলিটকে কর্মরত ইউসুফ নিয়াজকে ১০ হাজার ডলারের বিনিময়ে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে মার্কিন আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

একই সময়ে কোরেশীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মূল্যায়ন কমিটির আরেক সদস্যকে সিমেন্স "প্রকৌশলী" হিসেবে নিয়োগ দেয়। ওই প্রকৌশলীর মেয়ের কাছে পাঁচ হাজার ডলার তুলে দেওয়া হয়। বিটিটিবির একাধিক সুত্র জানিয়েছে, ওই প্রকৌশলী চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে এখন আরেকটি সরকারি সংস্থায় জ্যেষ্ঠ পরামর্শক হিসেবে নিয়োজিত আছেন। ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের অনুরোধে তাঁর ভাগ্নেকে এক হাজার ডলার দিয়ে চুক্তি করে সিমেন্স।

যোগাযোগ করা হলে তৎকালীন বিটিটিবির পরিচালক (ক্রয়) নাদির শাহ কোরেশী (বর্তমানে বিটিসিএলের ইনফোবাহন প্রকল্পের পরিচালক) গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে জানান, সিমেন্স থেকে এক কানাকড়িও নেননি তিনি। প্রতিবেদনে ১২ হাজার ডলার গ্রহণকারী হিসেবে তাঁর নাম থাকার কথা জানানো হলে তিনি বলেন, সিমেন্সের লোকজন নিজেরা অর্থ খেয়ে হয়তো তাঁর নাম ঢুকিয়ে দিয়েছে।

প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সদস্য ইউসুফ নিয়াজ এখন টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক। অর্থ গ্রহণের কথা অস্বীকার করে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, "আমি যদি অবৈধভাবে সিমেন্স থেকে অর্থ গ্রহণ করে থাকি, তাহলে আমার তো জেল হওয়া উচিত।"

তৃতীয়বারের মতো দরপত্র বাতিল হলেও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটিতে এ প্রকল্প উঠল কী করে বা ক্রয়সংক্রান্ত কমিটি অনুমোদন না করলেও শেষ পর্যন্ত তা পাস হলো কীভাবে−এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পাঁচ বছর আগের ঘটনা তিনি মনে করতে পারছেন না।

পরামর্শক ব্যয়ের সিংহভাগ অর্থ সরাসরি দেওয়া হয় তিন পরামর্শক ফজলে সেলিম, জুলফিকার আলী ও মিজানুর রহমানকে। মার্কিন আদালতে মামলার নথি থেকে জানা গেছে, সিমেন্স জানত ওই টাকার অংশ বা পুরো টাকা পরামর্শকদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়া হবে।

বিটিটিবির মোবাইল প্রকল্পের কাজ পাওয়ার পর সিমেন্স ২০০৬ সালের ২৩ মার্চ তিন পরামর্শক ফজলে সেলিম, জুলফিকার আলী ও মিজানুর রহমানের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকোতে সিমেন্সের ব্যাংক হিসাব থেকে ৮০ হাজার ডলার করে পাঠায়। এর আগে ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বরে মিজানুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং তাঁর হংকংয়ের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই অর্থ জমা দেওয়া হয়। এর বাইরে তাঁদের বিভিন্ন সময়ে টাকা দেওয়া হয়।

দুর্নীতির অভিযোগে গত বছর গ্রেপ্তার হন আরাফাত রহমান কোকো। বর্তমানে সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেয়ে তিনি চিকিৎসার জন্য ব্যাংককে আছেন। সে জন্য এ ব্যাপারে কথা বলতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

প্রথম আলো, ২২ ডিসেম্বর, ২০০৮

Permalink

সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম এর দেয়া ৫০ যুদ্ধাপরাধীর তালিকা

সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম এর দেয়া ৫০ যুদ্ধাপরাধীর তালিকা

১. গোলাম আজম
২. মওলানা এ কে এম ইউসুফ
৩. মতিউর রহমান নিজামী
৪. দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী
৫. মো: কামরুজ্জামান
৬. মওলানা আব্দুর রহিম
৭. আব্বাস আলী খান
৮. আলী আহসান মোহাম্মদ মোজাহিদ
৯. আব্দুল কাদের মোল্লা
১০. মোহাম্মদ হামিদুল হক চৌধুরী
১১. খাজা খায়রুদ্দিন
১২. মোহাম্মদ আলী
১৩. মোহাম্মদ আব্দুল আলীম
১৪. এএমএস সোলায়মান
১৫. সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী
১৬. ফজলুল কাদের চৌধুরী
১৭. জুলমত আলী খান
১৮. কাজী কাদের
১৯. খান আব্দুস সবুর খান
২০. মওলানা ফরিদ আহমেদ
২১. শাহ্ মোহাম্মদ আজিজুর রহমান
২২. মাওলানা আব্দুল মান্নান
২৩. ডা: আবু মোতালেব মালেক
২৪. মোহাম্মদ ইউনুস
২৫. এবিএম খালেক মজুমদার
২৬. এএন এম ইউসুফ
২৭. নুরুল আমিন
২৮. এ কিউ এম শফিউল ইসলাম
২৯. আবদুল মতিন
৩০. এড. মোহাম্মদ আইনুদ্দিন
৩১. মাওলানা নুরুজ্জামান (আইআরপি)
৩২. মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক
৩৩. গোলাম সরোয়ার
৩৪. মোহাম্মদ আকতার উদ্দিন আহমেদ
৩৫. মাওলানা আবদুস সোবাহান
৩৬. ক্যাপ্টেন (অব: ) আব্দুল বাছেদ
৩৭. আবদুল মতিন ভূঁইয়া
৩৮. মোহাম্মদ আবুল কাশেম
৩৯. ওবায়দুল্লাহ মজুমদার
৪০. মীর কাশেম আলী
৪১. ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বার
৪২. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
৪৩. মোহাম্মদ আবদুল হান্নান
৪৪. ব্যারিস্টার কোরবান আলী
৪৫. আশরাফ হোসাইন
৪৬. এড. আনসার আলী
৪৭. মোহাম্মদ কায়সার
৪৮. আবদুল মজিদ তালুকদা
৪৯. নওয়াজেস আহমেদ
৫০. একে মোশাররফ হোসেন।

Permalink

‘সাংবাদিক এলে ড্রয়িংরুমকে বলবেন বিজেপির কার্যালয়’

নিবন্ধনের শর্তের সত্যতা যাচাই শুরুর পর চট্টগ্রামের রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা নতুন করে বাসাবাড়িতে কার্যালয় খুলছে। শুধু তাই নয়, টাঙানো হচ্ছে নতুন সাইনবোর্ডও। এ ছাড়া রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা ভিড় করছেন স্থানীয় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে। তবে নির্বাচন কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কখন কোন দলের কার্যালয় তদন্ত হবে, তা আগেভাগে বলা যাবে না।

গত বুধবার প্রথম আলোতে ‘চট্টগ্রামে ছাপাখানায় বিজেপি, ওষুধের দোকানে এনপিপির কার্যালয়!’ শিরোনামের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর নিবন্ধন পাওয়ার কৌশল হিসেবে বুধবার বিকেলেই একই হোল্ডিংয়ের চতুর্থ তলায় মমতাজ বেগমের বাসার ড্রয়িংরুমে বসে ছবি তোলে জাতীয় পার্টি (মতিন) বিজেপির নেতা-কর্মীরা। বাসার বাইরে টাঙানো হয় নতুন করে লেখা সাইনবোর্ড। সরেজমিন অনুসন্ধানে বুধবারের আগে সেখানে বিজেপির কোনো সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। এ ব্যাপারে জানতে একই ঠিকানার চতুর্থ তলায় গিয়ে দেখা যায়, বাসার ড্রয়িংরুমে বসে টেলিভিশন দেখছেন মমতাজ বেগমের পরিবার। এটি বিজেপির কার্যালয় কি না, জানতে চাইলে মমতাজ বেগম বলেন, ‘এটি আমার ফ্যামিলি বাসা, কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় নয়। তবে পরিচয়ের সুত্র ধরে বুধবার বিজেপির লোকজন এখানে বসে ছবি তুলেছেন।’ জাহাঙ্গীর সাহেব(নগর বিজেপির সভাপতি) মমতাজকে অনুরোধ করে বলেছেন, ‘সাংবাদিক এলে ড্রয়িংরুমটাকেই বলবেন বিজেপির কার্যালয়।’

গতকাল বৃহস্পতিবার আবারও বিজেপির নেতা-কর্মীরা ওই বাসায় গেলে মমতাজ বেগম বলেন, ‘আপনারা এখান থেকে চলে যান। এখানে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় নেই, হবেও না।’ বাসার বাইরে টাঙানো সাইনবোর্ডও তিনি সরিয়ে ফেলেছেন বলে জানান।

এ বিষয়ে দলের সিনিয়র সহসভাপতি আবু মুজাফফর মোহাম্মদ আনাছ গতকাল বিকেলে ফোন করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘জরুরি অবস্থার কারণে এখন ড্রয়িংরুমে আমাদের কাজ চালাতে হচ্ছে। আমরা ছোট দল, নিবন্ধনের আগে অন্তত আমাদের পক্ষে একটু লিখুন।’

তদন্তকারী কোতোয়ালি থানার নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘দু-এক দিনের জন্য বাসাবাড়িতে বসে দলের কার্যালয়ের অস্তিত্ব প্রমাণের সুযোগ নেই। সরেজমিনে যাচাই করে এই ঠিকানায় বিজেপির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে ঢাকায় প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।’

নির্বাচন কমিশন সুত্র জানায়, নিবন্ধনের শর্তের সত্যতা যাচাই শুরুর পর প্রতিদিনই রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা নগরের রহমতগঞ্জের নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে আসছে। তারা নিজেদের জেলা, উপজেলা কমিটির ঠিকানা দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু নির্বাচন কর্মকর্তারা এসব ঠিকানা আমলে নেননি।

বিষয়টি স্বীকার করে চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. দুলাল তালুকদার গতকাল বলেন, ‘ঢাকা (নির্বাচন কমিশন সচিবালয়) থেকে যেসব রাজনৈতিক দলের ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হচ্ছে, সেসব দলের কার্যালয় ও অস্তিত্ব খতিয়ে দেখছি আমরা। সংশ্লিষ্ট ঠিকানা অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ও কমিটি আছে কি না, তা তদন্ত করা হবে। নতুন করে দেওয়া কোনো রাজনৈতিক দলের ঠিকানায় গিয়ে কার্যালয় যাচাই করা হবে না।’

নির্বাচন কমিশন সুত্র জানায়, প্রতিদিনের তদন্তে এখনো ভুয়া ঠিকানা বেরিয়ে আসছে। এ প্রসঙ্গে তদন্তকারী বন্দর থানার নির্বাচন কর্মকর্তা মো. নুরুল আলম বলেন, ‘পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশের বন্দর থানার ঠিকানায় দলের কোনো কার্যালয় পাওয়া যায়নি। ফোন-ফ্যাক্সের একটি দোকানকে এই দলের কার্যালয় করা হবে বলে দোকানি আমাকে জানিয়েছেন।’

একইভাবে তদন্তকারী নির্বাচন কর্মকর্তা মিরসরাই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভুমি) শেখ ফরিদ আহমেদ মান্দরবাড়িয়া গ্রাম, নয় নম্বর ইউনিয়ন, তিন নম্বর ওয়ার্ডে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ এর মিরসরাই উপজেলা কার্যালয় খুঁজে পাননি বলে প্রতিবেদন দেন।
প্রথম আলো, ৩১ অক্টোবর, ২০০৮

Permalink

খুলনায় তিন রাজনৈতিক দলের ঠিকানায় স্কুল, বীমা ও শিপিং কার্যালয়

সামছুজ্জামান শাহীন, খুলনা
নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের আবেদনে ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টির (এনপিপি) খুলনা জেলা ও মহানগর কমিটির ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে "৭২/১ মিউনিসিপ্যাল ট্যাংক রোড, খুলনা"। কিন্তু ওই ঠিকানায় পাওয়া গেল একটি দ্বিতল বাড়ি। নিচতলায় চলছে "মডার্ন কিন্ডারগার্টেন" নামের একটি বিদ্যালয়। আর ওপরের তলায় বসবাস করছেন বাড়ির মালিক শাজাহান শেখ।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই ঠিকানায় খোঁজ নিতে গেলে শাজাহান শেখ সাংবাদিককের সঙ্গে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। তবে তাঁর ছোট ভাই জাহাঙ্গীর জানান, শাজাহানের ভায়রা জাকির হোসেন এনপিপির খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি। তিনি ঢাকার ধোলাইখালে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।
মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে জাকির হোসেন বলেন, "ভায়রার বাড়ি থেকে দলের কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। তাই সেই ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে। খুলনা পৌর সুপার মার্কেটে দলের কার্যক্রম চালাতে ভবন ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। দু- এক দিনের মধ্যে সেখানে কার্যালয় স্থানান্তর করা হবে। সাইনবোর্ডও বানাতে দেওয়া হয়েছে।"
কল্যাণ পার্টি এবং সামাজিক রাজনৈতিক আন্দোলন নামের দুই দলের থানা ও উপজেলা কার্যালয়ের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।

খুলনা সদর থানা নির্বাচন কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান বলেন, কল্যাণ পার্টির মহানগর ও জেলা কমিটির কার্যালয়ের ঠিকানায় পাওয়া গেছে জীবন বীমা করপোরেশনের কার্যালয়সহ কয়েকটি শিপিং অফিস। সামাজিক রাজনৈতিক আন্দোলনের খুলনা সদর ও সোনাডাঙ্গা থানার ঠিকানায় কোনো কার্যালয় পাওয়া যায়নি।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, সামাজিক রাজনৈতিক আন্দোলনের খুলনা মহানগর এবং জেলায় নয়টি কমিটি ও কার্যালয় আছে বলে নিবন্ধনের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু মহানগরের বয়রা কলেজ রোডে মহানগর ও জেলা কমিটির কার্যালয়টির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ফুলতলা উপজেলা কার্যালয়ের ঠিকানায় পাওয়া গেছে চাল ও তরিতরকারির বাজার। বাকি আটটি কার্যালয়ের অনুসন্ধান চলছে।
প্রথম আলোর অনুসন্ধানে সামাজিক রাজনৈতিক আন্দোলনের আটটি থানা ও উপজেলা কমিটির কার্যালয়ের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। দলের সদর ও সোনাডাঙ্গা থানা কমিটির কার্যালয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে "৮১ গোবরচাকা, মেইন রোড"। কিন্তু সেখানে কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ছিল না বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।
দলটির খালিশপুর থানা কমিটির কার্যালয়ের ঠিকানা দেওয়া হয়েছে "মুজগুন্নী মেইন রোড"। ওই রোডের বাসিন্দা ব্যবসায়ী সরদার আজিজুর রহমান ও শেখ মারুফুল হক বলেন, এই সড়কের দুই পাশে আবাসিক এলাকা। এর মধ্যে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় নেই। দৌলতপুর থানা কমিটির ঠিকানায় কার্যালয় দেখানো হয়েছে আড়ংঘাটা ইউনিয়ন। কিন্তু সেখানে গিয়ে পাওয়া যায় একটি ছোট বাজার।
একইভাবে ডুমুরিয়া, রূপসা ও তেরখাদা উপজেলা কমিটির কার্যালয়ের কোনো অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সামাজিক রাজনৈতিক দলের জেলা কমিটির সমন্বয়ক কামরুল আলম মিন্টুর নিজস্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অফিস ভবনের নিচতলায় চালানো হচ্ছে দলের খুলনা মহানগর ও জেলা কমিটির কার্যক্রম।
মিন্টু প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, মহানগর ও জেলা কমিটির বাইরে তাঁদের আটটি থানা ও উপজেলা কমিটির কার্যালয় আছে। কিন্তু সাইনবোর্ড লাগানো হয়নি। তিনি বলেন, থানা ও উপজেলা কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা কার্যালয় নিয়েছেন।
সদর ও সোনাডাঙ্গা থানা কমিটির কার্যালয় খুঁজে না পাওয়ার বিষয়ে মিন্টু বলেন, আসলে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত এস এম এ রবের বড় ছেলে এস এম আরিফুর রহমান মিঠুর অফিস থেকেই ওই দুই কমিটির কর্মকান্ড পরিচালনা করা হয়। কিন্তু গতকাল দুপুরে মিঠু প্রথম আলোকে বলেন, "আমার অফিস থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মকান্ড পরিচালনা করা হয় না।"
একই দলের মহানগর কমিটির সমন্বয়ক শফিউল আলম কিসলু বলেন, নতুন দল তো, তাই সবগুলোর কার্যালয় এখনো নেওয়া হয়নি, চেষ্টা চলছে।
প্রথম আলো, ৩১ অক্টোবর, ২০০৮

Permalink

আট ব্র্যান্ডের গুঁড়া দুধ বিক্রি বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ

হাইকোর্ট পরীক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানো ৮ ব্র্যান্ডের গুঁড়া দুধ সম্পর্কে প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত তা প্রদর্শন ও বিক্রি বন্ধ করতে যাবতীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মেলামাইনযুক্ত গুঁড়া দুধ বাজারজাতকরণ, প্রদর্শন ও বিক্রি বন্ধ করতে সরকারের নিষ্কিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং কেন মানুষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে না- চার সপ্তহের মধ্যে তার কারণ দর্শাতেও সরকারের প্রতি রুল জারি করেছেন আদালত।

হাইকোর্ট যে ৮ ব্র্যান্ডের গুঁড়া দুধ প্রদর্শন ও বিক্রি বন্ধ করতে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন সেগুলো হলো ডিপ্লোমা, রেডকাউ, ডানো, ইয়াশলি-১, ইয়াশলি-২, সুইট বেবি, নিডো ফর্টিফায়েড এবং এনলিন।

বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব হোসেন ও বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার জনস্বার্থে এক রিট আবেদন গ্রহণ করে এ রুল জারি করেন। মেলামাইনযুক্ত গুঁড়া দুধ বিক্রি বন্ধ করতে রিট মামলাটি দায়ের করেন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান সিদ্দিকী, ব্যারিস্টার মোকছেদুল ইসলাম, সারওয়ার আহাদ চৌধুরী, ফরহাদ আহাম্মদ, তপনকান্তি দাস, এখলাছ উদ্দিন ভুইয়া, মামুন আলিম এবং স্বপন কুমার সাহা।

রিট আবেদনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষায় যে ৮ ব্র্যান্ডের গুঁড়া দুধে মেলামাইনের অস্থিত্ব পাওয়া গেছে তা নিয়ে বিতর্কের অবসান না হওয়া পর্যন্ত জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সেগুলো প্রদর্শন ও বিক্রি বন্ধ রাখা জরুরি বলে দাবি করা হয়। মেলামাইনযুক্ত গুঁড়া দুধ পান করে চীনে শিশুমৃত্যুর ঘটনার পর সরকার সক্রিয় ভূমিকা না রাখায় রিট আবেদনের শুনানিতে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। আবেদনটির শুনানি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।
সমকাল, ২৪ অক্টোবর, ২০০৮

Permalink

জামায়াতের গঠনতন্ত্র এখনো সংবিধান পরিপন্থী

জামায়াতের গঠনতন্ত্র এখনো সংবিধান পরিপন্থী
সহযোগী সংগঠন নিয়ে আ’লীগের মতো সমস্যা বিএনপিতেও
হারুন আল রশীদ

সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গঠনতন্ত্র সংশোধনের কথা বলা হলেও জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র এখনো সংবিধান পরিপন্থীই রয়ে গেছে। নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে জামায়াত সংশোধিত গঠনতন্ত্রের যে খসড়া নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দিয়েছে, তাতে সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইন ও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাকে অবজ্ঞা করা হয়েছে, যা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এসব ধারাকে সংবিধানের উপযোগী করে তোলার জন্য জামায়াতকে অনুরোধ জানাবে ইসির গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা কমিটি।

সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্রও নিবন্ধন আইনের শর্তবিরোধী। আওয়ামী লীগের মতো তারাও গঠনন্ত্রে সহযোগী সংগঠন রাখার বিধান রেখেছে। গঠনতন্ত্রের এ বিধানটি সংশোধন করে দেওয়ার জন্য ইসির গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা কমিটি বিএনপির সঙ্গে বৈঠক করবে। মঙ্গলবার ফরম জমা দেওয়ার শেষ দিনে জামায়াত ও বিএনপি নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে। গতকাল ইসির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ওইদিনই রাতের বেলায় গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা কমিটির সদস্যরা দুটি দলের গঠনতন্ত্রের খুঁটিনাটি বিষয়গুলো পড়ে দেখেন। এ থেকে তাদের মনে হয়েছে, জামায়াত ও বিএনপি নিবন্ধন আইনের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

গণপ্রতিনিধিন্ত্র আদেশের ৯০-সি (১/এ) ধারায় রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের শর্তে বলা হয়েছে, দলীয় গঠনতন্ত্রের উদ্দেশ্যসমহৃহ সংবিধানের পরিপন্থী হতে পারবে না।
৯০-সি (১/বি) ধারার বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্রে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও লিঙ্গ ভেদে কোনো বৈষম্য থাকতে পারবে না।
জামায়াত ইসির সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে এ দুটি ধারাই গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ থেকে বাতিল করার দাবি জানায়। একই সঙ্গে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট আবেদনে তারা ৯০-সি (১/বি) ধারাটি বাতিলের দাবি জানায়।
জামায়াতের সংশোধিত গঠনতন্ত্রের ২ ধারার ৫ উপ-ধারায় বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ ব্যতীত অপর কাহাকেও বাদশাহ, রাজাধিরাজ ও সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক মানিয়া লইবে না, কাহাকেও নিজস্বভাবে আদেশ ও নিষেধ করিবার অধিকারী মনে করিবে না, কাহাকেও স্বয়ংসম্পূর্ণ বিধানদাতা ও আইন প্রণেতা মানিয়া লইবে না এবং আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁহার দেওয়া আইন পালনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত নয় এমন সকল আনুগত্য মানিয়া লইতে অস্বীকার করিবে। কেননা সমগ্র রাজ্যের নিরঙ্কুশ মালিকানা ও সৃষ্টিলোকের সার্বভৌমত্বের অধিকারী আল্লাহ ব্যতীত অপর কাহারো আসলেই নেই।’

ইসির পর্যালোচনা কমিটির মতে, এ ধারার মাধ্যমে জনগণের রায়ে নির্বাচিত সংসদের আইন প্রণয়নের ক্ষমতাকে অবজ্ঞা করা হয়েছে।
গঠনতন্ত্রের ৫ ধারার ৩ উপধারায় জামায়াতের দাওয়াত সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশে ইসলামের সুবিচারপূর্ণ শাসন কায়েম করিয়া সমাজ হইতে সকল প্রকার জুলুম, শোষণ, দুর্নীতি ও অবিচারের অবসান ঘটানোর আহ্বান।’

ইসির পর্যালোচনা কমিটির মতে, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী দেশ গণতান্ত্রিক রীতিতে পরিচালিত হবে। এখানে ইসলামের সুবিচারপূর্ণ শাসনব্যবস্থা কায়েমের কোনো সুযোগ নেই।
এছাড়াও গঠনতন্ত্রের ৩ ধারার ১ উপ-ধারায় জামায়াতের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘ইসলামী মূল্যবোধের উজ্জীবন ও জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বকে সর্বপ্রকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক হুমকি এবং বিশৃঙ্খলা হইতে রক্ষা করিবার প্রচেষ্টা চালানো।’

এ ধারার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘সার্বভৌম শব্দটি ভৌগোলিক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। ইসলামে আইনগত সার্বভৌমত্বের অধিকারী একমাত্র আল্লাহ।’
৬ ধারার ৪ উপ-ধারায় জামায়াতের কর্মসূচি সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘ইসলামের পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠাকল্পে গোটা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাঞ্ছিত সংশোধন আনয়নের উদ্দেশ্যে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় সরকার পরিবর্তন এবং সমাজের সর্বস্তরে সৎ ও খোদাভীরু নেতৃত্ব কায়েমের চেষ্টা করা।’

পর্যালোচনা কমিটির মতে, এ দুটি ধারাও বাংলাদেশের সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থী।
সূত্র জানিয়েছে, এ ধারাগুলো ছাড়াও জামায়াতের গঠনতন্ত্রে আরো একাধিক ধারা রয়েছে, যা নিবন্ধন আইনের বিভিন্ন শর্তের পরিপন্থী।

জামায়াত ছাড়াও বিএনপি সংশোধিত গঠনতন্ত্রও নিবন্ধনের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০-বি/বি/৩ ধারা মোতাবেক ছাত্র, শিক্ষক ও শ্রমিকদের সমন্বয়ে রাজনৈতিক দলের কোনো ধরনের অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন না করার বিধান দলের গঠনতন্ত্রে থাকতে হবে। কিন্তু বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্রে বলা হয়েছে, ছাত্র-শিক্ষক-শ্রমিকদের নিয়ে কোনো অঙ্গসংগঠন থাকবে না। তবে ছাত্র-শিক্ষক-শ্রমিকসহ অন্যান্য পেশাজীবী, যারা বিএনপির আদর্শে বিশ্বাসী, তারা নিজ নিজ গঠনতন্ত্র দ্বারা পরিচালিত হয়ে সংগঠন করতে পারবে। এসব সংগঠন বিএনপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে বিবেচিত হবে।

ইসির পর্যালোচনা কমিটির মতে, এ ধারা নিবন্ধন শর্তের পরিপন্থী। বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হবে বলে ইসি সহৃত্র জানিয়েছে। একই কারণে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ইসির পর্যালোচনা কমিটি আজ আরেকদফা বসতে পারে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ব্যাংক স্টেটমেন্টের মূলকপিও আজ ইসির কাছে জমা দেওয়া হবে।
সমকাল, ২২ অক্টোবর, ২০০৮

Permalink

বিএনপি-জামায়াতের ত্রিমুখী আচরণ

হারুন আল রশীদ

নির্বাচনী আইন সংশোধন প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান তিন ধরনের। আদালতে মামলা দায়েরের সময়ে এক রকম, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে আরেক রকম এবং প্রকাশ্যে একবারে অন্যরকম। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, জামায়াতের যে ত্রিমূর্তি আচরণ, তার অন্ধ অনুসারী হয়ে পড়েছে বিএনপি।

বিএনপি ও জামায়াত সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহের মধ্যে সরকার, আদালত ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে যেসব দাবি-দাওয়া পেশ করেছে, সেসব দাবির একটির সঙ্গে অন্যটির কোনো মিল নেই। তারা আদালত এবং ইসির কাছে সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের সুনির্দিষ্ট কিছু বিধান বাতিলের দাবি জানালেও বাইরে সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের সব বিধান বাতিলের দাবি জানিয়ে যাচ্ছে। ১৮ ডিসেম্বর নির্বাচন করতে আপাতত সংশোধিত আইন বাতিল বা এ আইনে নতুন করে সংশোধনী আনা সম্ভব নয় জানার পরও তারা সরকার ও ইসির সঙ্গে দরকষাকষির চেষ্টা করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা বর্তমান সরকারের আইন সংশোধনের এখতিয়ার নিয়েও প্রশু তুলেছে। ইসির মতে, বিএনপি ও জামায়াত আসলে কী চায় তা তাদের কাছে স্পষ্ট নয়। যে কারণে বর্তমানে বিএনপি ও জামায়াতের দাবি-দাওয়া তাদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

জামায়াত ২৮ আগস্ট গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করে। এতে ২০২০ সালের মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সব পর্যায়ের কমিটিতে ৩৩ ভাগ নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা (ধারা ৯০-বি/১/বি/২), ছাত্র-শিক্ষক-শ্রমিক সমন্বয়ে অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন না করার বিধান (ধারা ৯০-বি/বি/৩), প্রবাসে দলের শাখা সংগঠন না রাখার বিধান (৯০-সি/ডি) এবং গঠনতন্ত্রে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও লিঙ্গ ভেদে কোনো বৈষম্য না রাখার বিধান (৯০-সি (১/বি) বাতিলের দাবি জানায়। একই সঙ্গে তারা সংবিধানের ৫৮-ঘ/১ অনুচ্ছেদের উল্লেখ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন সংশোধনের এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন সমকালকে বলেন, ‘জামায়াত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ধর্ম, বর্ণ সংক্রান্ত (৯০-সি ১/বি) বিধান বাতিলের যে দাবি জানিয়েছে, তা সংবিধানের সঙ্গে মিল আছে বলেই আমরা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে অন্তর্ভুক্ত করেছি। একই বিধান সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদেও রয়েছে।’

ইসির তৃতীয় দফা সংলাপ শুরু হওয়ার পর ৭ সেপ্টেম্বর বিএনপি এবং ৮ সেপ্টেম্বর জামায়াত ও ইসলামী ঐক্যজোট ইসিকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল, অর্থহীন সংলাপে তারা অংশ নেবে না। খালেদা জিয়ার মুক্তির পর হঠাৎ করেই বিএনপি তাদের মত পাল্টে সংলাপে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বিএনপির এ সিদ্ধান্তেরর পর জামায়াত এবং ইসলামী ঐক্যজোটেরও সুর পাল্টে যায়। তারাও সংলাপে অংশ নেওয়ার আগ্রহ জানিয়ে ইসিকে চিঠি দেয়।

২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সংলাপে জামায়াত এবং ইসলামী ঐক্যজোট ইসির কাছে লিখিত প্রস্তাব দাখিল করলেও বিএনপির পক্ষ থেকে তা করা হয়নি। ইসির কাছে মৌখিক প্রস্তাব দিয়েছে তারা। তবে তিনটি দলেরই প্রস্তাব ছিল অভিন্ন।

ইসিতে দাখিল করা জামায়াতের লিখিত দাবির সঙ্গে ২৮ আগষ্ট আদালতে দাখিল করা দাবির কিছুটা অমিল রয়েছে। বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী ঐক্যজোট সুস্পষ্টভাবে গণপ্রতনিধিত্ব আদেশের তিনটি বিশেষ ধারাসহ আরো একাধিক ধারা বাতিল অথবা ক্ষেত্রবিশেষ সংশোধনের দাবি জানায়। বিশেষ তিনটি ধারা হলো- ধারা ৯০-বি/১/বি/২, ৯০-সি (১/এ) ও ৯০-সি (১/বি)।

৯০-বি/১/বি/২ ধারা মতে, রাজনৈতিক দলের সব স্তরের কমিটিতে ৩৩ ভাগ নারীর প্রতিনিধিত্ব আগামী ২০২০ সালের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০-সি (১/এ) ধারায় রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের শর্তে বলা হয়েছে, দলীয় গঠনতন্ত্রের উদ্দেশ্যসমূহ সংবিধানের পরিপন্থী হতে পারবে না।

৯০-সি (১/বি) ধারায় বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্রে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও লিঙ্গভেদে কোনো বৈষম্য থাকতে পারবে না।

কিন্তু ওইদিন সংলাপ শেষে তিনটি দলই বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের জানায়, তারা সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ পুরোটাই বাতিলের দাবি জানিয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে একজন নির্বাচন কমিশনার ক্ষোভের সঙ্গে বলেছিলেন, ‘সবই যদি বাতিল করতে হয়, তাহলে সংলাপে বসে অহেতুক আমাদের সময় নষ্ট করা হলো কেন?’

একই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ড. এটিএম শামসুল হুদা ২২ সেপ্টেম্বর দুঃখ ও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘হায় আল্লাহ... ইয়া রাহমানুর রাহিম, পবিত্র মাহে রমজানে জামায়াত ও ইসলামী ঐক্যজোটের হুজুরদের মুখে এ আমি কী শুনিতে পাইলাম!’ বিস্ময়ের কারণ, আগের দুটি সংলাপে জামায়াত ও ইসলামী ঐক্যজোট আমাদের সিংহভাগ সংস্কার প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করলেও তৃতীয় দফা সংলাপে তারা সব ধরনের সংস্কারই নাকচ করে দিয়েছে।

ইসির মতে সংবিধানের ৯৩/১ অনুচ্ছেদ অনুসারে বর্তমান সরকারের আইন প্রণয়ন এবং সংশোধন করার এখতিয়ার রয়েছে। সংবিধানের ৯৩/১ অনুচ্ছেদে বলা আছে- ‘সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় অথবা উহার অধিবেশন ব্যতীত কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্টি’তি বিদ্যমান রহিয়াছে বলিয়া সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে, তিনি উক্ত পরিস্থিতিতে যেরূপ প্রয়োজনীয় বলিয়া মনে করিবেন, সেইরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিতে পারিবেন এবং জারি হইবার সময় হইতে অনুরূপভাবে প্রণীত অধ্যাদেশ সংসদ আইনের ন্যায় ক্ষমতাসম্পন্ন হইবে।’

ইসি ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কর্তৃক গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে সংশোধনের বিষয়টিকেও নজির হিসেবে দেখছে। ২০০১ সালের ৮ আগস্ট গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ সংশোধন করে গেজেট জারি করা হয়। তখন বিএনপি ও জামায়াত ওই সংশোধনীকে সাধুবাদ জানিয়েছিল। অপরদিকে আপত্তি জানিয়েছিল আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ ১২ আগস্ট তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমান, ১৩ আগস্ট সিইসি এম সাঈদ এবং ১৪ আগস্ট রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন সংক্রান্ত গেজেট বাতিলের দাবি জানায়। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ তা আমলে নেয়নি।

নির্বাচন কমিশনারদের মতে, ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আইন সংশোধন করতে পারলে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকার পারবে না কেন? যে কারণে বিএনপি-জামায়াতের দাবিকে তারা পুরোপুরি অযৌক্তিক বলে মনে করছেন।

আদালত এবং ইসির বাইরে বিএনপি ও জামায়াত সরকারের সঙ্গে যে ধরনের দরকষাকষি করে যাচ্ছে তাকেও অযৌক্তিক বলে মনে করছে ইসি। সরকারের কাছে তারা যেসব দাবি-দাওয়া রেখে যাচ্ছে, তার সঙ্গে আদালত ও ইসির কাছে রাখা দাবির যথেষ্ট অমিল রয়েছে। যে কারণে ইসি মনে করে বিএনপি ও জামায়াতের দাবি সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নয়।

এ অবস্থায় ইসি আপাতত বিএনপি ও জামায়াতের দাবি আমলে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে ইসি থেকে সরকার পক্ষকে সুস্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ১৮ ডিসেম্বর নির্বাচন এবং ১ অথবা ২ নভেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে হলে নির্বাচনী আইনে আর কোনো ধরনের সংশোধনী আনা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নিতে হলে বিএনপি-জামায়াতসহ তাদের অন্য দুই শরিক দলকে আগামীকালের মধ্যেই দলের নাম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে।

Permalink

সব ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার হুমকি দিলেন আমিনী

সব ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার হুমকি দিলেন আমিনী
হজ মিনারের দাবিতে মিছিল
নিজস্ব প্রতিবেদক
ক্ষমতায় গেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরসহ সারা দেশে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে নির্মিত সব মূর্তি (ভাস্কর্য) ভেঙে ফেলার ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির আমির ও ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী।

গতকাল শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। তিনি ‘শিখা চিরন্তন’ ও ঢাকা সেনানিবাসে অবস্স্থিত ‘শিখা অনির্বাণ’ নিভিয়ে দেওয়ারও হুমকি দেন।
এক প্রশ্নের জবাবে মুফতি আমিনী বলেন, ‘যেগুলো স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইয়ে হিসেবে বানানো হইছে, সেগুলোর ব্যাপারে আমাদের আপত্তি নাই।’

তাহলে শিখা অনির্বাণের ব্যাপারে আপত্তি কেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘শিখা অনির্বাণ স্বাধীনতার কিছু হইতে পারে না। স্বাধীনতার সময় কি আগুন জ্বালানো হইছিল?’

চারদলীয় জোটের শরিক একটি দলের শীর্ষ নেতা মুফতি আমিনী আরও বলেন, দেশ ও জাতির কঠিন দুঃসময়ে বর্তমান সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতি দমনসহ প্রাথমিক বেশ কিছু পদক্ষেপে দেশবাসীর অকুন্ঠ সমর্থন লাভ করেছিল। কিন্তু ২১ মাসের জরুরি অবস্থার মধ্যে এই সরকারের দেশ ও ইসলামবিরোধী কিছু পদক্ষেপ মারাত্মক উৎকন্ঠার সৃষ্টি করেছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে নারী উন্নয়ন নীতিমালা, ব্র্যাকের হাতে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা তুলে দেওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে ভাস্কর্য নির্মাণের কথা উল্লেখ করেন। তিনি প্রথম আলো ও সাপ্তাহিক ২০০০-কে ইসলামবিরোধী পত্রিকা হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরীর সমালোচনা করেন।

মুফতি আমিনী বলেন, ‘আমাদের রাজনীতির থিউরি হচ্ছে, আমরা সব ক্ষমতার মালিক আল্লাহ্কে মনে করি। কাজেই এই দেশের ভবিষ্যৎ খুব অন্ধকার। একদিকে দেশ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে, আরেক দিকে ইসলামের বিরুদ্ধে কাজ হইতাছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে আমিনী বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় এলে হাসিনা যেসব মূর্তি বানাইছে ইউনিভার্সিটিতে, এইগুলো ভাইঙ্গা চুরমার কইরা দিব। হাসিনা এই দেশটাকে মূর্তির দেশ বানাইতেছে। ইউনিভার্সিটি চত্বরে যে মূর্তিগুলো বানানো হইছে, এটা মারাত্মক ইসলামবিরোধী এবং ইসলামি শক্তি ক্ষমতায় এলে এ সমস্ত মূর্তি রাখতে পারে না।’

খালেদা জিয়ার আমলেও তো কিছু বানানো হয়েছে, সেগুলো কী করবেন−এ প্রশ্নের জবাবে আমিনী পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘কোথায় বানাইছে?’

একজন সাংবাদিক বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৯২ সালে বানানো হয়েছে। আমিনীর জবাব, ‘ওইডা আমরা দেখি নাই। তার পরে আরেকটা জিনিস; আগুন পূজা হইতাছে, এইডারও আমরা বিরোধী। এই যে আগুন পূজা করে সেনাবাহিনীর দ্বারা, এইডারও আমরা বিরোধী। আমরা অনুরোধ করছি, আগুন পূজা আপনারা বন্ধ করুন। আগুনকে শ্রদ্ধা করা আর আগুন পূজা করা একই কথা।’ জোট সরকারের পাঁচ বছর এসব বলেননি কেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘তখন তো বলেছি, খালেদা জিয়াকে বলেছি তো ব্যক্তিগতভাবে। কিন্তু আমাদের কথায় কি কান দিছে? আমাদের তো ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি বানানো হইছে। আমাদের কোনো কথায় কান দেওয়া হই নাই।’

বিমানবন্দর চত্বর থেকে লালন শাহের ভাস্কর্য সরানোর দাবিতে মুফতি নুর হোসাইন নুরানীর নেতৃত্বে আন্দোলন সমর্থন করেন কি না−জানতে চাওয়া হলে মুফতি আমিনী বলেন, ‘নুরানী কে, আমরা ওনারে চিনি না।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, মাওলানা শফিউদ্দিন, মাওলানা আবুল কাশেম, আহরুল্লাহ ওয়াছেল প্রমুখ।

হজ মিনারের দাবিতে মিছিল: বিমানবন্দর গোলচত্বরে একটি ‘হজ মিনার’ নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন খতমে নবুওয়ত আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি নুর হোসাইন নুরানী। গতকাল উত্তরার ফায়দাবাদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে মিছিল-পূর্ব সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আশা করি সরকার অচিরেই মসজিদের নগর ঢাকার মর্যাদা ও সৌন্দর্য বর্ধনে জিয়া বিমানবন্দর গোলচত্বরে একটি আধুনিক হজ মিনার নির্মাণ করবে। অন্যথায় যেকোনো ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে আমরা হজ মিনার নির্মাণে সরকারকে বাধ্য করেই ঘরে ফিরব।’

‘বিমানবন্দর গোলচত্বর মূর্তি প্রতিরোধ কমিটি’র ব্যানারে এ কর্মসুচি পালিত হয়। এতে বক্তব্যকালে মুফতি নুরানী বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা ও অপপ্রচার করে কোনো লাভ নেই। কারণ, আমরা বাঘের গর্জন শুনে অভ্যস্ত, বানরের ভেংচিতে ভয় পাই না।’

মিছিলে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য সচিব ও জামেয়া বাবুস সালাম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আনিছুর রহমান এবং খতমে নবুওয়ত আন্দোলনের মহাসচিব আবদুল আলীম নিজামী। সমাবেশের পর একটি মিছিল এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মিছিলের সামনে পুলিশের একটি দলও ছিল।

প্রথম আলো, ১৮ অক্টোবর, ২০০৮

Permalink

ক্ষমতায় গেলে সব ‘মূর্তি’ ভেঙে ফেলার ঘোষণা আমিনীর

সমকাল প্রতিবেদক

‘২১ মাসের জরুরি অবস্থার মধ্যে সরকারের দেশ ও ইসলামবিরোধী কিছু পদক্ষেপে মারাত্মক উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে’ বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় আসলে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরসহ শেখ হাসিনার সময়কার যত মূর্তি আছে সব ভেঙে ফেলা হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে আমিনী বলেন, ‘আমরা শিখা অনির্বাণসহ সেনাবাহিনীর আগুন পূজারও বিরোধী।’
জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে গোলচত্বরে লালন ভাস্কর্য ভাংচুরের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুফতি আমিনী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জরুরি অবস্থায় রাজনৈতিক দলের মুখ বন্ধ করা যায়, ইসলামের মুখ বন্ধ করা যায় না।
সেনাশাসকরা যদি মনে করেন তারা চিরদিন ক্ষমতায় থাকবেন- তা অসম্ভব। অতীতে আওয়ামী লীগ-বিএনপিও তাই মনে করেছিল। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, সময় থাকতে সতর্ক না হলে আফসোস করতে হবে।
আমিনী বলেন, বর্তমান সরকার আবার মুসলমানদের মাতৃভূমিকে ‘পৌত্তলিক দেশ’ বানানোর কাজে হাত দিয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে আমিনী বলেন, খালেদা জিয়ার সময়ে তৈরি মূর্তিও ভাঙতে হবে। ওই সময় কেন শিখা অনির্বাণের বিরোধিতা করেননি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কথা তারা শোনেনি।
চারদলীয় ঐক্যজোটের এই শীর্ষ নেতা সাংবাদিকদের বলেন, লুকোচুরির কিছু নেই, সরকার ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ না করলে প্রয়োজনে হরতাল করব, রক্ত দেব, জরুরি অবস্থায় মার্শাল ল’ ভঙ্গ করব। এর আগে লিখিত বক্তব্যে তিনি অঙ্গীকার করেও নারী উন্নয়ন নীতিমালা বাতিল না করা, দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় হজরত মুহাম্মদের (সাঃ) ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ ও সাপ্তাহিক ২০০০-এ কাবা শরিফ অবমাননার দায়ে মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া, ব্র্যাকের হাতে প্রাথমিক শিক্ষা তুলে দেওয়া, সারাদেশে মূর্তি স্থাপন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাবিষয়ক কলেজের শিক্ষক ড. তাজ হাশমীকে দিয়ে ইসলামবিরোধী বক্তব্য প্রদানের সমালোচনা করেন।

ড. হাশমী সম্প্রতি সেনাবাহিনীর স্টাফ কলেজে ক্লাস নিতে আমন্ত্রিত হয়ে ঢাকায় আসেন। মুফতি আমিনী বলেন, ১৩ অক্টোবর প্রথম আলোতে ড. হাশমী বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতিকে বেআইনি ঘোষণার সুপারিশ, মাদ্রাসা শিক্ষার বিলুপ্তি, ধর্মাশ্রিত রাজনীতি উন্নতির অন্তরায় ইত্যাদি বক্তব্য দিয়েছেন। এ অবস্থায় কোনো মুসলমানের চুপ করে বসে থাকার সুযোগ নেই। তিনি অবিলম্বে ‘মুরতাদ’কে দেশ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান। এক প্রশ্নের জবাবে আমিনী বলেন, আর্মি স্টাফ কলেজের উচিত ড. হাশমীর ক্লাস না নেওয়া।

ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, মাওলানা শফিক উদ্দিন, মুফতি মোহাম্মদ তৈয়্যব, মাওলানা আবুল কাশেম, মাওলানা আহলুল্লাহ ওয়াছেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিরোধ কমিটির ঘোষণা

এদিকে অপসারিত ভাস্কর্যের জায়গায় হজ মিনার নির্মাণ কাজ শুরু না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে ‘বিমানবন্দর গোলচত্বর মূর্তি প্রতিরোধ কমিটি’। গতকাল জুমার নামাজ শেষে বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে এই ঘোষণা দেন মূর্তি প্রতিরোধ কমিটির প্রধান মুফতি নূর হোসাইন নূরানী।

উত্তরা ফায়দাবাদ জামে মসজিদ থেকে মিছিলটি বের হয়ে চুয়ারিরটেক, কোটবাড়ী হয়ে আবদুল্লাহপুরে এসে শেষ হয়। নূরানী কোনো অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে আগামী ২৪ অক্টোবর বাদ জুমা হজ ক্যাম্পের উত্তর গেটে অনুষ্ঠেয় সমাবেশ সফল করার আহ্বান জানান।
সমকাল, ১৮ অক্টোবর, ২০০৮

Permalink

উগ্রবাদীদের প্রতিবাদে অপসারিত হলো লালনের ভাস্কর্য

সমকাল প্রতিবেদক

উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রতিবাদের মুখে অবশেষে অপসারণ করা হলো জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের গোল চত্বরে নির্মাণাধীন ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’ শীর্ষক লালন শাহর ভাস্কর্যটি। মূলত বাঙালির লোকসংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়েছিল এ স্থাপত্যটিতে। কয়েকদিন ধরে তারা ভাস্কর্যটিকে অপসারণের জন্য আন্দোলন করে আসছিল। আন্দোলন চলছিল খতমে নবুওয়াত আন্দোলনের নেতৃত্বে।

বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মোঃ সিরাজুল ইসলাম সমকালকে জানান, ভাস্কর্যটি অপসারণ করা হচ্ছে। বুধবার দুপুর থেকে অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ প্রায় ৭০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছিল।

তবে মৌলবাদীদের দাবির মুখেই তা অপসারণ করা হচ্ছে- এ রকমটি স্বীকার করেননি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড প্ল্যান) গ্রুপ ক্যাপ্টেন নাইম হাসান। তিনি বলেন, মূলত নকশা পছন্দ না হওয়ায় তা অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আরো নকশা পছন্দ করা আছে, প্রয়োজনে সেগুলো ব্যবহার করা হতে পারে।

পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, কয়েকদিন ধরে মৌলবাদীরা নির্মাণাধীন ভাস্কর্যটির পেছনে লাগে। আন্দোলনকারী মৌলবাদীরা দলবেঁধে সেখানে হাজির হয়ে শ্রমিকদের কাজও বন্ধ করতে বলে। গতকালও কয়েকজন সেখানে গিয়ে ভাস্কর্যটি টেনে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করে। এছাড়া তারা নুর হোসেন নুরানীর নেতৃত্বে মূর্তি প্রতিরোধ নামে একটি কমিটিও গঠন করে। কয়েকদিন আগে ইসলামী ঐক্যজোটসহ বেশ কয়েকটি মৌলবাদী রাজনৈতিক দল এ ব্যাপারে একটি বিবৃতি দেয়।

বিমানবন্দর সড়ক থেকে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশের মুখে গোল চত্বরে ৪৫ ফুট উঁচু নির্মাণাধীন ভাস্কর্যটির শিল্পী মৃণাল হক। ৩ মাস আগে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার পর শিল্পী বাড়িতে বসে কাঠামো তৈরির কাজ শেষ করেন। ঈদের ৪ দিন আগে তা গোল চত্বরে বসানো হয়। এখন এতে ঘষামাজার কাজ চলছিল। লালন ছাড়াও সেখানে একতারা এবং আরো ৪ বাউলশিল্পীর মুখায়ব স্থাপন করা হয়েছিল। ভাস্কর্যটিতে শিল্পী লালন শাহের প্রতিকৃতি ও একতারা ছাড়া লোক সংস্কৃতির বিভিন্ন চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়। কিন্তু মৌলবাদীরা ভাস্কর্যটিকে মূর্তি আখ্যা দিয়ে তা অপসারণের দাবি তোলে। তাদের যুক্তি, হজক্যাম্পের পাশে ওই ধরনের মুখায়বসম্পন্ন ভাস্কর্যের কারণে সেখানে আসা হাজিদের সমস্যায় পড়তে হবে। এখানে মিনার স্থাপন করতে হবে।

সমকাল, ১৬ অক্টোবর, ২০০৮

Permalink

‘পলাতক’ মুজাহিদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক!

পলাতক আসামি জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদের সঙ্গে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংলাপে অংশ নিলেন।

গতকাল মঙ্গলবার সরকার ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে অনুষ্ঠিত সংলাপে জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দলে আলী আহসান মুজাহিদও উপস্থিত ছিলেন।
একজন পলাতক আসামি কীভাবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করলেন- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাব প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্টি’ত উপদেষ্টাদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। তবে আলী আহসান মুজাহিদের আইনজীবী ও জামায়াত নেতা ব্যারিষ্টার আবদুর রাজ্জাক একটি বিভ্রান্তিকর জবাব দেন।

সংলাপে দলের আমির ও সেক্রেটারি জেনারেল ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আবদুল কাদের মোল্লা, ব্যারিষ্টার আবদুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট জসিমউদ্দিন, আবদুস সুবহান, রফিকউল ইসলাম খান, মকবুল আহমেদ, মোহাম্মদ কামারুজ্জামান ও এটিএম আজাহারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সরকারের পক্ষে শিক্ষা ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, যোগাযোগ উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম কাদের, আইন উপদেষ্টা হাসান আরিফ ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আনোয়ারুল ইকবাল উপস্থিত ছিলেন।
সংলাপে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনার বিচারসহ ১০ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে গ্যাটকো, নাইকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিসহ সব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের কতিপয় ধারা সংশোধন, আগের সীমানা অনুযায়ী নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা এবং মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী ৩১ মে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিকেলে প্রায় দুই ঘণ্টা দীর্ঘ সংলাপ শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ের শুরুতেই মাগরিবের নামাজের সময়ের কথা উল্লেখ করে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী তার বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। আলোচনাকালে আমরা নির্বাচনের আগে জরুরি আইন প্রত্যাহারসহ উপজেলা নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলেছি। সেইসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীসহ জেলে আটক জোট নেতাদের মুক্তি এবং তাদের ওপর থেকে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, জামায়াতের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তারা দেশে অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সরকারের কাছে বেশ ক’টি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন। এর মধ্যে নির্বাচনের আগে জরুরি আইন প্রত্যাহার, উপজেলা নির্বাচনের তারিখ কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া। এসব বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে তাদের আগ্রহের কথাও তুলে ধরা হয়।

তিনি বলেন, সরকার দেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে বদ্ধপরিকর। এ ব্যাপারে যে কোনো ধরনের উদ্যোগ নিতে সরকার পিছপা হবে না। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোসহ সবার আন্তরিক সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। তাদের কাছ থেকে সে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। রোডম্যাপ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ অন্য দলগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনে আরো আলোচনা হবে।

জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী মাগরিবের নামাজের কথা বলে তার বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করেন। একইভাবে শিক্ষা উপদেষ্টা তার বক্তব্য শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে মাত্র একটি প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা দেন। এ সময় সাংবাদিকরা সমস্বরে প্রতিবাদ জানান। জরুরি আইন প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কোনো দিন ঘোষণা করা হয়েছে কি-না। এ প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, জামায়াতের পক্ষ থেকে জরুরি আইন প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। বিষয়টি সরকার পর্যালোচনা করছে।

এরপর জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল পলাতক আসামি, তিনি কী করে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সংলাপে অংশ নিলেন- এ প্রশ্ন করা হলে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী দলের সেক্রেটারি জেনারেল এবং পুলিশের খাতায় পলাতক আসামি আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের আইনজীবী ব্যারিষ্টার আবদুর রাজ্জাককে দেখিয়ে দিয়ে তাকে প্রশ্নের জবাব দিতে বলেন।

ব্যারিষ্টার আবদুর রাজ্জাক বলেন, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ রয়েছে তার স্বপক্ষে উচ্চ আদালতে একটি আবেদন আছে, যা আগামী ১৬ অক্টোবর শুনানি হবে। যেহেতু বিষয়টি উচ্চ আদালতের বিবেচনাধীন আছে সেহেতু তার পক্ষে সংলাপে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা নেই। তিনি মুক্ত মানুষ এবং জামায়াতের সেত্রেক্রটারি জেনারেল হিসেবেই সংলাপে অংশ নিয়েছেন।

আবদুর রাজ্জাকের এ জবাবের পর সরকারি ভাষ্য জানতে শিক্ষা উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এবং আইন উপদেষ্টা হাসান আরিফের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা পলাতক আসামি আলী আহসান মুজাহিদকে নিয়ে দ্রুত ব্রিফিং কক্ষ ত্যাগ করেন।

Permalink

সরকারের সঙ্গে পলাতক আসামি মুজাহিদের বৈঠক, নানা প্রশ্ন

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে সরকারের সঙ্গে বৈঠক করলেন পলাতক আসামি জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ। গতকাল মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ ও চার উপদেষ্টার সঙ্গে সংলাপে জামায়াতের প্রতিনিধিদলে তিনিও ছিলেন।
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতির মামলায় জনাব মুজাহিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর পুলিশ তাঁকে পলাতক দেখিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। এর পরও তিনি কীভাবে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে গিয়ে সরকারের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংলাপ শেষে যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে সরকারের চার উপদেষ্টার সঙ্গে মুজাহিদও যোগ দেন। ব্রিফিংয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, একটির বেশি প্রশ্ন করা যাবে না। তার পরও সাংবাদিকেরা জোরাজুরি করে আরেকটি প্রশ্ন করেন। প্রশ্নটি হলো, পুলিশ আদালতকে জানিয়েছে, জনাব মুজাহিদ পলাতক, তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু তিনি সরকারের সঙ্গে সংলাপ করলেন, এখন কোনটা সঠিক? সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাব না দিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান মাইক ঠেলে দেন জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর দিকে। জনাব নিজামী মাইক ঠেলে দেন মুজাহিদের দিকে। জনাব মুজাহিদ বলেন, এ প্রশ্নের জবাব দেবেন ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক। জনাব রাজ্জাক বলেন, এ দেশের অনেক রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে মামলা আছে। সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও মামলা আছে। জনাব মুজাহিদ এই মামলায় হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেছিলেন, সেটির নিষ্পত্তি হয়নি। তবে আদালত ১৬ তারিখ পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। তাই মুজাহিদের আজকের সংলাপে যোগ দেওয়াটা বেআইনি হয়নি।
এ পর্যায়ে সাংবাদিকেরা সরকারের বক্তব্য জানতে বারবার প্রশ্ন করলেও কোনো জবাব না দিয়ে চার উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ, হোসেন জিল্লুর রহমান, আনোয়ারুল ইকবাল ও গোলাম কাদের তড়িঘড়ি করে উঠে চলে যান।
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতির মামলায় জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত গত ৬ অক্টোবর জামায়াতের নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার আমিনুল হকসহ নয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ১২ অক্টোবর পুলিশ সাইফুর রহমান ছাড়া অপর আটজনকে পলাতক উল্লেখ করে তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল বিষয়ে উত্তরা থানা পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, "গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়েছে। পলাতক থাকায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয় নাই।"
১২ অক্টোবর বিকেলে যখন পুলিশ এই প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়, ওই সময় জামায়াতের নেতা জনাব মুজাহিদ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে চলা চারদলীয় জোটের সমাবেশে বক্তৃতা করেন।
পুলিশের ওই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ১৬ অক্টোবরের মধ্যে আলোচ্য আসামিদের আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।
আদালতের এরূপ নির্দেশ দেওয়ার পর জনাব মুজাহিদ ছাড়া অন্যদের প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
দন্ডবিধির ২২০, ২২১ ও ২২২ ধারা মোতাবেক আদালতের এরূপ নির্দেশ উপেক্ষা করা হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মচারী সাত বছর কারাদন্ড বা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।
গতকাল এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পুলিশের মহাপরিদর্শক নুর মোহাম্মদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহ্দীন মালিক প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম স্পষ্টত প্রমাণ করে, সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছার কাছে আইন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নতজানু হয়ে পড়েছে। এ মামলার আসামিরা কে কোথায় আছেন, কোন অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন, সেসব অনুষ্ঠানের আয়োজনকারীসহ সবার কাছেই তা জানা। তিনি বলেন, একদিকে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করছেন, অন্যদিকে ঘটনাপ্রবাহে মনে হচ্ছে, সরকারের পক্ষ থেকে বলে দেওয়া হচ্ছে গ্রেপ্তার না করার জন্য। অর্থাৎ এ সরকারও আগের সরকারের মতো আইন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সুত্র জানায়, জনাব মুজাহিদকে সংলাপে যোগ দেওয়া থেকে বিরত রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। মুজাহিদকে ছাড়া জামায়াত সংলাপে যোগ দিতে রাজি হয়নি। তা ছাড়া বিএনপির সঙ্গে সমঝোতায় সরকারের পক্ষ থেকে জনাব মুজাহিদকে দুতিয়ালির কাজে লাগানোয় এ ক্ষেত্রে জামায়াত সে সুযোগ কাজে লাগিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সরকারি উচ্চপর্যায়ের সুত্র বলছে।
জামায়াতের বক্তব্য: জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে গত রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জনাব মুজাহিদের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের মতামত পাঠানো হয়।
এতে বলা হয়, মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজের আদালত থেকে আলী আহসান মুজাহিদকে আগামী ১৬ অক্টোবরের মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া তাঁর জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। তাঁর বিষয়টি বিচারাধীন আছে। এমতাবস্থায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা সমীচীন নয়। দেশের একজন নাগরিক ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তিনি সরকারের সঙ্গে সংলাপে অংশগ্রহণ করেছেন। এ ব্যাপারে তাঁর ও সরকারের জন্য আইনগত কোনো বাধা নেই।
এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ব্যারিস্টার রাজ্জাক গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কথা উল্লেখ না করলেও গত ১৩ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র দৈনিক সংগ্রামসহ অন্যান্য জাতীয় দৈনিকে পরোয়ানা জারির খবর ঠিকই ছাপা হয়েছে।

প্রথম আলো, ১৫ অক্টোবর, ২০০৮

Permalink

হুজি এবার ‘আইডিপি’ নামে প্রকাশ্য রাজনীতিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
‘ইসলামী ডেমোক্রেটিক পার্টি−আইডিপি’ নামে প্রকাশ্য রাজনীতি শুরু করল হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী−হুজি। গতকাল শুক্রবার রাজধানীতে ইফতার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ করল সাবেক আফগান মুজাহিদদের এই সংগঠন আইডিপি।
অবশ্য সংগঠনের আহ্বায়ক মাওলানা শেখ আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেছেন, “তাঁদের সংগঠন এ দেশে ১৯৯২ সালেই আত্মপ্রকাশ করে হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ নামে। এরপর ১৯৯৮ সালে তা বিলুপ্তি ঘোষণার পর ‘ইসলামী গণ-আন্দোলন’ নামে সংগঠন করেছিলাম। সেই সংগঠন থেকে এখন আইডিপি নামে কাজ করছি।”
গতকাল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মাওলানা শেখ আবদুস সালামের সভাপতিত্বে আইডিপির ইফতার ও আলোচনা সভায় সংগঠনের নেতারা ছাড়াও সংগঠনের ভাষায় ‘আন্তসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি উন্নয়নের স্বার্থে আমন্ত্রিত’ ইংরেজি সাপ্তাহিক ব্লিৎজ-এর সম্পাদক সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী, দৈনিক আমার দেশ-এর সহকারী সম্পাদক ও হিউম্যান রাইটস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব চৌধুরী, বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের পি কে বড়ুয়া, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি চিত্ত ফ্রান্সিস রিভেরু বক্তব্য দেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী বলেন, আইডিপির আত্মপ্রকাশের মধ্য দিয়ে দেশে নতুন রাজনীতির জন্ন হলো। তিনি বলেন, আইডিপির সঙ্গে হরকাতুল জিহাদের নাম জড়িত। এটা এমন একটি সংগঠন, যার সম্পর্কে নানা আলোচনা রয়েছে। আইডিপিকে যারা সন্ত্রাসী সংগঠন বলে, ওই সব পত্রিকা বিদেশের টাকায় চলে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ এবং বালিতে বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত সত্ত্বেও হিযবুত তাহ্রীরের মতো সংগঠন যদি এ দেশে প্রকাশ্যে রাজনীতি করতে পারে, তাহলে আইডিপি কেন পারবে না। যারা বাংলাদেশকে করদ রাজ্য বানাতে চায়, তারা আইডিপিকে হুমকি মনে করে।
সঞ্জীব চৌধুরী বলেন, ‘আফগানফেরত মুক্তিযোদ্ধাদের মূলধারার সদস্যরা আইডিপি গঠন করেছে। পরিচয়সুত্রে আমি এদের সঙ্গে অনেক কাজ একত্রে করেছি। এ নিয়ে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি। আমরা এই অনুষ্ঠান আরও আগে করতাম, কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্টদের অনুমতি পেতে দেরি হয়েছে। তাতে একদিকে ভালোই হলো। আজ পবিত্র জুমাতুল বিদার দিন আইডিপির প্রথম প্রকাশ্য মাহফিল হচ্ছে।’
আইডিপির উপদেষ্টা ও খেলাফত আন্দোলনের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক কাজী আজীজুল হক বলেন, তথ্য ও যোগাযোগের ঘাটতির কারণে আইডিপি সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। হরকাতুল জিহাদ বিলুপ্ত করার পর প্রথমে ইসলামী দাওয়াতি কাফেলা, তারপর ইসলামী গণ-আন্দোলন এবং এখন আইডিপি নামে সংগঠন হয়েছে। সবার সঙ্গে আলোচনা করেই এটা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন আইডিপির সদস্যসচিব মাওলানা রুহুল আমিন, তিন যুগ্ম আহ্বায়ক কারি হোসাইন আহমদ, মাওলানা আবুল কাশেম রহমানী ও মাওলানা মাহবুবুর রহমান এবং মাওলানা মুফতি কামাল, মাওলানা মীর ইদ্রিস, মুফতি ফজলে এলাহি, মাওলানা মুফতি নোমান, খেলাফত মজলিসের (ইসহাক) নায়েবে আমির এমদাদুল হক আড়াইহাজারী, খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির ছফর উল্লাহ খান, জৈনপুরী পীর মাওলানা এহছানুল্লাহ আব্বাসী প্রমুখ। এ ছাড়া মরহুম হাফেজ্জী হুজুরের মেজ ছেলে হাফেজ মাওলানা হামিদুল্লাহ ও মাওলানা আতাউল্লাহ উপস্িথত ছিলেন। ইফতার অনুষ্ঠানে সংগঠনের সহস্রাধিক নেতা-কর্মী উপস্িথত ছিল।
সমাপনী বক্তৃতায় মাওলানা আবদুস সালাম নিজেদের আন্তর্জাতিক মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে বলেন, তাঁরা মদিনা সনদের আলোকে একটি অসাম্প্রদায়িক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চান।
আশির দশকে আফগানিস্তানে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদ কমান্ডার আবদুস সালাম এর আগে গত ১৭ জুলাই প্রথম আলোকে বলেন, সংগঠনের মজলিশে শুরার সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁকে আহ্বায়ক করে গত ১৮ মে আইডিপির ১৫ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাপসহ নানা কারণে সংগঠনটি বিভিন্ন সময় নাম পাল্টালেও এর নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কাঠামো, মজলিশে শুুরা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ-প্রক্রিয়া প্রায় একই ছিল। ২০০৬ সালের আগস্ট মাসে প্রথম গোপন এই সংগঠনটি ইসলামী গণ-আন্দোলন নামে প্রকাশ্য রাজনীতিতে আসার চেষ্টা করে। এই লক্ষ্যে ওই বছরের ১৮ আগস্ট জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সচেতন ইসলামী জনতার ব্যানারে বড় একটি সমাবেশ করেছিল। তখন সচেতন ইসলামী জনতার আহ্বায়ক হিসেবে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হাফেজ মাওলানা আবু তাহের। এই তাহের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি। বর্তমানে তিনি কারাগারে। আবু তাহের হুজির ঢাকা মহানগর সভাপতি ও মজলিশে শুরার সদস্য ছিলেন।
বিভিন্ন নাশকতামূলক ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার ২০০৫ সালের ১৭ অক্টোবর হুজিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ২০০২ সালের ২১ মে বাংলাদেশের হরকাতুল জিহাদকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। গত ৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিৎসা রাইস এক নির্বাহী আদেশে বাংলাদেশের হুজিকে একটি ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ এবং একটি ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে ঘোষণা দেন।
গতকাল ইফতার অনুষ্ঠানে প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে মাওলানা সালাম বলেন, ‘কয়েকটি কারণে আমরা হরকাতুল জিহাদ বিলুপ্ত করি। এর মধ্যে মূলত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছু কারণ ছিল। আপনারা জানেন, আমরা যারা হরকাতুল জিহাদ করি, সবাই আফগান মুজাহিদ ছিলাম। সেখানে মুজাহিদদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হলে তার প্রভাব আমাদের এখানেও পড়ে। তা ছাড়া যে জিহাদি জজবা নিয়ে, আফগানিস্তানে আমরা গিয়েছিলাম, বিশেষ করে সোভিয়েত দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মুসলমানদের সাহায্য করা ও মানবিকতা পুনরুদ্ধারের জন্য, সেই কাজ হয়ে গেছে। এখন আর সেই নামটি (হরকাতুল জিহাদ) ধরে রাখার কোনো কারণ নেই।’
হুজির সঙ্গে জড়িত মুফতি হান্নানসহ অনেকের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ আছে−এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১৯৯৮ সালেই মুফতি হান্নানকে আমরা দল থেকে বহিষ্ককার করি। বহিষ্ককারের পর কেউ যদি ওই নামে নাশকতা করে থাকে, তার দায়দায়িত্ব তাদেরই। আমাদের ওপর বর্তায় না। তবে সরকারকে ধন্যবাদ, তাদের ধরেছে। এখন তাদের বিচার চলছে।’

প্রথম আলো, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০০৮

Permalink

খালেদা মুক্ত

চোরের মা মুক্তি পেয়েছে। আর কি? বাকী চোরগুলাকেও মুক্ত করা হোক। বর্তমান গণতান্ত্রিক, দুর্নীতিবিরোধী সরকারের কাছে এটাই প্রত্যাশা। বড় চোর অপরাধ করে পার পেয়ে যায়, আর ছোট চোরেরা জেলে আটকা থাকে। এই জন্যই কি আলেকজান্ডার বলেছিলেন:- "সত্যি সেলুকাস, কি বিচিত্র এই দেশ"

ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)--জামিনে মুক্ত চিকিৎসাধীন ছেলে তারেক রহমানকে দেখতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে গেছেন সদ্য কারামুক্ত খালেদা জিয়া। দুপুর দেড়টার দিকে তিনি ডি ব্লকে
প্রবেশ করেন। ডি ব্লকের চারতলার একটি কেবিনে তারেক রহমান রয়েছেন।

এর আগে এক বছর ৭ দিন আটক থাকার পর সংসদ ভবনের বিশেষ কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ১১ টা ৩৫ এর দিকে কারাগারের বাইরে আসেন তিনি। মুক্তি পেয়েই প্রয়াত স্বামী জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করেন তিনি। জানাচ্ছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এর সুমন মাহমুদ, লিটন হায়দার, প্রদীপ চৌধুরী ও গোলাম মোর্তজা অন্তু। সর্বশেষ খবর জানার জন্য জিপি,একটেল ও বাংলা লিংক থেকে ২৩২৪ এ ফোন করুন।

মুক্তি পেয়েই একটি নিশান প্যাট্রোল জিপে করে জিয়ার
মাজারে যান খালেদা। দুপুর ১২টা ২৮ মিনিটে ফুল দিয়ে মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। এরপর তিনি মাজার জিয়ারত করেন।

এসময় তার সঙ্গে আরো ছিলেন দলের মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন , অধ্যাপিকা সারোয়ারি রহমান, এম কে আনোয়ার, নুরুল হুদা, সেলিমা রহমান, ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দীকী ও রিজভী আহমেদসহ কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সাংসদরা। এসময় খালেদা জিয়ার পরনে ছিল সুতার কাজ করা সাদা সুতির শাড়ি ও খয়েরি রংয়ের সানগ্লাস। ১২টা ৪০মিনিটে বড় ছেলে তারেককে দেখতে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালের উদ্দেশে রওয়ানা হন খালেদা।

খালেদা জিয়ার গাড়ি ঘিরে ছিল অসংখ্য উৎফুল্ল নেতাকর্মীর ভিড়। তারা ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে ও স্লোগান দিয়ে নেত্রীকে স্বাগত জানায়।

দুপুর ১২টার দিকে খালেদা জিয়া স্বামীর মাজারে প্রবেশ করেন এবং মাজার জিয়ারত করেন। এর পর তিনি মাজারে ফুল দেন। এসময় বিএনপি মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, হান্নান শাহ ও গয়েশ্বর রায়সহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে কারা উপ মহাপরিদর্শক মেজর শামসুল হায়দার ছিদ্দিকী বৃহস্পতিবার সকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, " আমি আশা করছি সকাল সাড়ে এগারোটার মধ্যে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন। জামিন সংক্রান্ত যাবতীয় কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা শেষ হয়েছে।"

খালেদা জিয়া তখন বিশেষ কারাগার থেকে বের হয়ে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানান কারা উপ মহাপরিদর্শক।

হাইকোর্ট গত মঙ্গলবার নাইকো ও গ্যাটকো
দুর্নীতি মামলায় তিন মাসের জামিন দিলে বিএনপি সভানেত্রীর মুক্তির পথ পরিষ্কার হয়।

এক বছর ৭ দিন কারাবাসের পর খালেদা জিয়া মুক্তি পেলেন।

সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান এবং মেয়ে জাইমা রহমান ফুল নিয়ে বিশেষ কারাগারের ভিতরে প্রবেশ করেন।

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার
আখতার হামিদ ও কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকির হাসান বেলা ১১টার দিকে বিশেষ কারাগারে যান।

বিশেষ কারাগার ও জিয়ার মাজারের সামনে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের প্রচুর নেতাকর্মী সকাল থেকেই ভিড় জমান। ছাত্রদল ও যুবদলের অনেক সাবেক নেতা মোটর সাইকেল শোভাযাত্রার আয়োজন করেন।

খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়ে প্রথমেই জিয়ার মাজারে যাবেন এ খবর পেয়ে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী মাজারে সমবেত হন।
মাজার এলাকায় র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়েনসহ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এদিকে খালেদার আসন্ন মুক্তির খবরে সংসদ ভবনের পেছনের রাস্তায় (লেক সড়ক) বিএনপির নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল করেন। এসময় রাস্তায় সর্বসাধারণের চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

এর আগে বিএনপির দপ্তর সম্পাদক রিজভী আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, " খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়ে প্রথমেই জিয়ার মাজারে যাবেন। এর পর পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বড় ছেলে তারেক রহমানকে দেখতে যাবেন। এছাড়া বিএনপি অফিসেও তার যাওয়ার কথা রয়েছে।"

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে গত বছরের ৩রা সেপ্টেম্বর গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর খালেদার বিরুদ্ধে আরো তিনটি দুর্নীতি মামলা দায়ের করা হয়। সবগুলো মামলাতেই তিনি পর্যায়ক্রমে জামিন পান।

বুধবার রাতে খালেদার জামিনের কাগজপত্র কারা কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছায়। সে সময় উপ কারা মহাপরিদর্শক মেজর শামসুল হায়দার ছিদ্দিকী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বৃহস্পতিবার যে কোনো সময় খালেদা মুক্তি পেতে পারেন।

খালেদার ছোট ছেলে কোকো এবং বড় ছেলে তারেক রহমান আগেই মুক্তি পেয়েছেন। গত ১৭ই জুলাই কোকোকে চিকিৎসার জন্য সাময়িকভাবে এবং ৩রা সেপ্টেম্বর তারেককে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।

এর আগে কয়েকটি মামলার আসামী আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও চিকিৎসার জন্য সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার। গত বছরের ১৬ই জুলাই গ্রেপ্তারের পর এ বছরের ১১ই জুন হাসিনাকে চিকিৎসার জন্য আট সপ্তাহের জন্য মুক্তি দেওয়া হয়। সরকার তার মুক্তির মেয়াদ আগামী ৬ই অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে। হাসিনা চিকিৎসার জন্য বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসএম/পিসি/এলএইচ/জিএমএ/এইচবি/এসকে/এফএফ/জিএনএ/১৩৩২ ঘ.

Permalink

রাজনীতিকদের পাশাপাশি শীর্ষ সন্ত্রাসীও ছাড়া পেলেন


সাকা চৌধুরী ও ওবায়দুল কাদের জামিনে মুক্ত। ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর অন্যতম লিয়াকতও বেরিয়েএলেন নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি রাজধানীর একজন শীর্ষ সন্ত্রাসীও ছাড়া পেয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল শুক্রবার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। একইভাবে শীর্ষস্থানীয় সন্ত্রাসী ও যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা লিয়াকত হোসেনও ছাড়া পেয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি কারাগার থেকে বের হন। তাঁকে ধরিয়ে দিতে সরকার এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

কারা সুত্র জানায়, গতকাল বেলা ১১টার দিকে কাশিমপুর কারাগার থেকে সাকা চৌধুরী এবং সকাল ১০টার দিকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেল থেকে ওবায়দুল কাদেরকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে মুক্তি পেয়ে তিনি বাসায় না গিয়ে হাসপাতালেই আছেন।



দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি এবার সরকারের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীদেরও জামিনে ছাড়া পাওয়ার ঘটনায় জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক−সুজনের সভাপতি ও টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদের মতে, এই সরকারের শুরুতে দুর্নীতি দমনের বিষয়ে মানুষের মনে আশার সঞ্চার হয়েছিল। এখন এসব ঘটনার কারণে তা দুরাশায় পরিণত হয়েছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, দুর্নীতিবিরোধী অভিযান এত বিস্তৃত করে সরকার ভুল করেছে। তারা যদি দুদককে অনুসরণ করে রুই-কাতলাদের টার্গেট করত, তাহলে বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে ফেলতে পারত।
এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহ্দীন মালিক বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো বিচারের পর্যায়ে নিয়ে শেষ করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে সরকার।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকার নিজেই বলেছে, খালেদা জিয়া আবেদন করলে জামিন পাবেন। অর্থাৎ সরকার বললে জামিন পাওয়া যাবে। আবার সরকার যখন বলে জামিন পাওয়া যাবে না, তখন জামিন পাওয়া যায় না। এখন যখন জামিন পাওয়ার একটা অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, সবাই এই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। মোট কথা আমরা একটা নৈরাজ্যের দিকে এগোচ্ছি।’
সাকা চৌধুরী: বর্তমান সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের প্রথম দফায় গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে তাঁর ধানমন্ডির বাসা থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুর্নীতিগ্রস্তদের তালিকায় প্রথম তালিকায় তাঁর নাম ছিল। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ ছয়টি মামলা হয়। এর মধ্যে তিনি পাঁচটি মামলায় জামিন পান। সর্বশেষ গত ২৮ আগস্ট একটি মামলায় জামিন পান।
গতকাল বেলা ১১টার দিকে কাশিমপুর কারাগারের দুই নম্বর কারাগার ভবন থেকে বের হন সাকা চৌধুরী। এ সময় কারাগারের প্রবেশমুখে তাঁর স্ত্রী-সন্তান এবং বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী উপস্িথত ছিল। কারাগার থেকে বের হয়ে তিনি ধানমন্ডির বাসায় যান।
দুপুরে সাকা চৌধুরীর ছেলে হুমাম কাদের চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, জুমার নামাজ আদায় শেষে তাঁরা সপরিবারে চট্টগ্রাম যাবেন এবং সেখানে দু-তিন দিন থেকে ঢাকায় ফিরবেন।
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে সম্পদের তথ্য গোপন করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একটি দুর্নীতি মামলা ছাড়াসহ কয়েকটি চাঁদাবাজির মামলার বিচারকাজ চলছে। অবৈধ সম্পদ অর্জনসংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় এখন সাক্ষীর জেরা শেষপর্যায়ে রয়েছে। মামলাটি হাইকোর্ট স্থগিত করায় কয়েক দফা এই আদালতে বিচারকাজ স্থবিরও হয়ে পড়ে।
মুক্তি পাওয়ার পর উপস্িথত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাকা চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যাদের জন্য রাজনীতি করি, তাদের কাছে জবাবদিহি করার দায়িত্ব আমাদের রয়েছে। তাই বলতে হয়, আজকের এ পরিস্িথতির জন্য আমরা রাজনীতিবিদেরাও খানিকটা দায়ী।’

ওবায়দুল কাদের:
আওয়ামী লীগের নেতা ওবায়দুল কাদের গতকাল দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে জামিনে ছাড়া পান। ওবায়দুল কাদেরের মুক্তির খবরে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কয়েক শ যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও যুব মহিলা লীগের নেতা-কর্মী জড়ো হয়েছিল। কিন্তু সন্ধ্যায় তারা জানতে পারে, ওবায়দুল কাদের শুক্রবার ১০টা নাগাদ মুক্তি পাবেন। এরপর গতকাল সকাল থেকে নেতা-কর্মীরা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে জড়ো হয়। হাসপাতালের নিয়ম ভেঙে কয়েক শ নেতা-কর্মী হাসপাতালের ভেতরে মিছিল করে এবং কারামুক্ত ওবায়দুল কাদেরকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়।
বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন ওবায়দুল কাদের মুক্তি পাওয়ার পর তাঁকে এই মেডিকেলেরই এ-ব্লকের তৃতীয় তলার ৩১৮ নম্বর কক্ষে নিয়ে ভর্তি করা হয়। তিনি বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থাবস্থায় এখানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
গত বছরের ৯ মার্চ রাজধানীর খিলগাঁওয়ের একটি বাসা থেকে পুলিশ ওবায়দুল কাদেরকে গ্রেপ্তার করে। সরকারের দুর্নীতিগ্রস্তদের তালিকায় তাঁরও নাম ছিল।
তাঁর বিরুদ্ধে বিশেষ জজ আদালত-৭, আদালত-৯, আদালত-১০-এ পাঁচটি দুর্নীতির মামলার বিচার চলছে। মামলাগুলো এখন সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।
মুক্তি পেয়ে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘এবারের এই কারাজীবন অন্য সময়ের মতো নয়। এবারের কারাজীবন রাজনীতিবিদদের জন্য একটি পাঠশালা। এই পাঠশালা থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। আত্মশুদ্ধি করতে পেরেছি। এই শিক্ষা আমি দেশবাসীর সেবায় উৎসর্গ করব।’
শীর্ষ সন্ত্রাসী লিয়াকত: ধরিয়ে দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর অন্যতম যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা লিয়াকত হোসেন গত বৃহস্পতিবার জামিনে মুক্তি পেয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে এসেছেন। সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর আটকাদেশ দিয়ে তাঁকে কারাগারে রাখা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর আটকাদেশের মেয়াদ আর বাড়ানো হয়নি।
কারা প্রশাসনের উপমহাপরিদর্শক মেজর সামসুল হায়দার ছিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, বৃহস্পতিবার লিয়াকত মুক্তি পেয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া আটকাদেশের মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।

পুলিশ সুত্র জানায়, ২০০৩ সালের ১ অক্টোবর পুলিশের র‌্যাপিড অ্যাকশন টিম−র‌্যাট (বিলুপ্ত) এর সদস্যরা ধানমন্ডির রাস্তা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাসহ নয়টি মামলা ও চারটি সাধারণ ডায়েরি রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন।
২০০১ সালের ২৫ ডিসেম্বর তৎকালীন সরকার ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম এবং তাদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করে। ওই তালিকায় লিয়াকতের নাম ছিল। পুরস্কার ঘোষণার পর পুলিশ লিয়াকতসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী আরমানের সঙ্গে লিয়াকতের সখ্য গড়ে ওঠে। সে সময় লিয়াকতের ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত মুরগি মিলন ও আরমান জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকার চোরাচালান নিয়ন্ত্রণের কাজ পান। তবে বরাবরই মগবাজার এলাকার চাঁদাবাজি ছিল লিয়াকতের নিয়ন্ত্রণে।
২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর লিয়াকত গা ঢাকা দেন। একপর্যায়ে তিনি ভারতে পাড়ি জমান। সেখানে একটি হোটেলে বেশ কিছু দিন কাটানোর পর কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ২০০২ সালের ১৯ নভেম্বর ভারতে ধরা পড়ার কিছু দিন পরে কলকাতার আদালত তাঁকে জামিনে মুক্তি দেন। এরপর তিনি ঢাকায় ফিরে এসে আত্মগোপন করেন। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। লিয়াকতের প্রতিদ্বন্দ্বী সন্ত্রাসীরা র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হয়।

Permalink

অবশেষে জামিনে মুক্ত তারেক

হাসপাতালের সামনে দলীয় কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত বুলু, মিলন
বিশেষ প্রতিনিধি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তবে আপাতত তিনি হাসপাতালেই থাকছেন বলে জানানো হয়েছে।
গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে চারটায় কারা উপমহাপরিদর্শক মেজর সামসুল হায়দার ছিদ্দিকী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি ব্লকে গিয়ে তারেক রহমানের কেবিন থেকে কারারক্ষী প্রত্যাহার করে নেন এবং তাঁর মুক্তি নিশ্চিত করেন।
তারেক রহমানের মুক্তির জন্য হাসপাতালের সামনে অপেক্ষায় থাকা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও মহিলা দলের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের হাতে কয়েক দফায় লাঞ্ছিত হয়েছেন সাবেক বাণিজ্য উপদেষ্টা বরকত উল্লা বুলু, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এহছানুল হক মিলন ও সংরক্ষিত আসনের সাবেক সাংসদ বিলকিস ইসলাম। সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদকেও ধাওয়া করে দলের কর্মীরা। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরেই এসব ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
বিএনপির নেতা-কর্মীদের মারধর, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও স্েলাগানের ফলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে দফায় দফায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হলেও পুলিশকে নিষ্কিত্র্নয় দেখা গেছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের আত্মীয়স্বজন এ সময় বিড়ম্বনায় পড়ে।

বিকেল পৌনে পাঁচটায় কারা উপমহাপরিদর্শক মেজর সামসুল হায়দার ছিদ্দিকী সাংবাদিকদের জানান, তারেক রহমানকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি চিকিৎসার জন্য আপাতত হাসপাতালেই থাকবেন। কারারক্ষী প্রত্যাহারের পর তারেক রহমানের নিরাপত্তার জন্য পুলিশি পাহারার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
তারেক রহমানের আইনজীবী ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিন অসীম সাংবাদিকদের বলেন, তিনি গুরুতর অসুস্থ। তাই বাড়িতে না গিয়ে চিকিৎসার জন্য আপাতত হাসপাতালেই থাকবেন। এর পর উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, মুক্তির খবর নিশ্চিত হওয়ার পর তারেক রহমান স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি হাসপাতালের কেবিন কক্ষের জানালা দিয়ে নিচে থাকা কর্মীদের উদ্দেশে হাত নাড়েন ও কবুতর উড়িয়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান।
প্রায় দেড় বছর কারাবন্দী তারেক রহমানের মুক্তির খবর জানানো হলে হাসপাতাল চত্বরে অবস্থানরত নেতা-কর্মীরা উল্লাসে ফেটে পড়ে। এ সময় মুহুর্মুহু স্েলাগান দেয় তারা−‘জেলের তালা ভাঙব, খালেদা জিয়াকে আনব’। সকাল থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেতা-কর্মীদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়।
বিএনপির মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা বিকেলেই ফুলের তোড়া নিয়ে তারেকের সঙ্গে দেখা করেন।
ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল সড়কের বাসভবন থেকে গত বছরের ৮ মার্চ তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিনই গুলশান থানায় তাঁর বিরুদ্ধে কোটি টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগে মামলা করেন ব্যবসায়ী ও বিএনপির নেতা আমিন আহমেদ ভুঁইয়া। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, কর ফাঁকি, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ ১৩টি মামলা বিচারাধীন। সব মামলায় তিনি জামিন পেয়েছেন।
গত ৩১ জানুয়ারি অসুস্থতার কারণে তারেক রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তাঁর মেরুদন্ডে ব্যথা রয়েছে। বিভিন্ন সময় তাঁর চিকিৎসকেরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন।
তারেকের বিবৃতি: গত রাতে এক বিবৃতিতে তারেক রহমান তাঁর জামিনে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানান। তিনি তাঁর মা খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং সব রাজবন্দীর মুক্তি কামনা করেন। এ ছাড়া দেশের আপামর জনসাধারণ এবং অন্য যাঁরা আল্লাহর দরবারে তাঁদের পরিবারের জন্য দোয়া করছেন, তাঁদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। তারেক রহমান তাঁর চিকিৎসক, আইনজীবী, কৃষক, কলকারখানার শ্রমিক, প্রকৌশলী, ছাত্র-শিক্ষক, সাংবাদিক, প্রতিরক্ষা বাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং অন্য সব পেশার মানুষের অকৃপণ ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
বুলু, মিলন, বিলকিস লাঞ্ছিত: তারেক রহমানের মুক্তির খবরে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে জড়ো হওয়া নেতা-কর্মীদের মধ্যে গতকাল কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। এতে এহছানুল হক মিলন, বরকত উল্লা বুলু, বিলকিস ইসলাম ছাড়াও বাড্ডার ওয়ার্ড কমিশনার পেয়ারা মোস্তফা এবং মিরপুর থানা বিএনপির নেত্রী মনিরা মোশাররফ লাঞ্ছিত হন। পরে দলের নেতা ও পুলিশের সহায়তায় এসব নেতা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন।
আগত নেতা-কর্মীরা সারাক্ষণ মিছিল, স্েলাগানে মুখর করে রাখে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। এর সঙ্গে সংস্কারপন্থী বলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনায় ভেতরে চিকিৎসাধীন অনেক রোগী, তাদের স্বজনেরা, আগত অসুস্থ রোগী, ভর্তি-ইচ্ছুক রোগী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকেরা ছাড়া অন্যরাও রীতিমতো বিপাকে পড়ে। অনেকে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করে।
বেলা পৌনে দুইটার দিকে তারেককে দেখতে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে যান সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। তিনি শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেট এবং বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের মাঝের সড়ক দিয়ে মেডিকেলের মসজিদের প্রবেশমুখ দিয়ে ঢোকেন। এ সময় বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীও তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক সাদেউল কবির নীরব বলেন, এহছানুল হক মিলন ডি ব্লকের দিকে খানিকটা এগিয়ে যেতেই ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক ও কচুয়ার অধিবাসী বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে একদল যুবক ‘ধর ধর’ বলে মিলনের দিকে এগিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গেই এদের অনুসরণ করে উপস্িথত শতাধিক ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মী। মুহুর্তে মিলন এদের রোষানলে পড়ে লাঞ্ছনার শিকার হন। বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক জুতা ও ইটপাটকেল ছুড়ে মারে।
একপর্যায়ে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও পুলিশের সদস্যরা এগিয়ে এসে মিলনকে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের রোষানল থেকে রক্ষা করে হাসপাতাল চত্বর থেকে বের করে নিয়ে যায়। ছাত্রদলের নেতা সাদেউল বলেন, মিলন ও ছাত্রদলের বেল্লাল হোসেনের বাড়ি চাঁদপুরের একই এলাকায়। সেখানকার অন্তর্কোন্দলের শিকার হয়েছেন মিলন। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে উপস্িথত সাংবাদিকদের সাদেউল বলেন, বিএনপির বদনাম করতে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
বরকত উল্লা বুলু: বিকেল চারটার দিকে অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী নিয়ে যুবদলের সভাপতি বরকত উল্লা বুলু বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে আসেন। প্রবেশমুখ থেকেই বুলুর অনুগামী নেতা-কর্মীদের মুহুর্মুহু স্েলাগানে ভরে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। একপর্যায়ে অবস্থানরত নেতা-কর্মীদের অনেকেও এই মিছিলে যোগ দেয়। কিন্তু মিছিলটি ডি ব্লকের ভবন ঘুরে আবার ফিরে আসতেই প্রতিরোধের মুখে পড়ে।
একদল নেতা-কর্মী তাঁকে দালাল বলে নানা কটুক্তি করতে থাকে। এ সময় বুলুর সমর্থকেরাও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া করে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে কিছুক্ষণ পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। একপর্যায়ে ব্যাপক রোষের মুখে পড়েন বুলু। তিনি প্রথমে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের গাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন।

Permalink

বিচার ভিক্ষা চাই না ন্যায়বিচার চাই

অ্যাডভোকেট আনিসুল হক

রায় পক্ষে না গেলেই আদালতকে কটাক্ষ করতে হবে আর পক্ষে গেলে প্রশংসা করা হবে−সেই দর্শন থেকে আমি লিখছি না। আমি যতটুকু জেনেছি, তা থেকেই রায়ের কয়েকটি অসংগতি তুলে ধরতে চাই।
আদালত তাঁর রায়ে একজনের ফাঁসি বহাল রেখেছেন এবং ছয়জনকে খালাস দিয়েছেন। আমার অভিমত, ফাঁসি বহাল রাখার জন্য আদালত অবশ্যই একজন সাক্ষীর ওপর বিশ্বাস রেখেছেন। আমার কথা হলো, একই সাক্ষীর ওপর বিশ্বাস করে একজনকে ফাঁসি দেওয়া হলো, অথচ আরেকজনের বেলায় সেই সাক্ষীকেই অবিশ্বাস করা হলো। এটা রায়ের একটি অসংগতি।
লক্ষ করেছি, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিচারিক আদালত থেকে সব বিএনপি নেতা খালাস পেয়ে গেলেন। এখন হাইকোর্টে আসার পর এ মামলার প্রায় সব আসামি খালাস পেলেন। জনগণ যদি মনে করে দলীয় বিবেচনায় রায় হয়েছে−সেটা কি অন্যায় হবে?
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে জাতীয় নেতারা যে নিহত হয়েছিলেন, সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই। আসামি ও বাদী কোনো পক্ষই এ ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেনি। আসামি খালাস পাওয়ার পর প্রশ্ন উঠতেই পারে, চার নেতাকে কারা হত্যা করল? আসলে দোষী কারা, সেটা আদালতের বিবেচনায় রাখা দরকার ছিল।
শুনেছি, মামলার ৬৪ নম্বর সাক্ষী ছিলেন তদন্তকারী কর্মকর্তা, রায়ে যাঁর সমালোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, মামলা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা হয়নি। ২১ বছর তদন্ত না হওয়ার জন্য যেসব সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় ছিল, সেসব সরকার দায়ী। ২১ বছরে এ মামলার তদন্ত কেন হলো না, সে ব্যাপার আদালত কোনো বক্তব্য রাখেননি।
২১ বছর মামলা তদন্ত না হওয়ায় অনেক সাক্ষ্য, আলামত নষ্ট হয়ে গেছে, সেটা আদালত দেখেছেন। আমি আশা করেছিলাম, আদালত হয়তো এসব বিবেচনায় আনবেন, এসব আইনের বাইরে নয়। আইনকে সমুন্নত রাখতে এসব বিষয় বিবেচনায় আসতেই পারে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি আদালত সেটা করেননি।
আমার বক্তব্য, আমরা বিচার ভিক্ষা চাই না, সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার চাই। এটা পাওয়া আমার অধিকার।
অ্যাডভোকেট আনিসুল হক: রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি

প্রথম আলো, ২৯ আগস্ট, ২০০৮

Permalink

BBC Asia-Pacific

CNN.com - Asia